বরগুনার পায়রা নদীতে গোসল করতে নেমে রাবেয়া আক্তার জুঁই (১৪) নামে নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী নিখোঁজ হয়েছে। রবিবার (১৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সদর উপজেলার লতাকাটা খেয়াঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ৯ ঘণ্টা পরও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদল, পুলিশ, নৌ পুলিশ, কোস্ট গার্ডসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।
নিখোঁজ জুঁই ঢাকার মিরপুর এলাকার মো. জনি চৌধুরীর মেয়ে। সে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রবিবার সকালে জুঁই তার মা তাসলিমা আক্তারের সঙ্গে ঢাকা থেকে বরগুনা সদর উপজেলার লতাকাটা এলাকায় নানা শানু হাওলাদারের বাড়িতে বেড়াতে আসে। সেখানে যাওয়ার পর সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আট বছর বয়সী সিয়ামের সঙ্গে লতাকাটা খেয়াঘাট এলাকায় পায়রা নদীতে গোসল করতে নামে জুঁই।
পরিবারের সদস্যরা জানান, জুঁই ভালোভাবে সাঁতার জানত না। নদীতে গোসল করার একপর্যায়ে ঢেউ ও জোয়ারের স্রোতের কারণে সে পানিতে তলিয়ে যায়। বিষয়টি বুঝতে পেরে আশপাশের লোকজন তাৎক্ষণিকভাবে নদীতে নেমে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। স্থানীয়রা খোঁজাখুঁজি করেও জুঁইকে উদ্ধার করতে পারেননি। পরে দ্রুত ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে বরগুনা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। বরগুনায় ডুবুরি দল না থাকায় পটুয়াখালী থেকে ডুবুরি দল এনে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে অভিযান চালানোর পরও এখন পর্যন্ত জুঁইয়ের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিখোঁজ স্কুলছাত্রীকে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বরগুনা ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার মো. রুহুল আমিন জানান, খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। বরগুনায় ডুবুরি দল না থাকায় পটুয়াখালী থেকে ডুবুরি দল এনে নদীতে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত নিখোঁজ জুঁইয়ের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এদিকে উদ্ধার অভিযানে ফায়ার সার্ভিসকে সহযোগিতা করছে পুলিশ। বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাচনাইন পারভেজ জানান, ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার অভিযানে পুলিশ সহায়তা করছে। পাশাপাশি তালতলী ও পাথরঘাটা নৌ পুলিশ এবং কোস্ট গার্ডের সহায়তাও নেওয়া হয়েছে। নদীতে নিখোঁজ স্কুলছাত্রীকে উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ৯ ঘণ্টা পরও জুঁইয়ের সন্ধান মেলেনি। উদ্ধারকারী দল নদীতে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। পরিবারের সদস্যরা নিখোঁজ জুঁইকে উদ্ধারের অপেক্ষায় রয়েছেন। উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার সন্ধানে কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।



























