আগামী ৩১ আগস্ট সারা দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নজরুল বর্ষ’ কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। তিনি জানান, গত ২৩ মে ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৫ মে ২০২৬ থেকে ২৫ মে ২০২৭ পর্যন্ত সময়কে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় ৩১ আগস্ট থেকে দেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা হবে।
রবিবার (১৬ আগস্ট) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে আয়োজিত এক বিভাগীয় মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব তথ্য জানান সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী। সভায় তিনি নজরুলের সাহিত্য, সংগীত ও সাংস্কৃতিক অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে আরও ব্যাপকভাবে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি। বাংলা সাহিত্য, সংগীত ও সংস্কৃতিতে তার অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নজরুলের বিশাল সৃষ্টিকর্মের অনেক কিছু নানা কারণে এখনো যথাযথভাবে সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরা সম্ভব হয়নি। ‘নজরুল বর্ষ’র মাধ্যমে তার সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে নতুন করে মানুষের কাছে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
‘নজরুল বর্ষ’র অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো জাতীয় কবির সৃষ্টিকর্ম তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের নজরুলের কবিতা, গান, নাটক ও নৃত্যের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত করার মাধ্যমে তার সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ে প্রাথমিক, কারিগরি ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে চারটি বিষয়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। এসব প্রতিযোগিতার বিষয় থাকবে সংগীত, কবিতা, নাটক ও নৃত্য। প্রতিযোগিতা শুধু জাতীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যায় থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে উপজেলা, জেলা, বিভাগ এবং জাতীয় পর্যায়ে আয়োজন করা হবে।
প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিযোগীদের নির্বাচনের ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিযোগিতা যেন সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলকভাবে অনুষ্ঠিত হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তাদের মনিটরিং করার আহ্বান জানিয়েছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী।
এর ফলে ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে নজরুলের গান, কবিতা, নাটক ও নৃত্যচর্চার সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে জাতীয় কবির সৃষ্টিকর্ম সম্পর্কে তরুণ প্রজন্মের আগ্রহ বাড়ানো এবং তার সাহিত্য-সংস্কৃতির সঙ্গে নতুন প্রজন্মের যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

























