রামিসা হত্যাকাণ্ডে আসামি সোহেলের অপকর্ম নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা চলছে। রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছর বয়সী শিক্ষার্থী রামিসা আক্তার হত্যা মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ঘিরে একের পর এক তথ্য সামনে আসছে। স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য অনুযায়ী, তার অতীত জীবন নিয়ে নানা অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই ছিল। তবে মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন হওয়ায় অভিযোগগুলো আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত নয়।
স্থানীয়দের দাবি, সোহেল রানা নাটোরের সিংড়া উপজেলার মহেশচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা। প্রায় তিন বছর আগে তিনি গ্রাম ছেড়ে ঢাকায় চলে আসেন। গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি আগে রিকশা মেরামতের কাজ করতেন। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে চুরি, জুয়া ও মাদকাসক্তির অভিযোগও স্থানীয়ভাবে প্রচলিত ছিল বলে জানা গেছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে থানায় কোনো লিখিত মামলা রয়েছে কিনা, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
পরিবারের সদস্যদের তথ্য অনুযায়ী, সোহেলের প্রথম সংসারে একটি সন্তান রয়েছে। পারিবারিক বিরোধের জেরে সেই সম্পর্ক ভেঙে যায় বলে জানা গেছে। এরপর ধীরে ধীরে পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে তার। সোহেলের ছোট বোন জলি বেগম স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, প্রায় তিন বছর আগে তিনি পরিবার থেকে আলাদা হয়ে যান এবং এরপর থেকে তার সঙ্গে পরিবারের আর কোনো যোগাযোগ ছিল না। রামিসা হত্যাকাণ্ডের খবর তারা সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমেই জানতে পারেন বলে পরিবার দাবি করেছে।
রামিসা হত্যাকাণ্ডে আসামি সোহেলের অপকর্ম নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে। পরিবারের দাবি, গ্রাম ছাড়ার পর তিনি ঢাকায় গিয়ে নতুন পরিচয়ে বসবাস শুরু করেন এবং নিজের পরিচয় গোপন রাখার চেষ্টা করেন। এদিকে সংশ্লিষ্ট থানার কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, থানার রেকর্ড অনুযায়ী সোহেল রানার বিরুদ্ধে আগে কোনো মামলা বা লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়ভাবে কোনো অভিযোগ বা সালিশ হয়ে থাকলেও তার সরকারি নথি নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।
গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবী এলাকায় দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে হত্যার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি উঠেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মামলার বিভিন্ন দিক গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রামিসা হত্যাকাণ্ডে আসামি সোহেলের অপকর্ম নিয়ে মানুষের আগ্রহ বাড়লেও আইনগতভাবে মামলাটি এখনো তদন্তাধীন। তাই তদন্ত শেষ হওয়ার আগে অভিযোগগুলোকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে না দেখার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। আদালতের রায় এবং তদন্তের অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে বলে জানা গেছে।






















