ঢাকা ১০:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এআই দৌড়ে এগিয়ে যাচ্ছে চীন? নতুন সতর্কবার্তা যুক্তরাষ্ট্রের

ডেটা ব্যবহারে চীনের অগ্রগতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সতর্কবার্তা।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় চীন যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে যেতে পারে—এমন সতর্কবার্তা দিয়েছে মার্কিন কংগ্রেসের একটি উপদেষ্টা সংস্থা। ইউএস-চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড সিকিউরিটি রিভিউ কমিশনের নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিপুল পরিমাণ ডেটা সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে চীন যে কৌশল নিয়েছে, তা দেশটিকে ভবিষ্যতের এআই প্রতিযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা দিতে পারে।

মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংস্থাটি বলেছে, চীন ডেটাকে শুধু ব্যবসায়িক সম্পদ হিসেবে দেখছে না; বরং এটিকে জাতীয় সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে অর্থনীতি, প্রযুক্তি, উৎপাদনশীলতা, গোয়েন্দা কার্যক্রম এবং সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ব্যবহার করছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এআই প্রযুক্তি উন্নয়নের জন্য বিপুল পরিমাণ উচ্চমানের ডেটা প্রয়োজন। বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ইন্টারনেটে উন্মুক্ত থাকা বিপুল তথ্য ইতোমধ্যে ব্যবহার করেছে। ফলে ভবিষ্যতে আরও উন্নত এআই মডেল তৈরির ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের বাইরের বাস্তব জীবনের ডেটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

এই জায়গাতেই চীন এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে বলে মনে করছে মার্কিন উপদেষ্টা সংস্থাটি। দেশটি কারখানা, পরিবহন ব্যবস্থা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, শিল্প উৎপাদন এবং বিভিন্ন বাস্তব কার্যক্রম থেকে বিপুল পরিমাণ ডেটা সংগ্রহ করছে। এসব তথ্যকে শ্রেণিবদ্ধ করে এআই ব্যবস্থার প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন প্রযুক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

বিশেষ করে বাস্তব পরিবেশে কাজ করতে পারে এমন এআই প্রযুক্তির জন্য এ ধরনের ডেটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বয়ংচালিত গাড়ি, শিল্পকারখানার রোবট, ডেলিভারি সিস্টেম এবং হিউম্যানয়েড রোবটের মতো প্রযুক্তি উন্নয়নে বাস্তব পরিবেশের তথ্য এআইকে আরও কার্যকরভাবে প্রশিক্ষিত করতে পারে।

এআই প্রতিযোগিতার সঙ্গে রোবট প্রযুক্তির সম্পর্কও দিন দিন বাড়ছে। একটি রোবটকে মানুষের মতো পরিবেশ বুঝতে, বস্তু শনাক্ত করতে, সিদ্ধান্ত নিতে এবং নির্দিষ্ট কাজ সম্পন্ন করতে বিপুল পরিমাণ বাস্তব ডেটার প্রয়োজন হয়।

চীনের বিশাল উৎপাদন খাত এবং শিল্প রোবট ব্যবহারের কারণে দেশটির কাছে এই ধরনের ডেটার বড় ভাণ্ডার তৈরি হয়েছে। কারখানায় রোবট কীভাবে কাজ করছে, কোন পরিস্থিতিতে কী ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে এবং উৎপাদন প্রক্রিয়ায় কোন সমস্যাগুলো দেখা দিচ্ছে—এসব তথ্য ভবিষ্যতের এআই ও রোবট সফটওয়্যার উন্নয়নে ব্যবহার করা যেতে পারে।

মার্কিন কমিশনের আশঙ্কা, এই সুবিধা শুধু বাণিজ্যিক রোবট তৈরিতেই নয়, সামরিক প্রযুক্তিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ একই ধরনের এআই ও রোবট প্রযুক্তি শিল্প উৎপাদনের পাশাপাশি নজরদারি, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা এবং সামরিক কার্যক্রমেও ব্যবহারযোগ্য।

চীন বিশ্বের অন্যতম বড় উৎপাদনকেন্দ্র হওয়ায় দেশটির কাছে বাস্তব শিল্প কার্যক্রমের বিপুল ডেটা রয়েছে। উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গে ডিজিটাল প্রযুক্তির সংযোগ বাড়ানোর ফলে এসব তথ্য দ্রুত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা সম্ভব হচ্ছে।

প্রতিবেদনটি ইঙ্গিত করছে, শুধু শক্তিশালী এআই মডেল তৈরি করাই ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতায় জয়ী হওয়ার একমাত্র শর্ত নয়। কোন দেশের কাছে কত বেশি এবং কত মানসম্মত বাস্তব ডেটা রয়েছে, সেটিও বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

এ কারণে চীনের উৎপাদন খাত, পরিবহন ব্যবস্থা এবং শিল্প রোবট ব্যবহারের বিস্তার দেশটির জন্য দীর্ঘমেয়াদি প্রযুক্তিগত সুবিধা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছে মার্কিন সংস্থাটি।

চীনের ডেটা ব্যবস্থাপনা নীতির কারণে দেশটিতে ব্যবসা করা বিদেশি কোম্পানিগুলোর জন্যও নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন সীমান্তের বাইরে ডেটা স্থানান্তর ও সাইবার নিরাপত্তার বিষয়ে কঠোর নিয়ম চালু করেছে।

ফলে চীনে কার্যক্রম পরিচালনা করা বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় গ্রাহকদের তথ্য আলাদাভাবে সংরক্ষণ এবং নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ডেটা ব্যবস্থাপনা করতে হচ্ছে।

মার্কিন উপদেষ্টা সংস্থার মতে, এসব আইন ও বিধিনিষেধ যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর জন্য বাড়তি ব্যয় ও নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠান বড় পরিমাণে গ্রাহক বা ব্যবসায়িক ডেটা নিয়ে কাজ করে, তাদের চীনের স্থানীয় নিয়ম মেনে চলার পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিতে হচ্ছে।

বিশ্বের দুই বৃহৎ অর্থনৈতিক শক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে এআই প্রযুক্তি নিয়ে প্রতিযোগিতা ইতোমধ্যে তীব্র হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো উন্নত এআই মডেল, চিপ ও সফটওয়্যার তৈরিতে বড় বিনিয়োগ করছে। অন্যদিকে চীনও নিজস্ব এআই মডেল, ডেটা অবকাঠামো, রোবট এবং শিল্প প্রযুক্তিতে দ্রুত সক্ষমতা বাড়াচ্ছে।

নতুন মার্কিন প্রতিবেদনের মূল সতর্কবার্তা হলো—শুধু বর্তমান এআই মডেলের সক্ষমতা দিয়ে ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতা বিচার করলে পরিস্থিতির পুরো চিত্র পাওয়া যাবে না। ডেটা সংগ্রহ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে চীনের দীর্ঘমেয়াদি কৌশল ভবিষ্যতে দেশটির এআই সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

তবে চীন শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে যাবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত নয়। এআই উন্নয়নে কম্পিউটিং সক্ষমতা, উন্নত চিপ, গবেষণা, প্রতিভাবান কর্মী, সফটওয়্যার এবং বিনিয়োগসহ অনেকগুলো বিষয় একসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু মার্কিন কংগ্রেসের উপদেষ্টা সংস্থার এই প্রতিবেদন দেখাচ্ছে, ডেটা এখন যুক্তরাষ্ট্র-চীন এআই প্রতিযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সম্পদে পরিণত হয়েছে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় চীনের সবচেয়ে বড় সম্ভাব্য শক্তি হয়ে উঠছে ডেটা। ১৮ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত ইউএস-চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড সিকিউরিটি রিভিউ কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন ডেটাকে জাতীয় সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে তা পরিকল্পিতভাবে সংগ্রহ, শ্রেণিবিন্যাস ও ব্যবহার করছে। এর ফলে এআই, রোবটিক্স এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিতে দেশটি কৌশলগত সুবিধা তৈরি করতে পারে।

প্রতিবেদনটির গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, চীনের সুবিধা শুধু ইন্টারনেট থেকে পাওয়া তথ্যের পরিমাণে নয়। দেশটি শিল্পকারখানা, উৎপাদন ব্যবস্থা, পরিবহন, ব্যবসা এবং অন্যান্য বাস্তব কার্যক্রম থেকে বিপুল পরিমাণ রিয়েল-ওয়ার্ল্ড ডেটা সংগ্রহ করছে। এই তথ্য বিশেষ করে এমন এআই তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ, যেগুলো বাস্তব জগতে মানুষের মতো কাজ করতে পারে।

এআই মডেলকে যত বেশি বৈচিত্র্যময় ও নির্ভুল তথ্য দিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়, সেটি বাস্তব পরিস্থিতি বুঝতে তত বেশি সক্ষম হতে পারে। ইন্টারনেটের সাধারণ তথ্যের পাশাপাশি কারখানায় মেশিনের কার্যক্রম, যানবাহনের চলাচল, উৎপাদন প্রক্রিয়া, রোবটের কাজ এবং বিভিন্ন শিল্প ব্যবস্থার তথ্য এআইকে বাস্তব পরিবেশ সম্পর্কে প্রশিক্ষিত করতে পারে।

মার্চ ২০২৬-এর আরেকটি ইউএস-চায়না কমিশন গবেষণাতেও বলা হয়েছিল, চীনের উৎপাদনশিল্পে এআই ও রোবটের ব্যাপক ব্যবহার এমন একটি চক্র তৈরি করছে, যেখানে কারখানা ও রোবট এআই ব্যবহারের মাধ্যমে আরও ডেটা তৈরি করছে এবং সেই ডেটা আবার এআই মডেল উন্নত করতে ব্যবহার করা হচ্ছে।

অর্থাৎ, এআই → শিল্পে ব্যবহার → নতুন ডেটা → আরও উন্নত এআই—এ ধরনের একটি ধারাবাহিক ব্যবস্থা চীনের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে পারে।

চীনের উৎপাদন খাত বিশাল হওয়ায় শিল্প রোবট ব্যবহারের সুযোগও ব্যাপক। রোবট কারখানায় কীভাবে কাজ করছে, কোন পরিস্থিতিতে কী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে এবং কোথায় ভুল করছে—এসব তথ্য সংগ্রহ করে ভবিষ্যতের সফটওয়্যার ও এআই সিস্টেম উন্নত করা সম্ভব।

বিশেষ করে embodied AI বা বাস্তব পরিবেশে কাজ করতে সক্ষম এআইয়ের ক্ষেত্রে এই ডেটা গুরুত্বপূর্ণ। স্বয়ংচালিত গাড়ি, শিল্প রোবট এবং হিউম্যানয়েড রোবটকে শুধু ভাষা বা ছবি বোঝালেই হয় না; তাদের বাস্তব জগতের বস্তু, স্থান, গতি এবং মানুষের আচরণ সম্পর্কেও শিখতে হয়।

মার্কিন কমিশনের মতে, চীনের শিল্পভিত্তিক ডেটা সংগ্রহের এই সুবিধা বাণিজ্যিক প্রযুক্তির পাশাপাশি সামরিক ক্ষেত্রেও কাজে লাগতে পারে।

প্রতিবেদনে চীনের ডেটা নীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৩ সালে National Data Administration প্রতিষ্ঠার পর দেশটি ডেটার বাণিজ্যিক ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি আঞ্চলিক ডেটা এক্সচেঞ্জ তৈরি করেছে। এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের মানসম্মত ডেটাসেটকে ব্যবহারের উপযোগী করার চেষ্টা চলছে।

এর ফলে ডেটা শুধু কোনো একটি কোম্পানির অভ্যন্তরীণ সম্পদ না থেকে বৃহত্তর অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার অংশ হয়ে উঠতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে উন্নত এআই মডেল, চিপ এবং কম্পিউটিং সক্ষমতার ক্ষেত্রে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। তবে মার্কিন কমিশনের আশঙ্কা, ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতায় শুধু উন্নত চিপ বা বড় এআই মডেল যথেষ্ট নাও হতে পারে।

বিশেষ করে চীনের শিল্পভিত্তিক ডেটা তৈরির সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আলাদা চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। কমিশনের মার্চের গবেষণায় বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের চিপ রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ মূলত এআইয়ের ডিজিটাল দিক—অর্থাৎ উন্নত হার্ডওয়্যার ও কম্পিউটিং—নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। কিন্তু চীনের কারখানা, লজিস্টিকস ও রোবট ব্যবহারের মাধ্যমে তৈরি হওয়া বাস্তব ডেটার প্রবাহ বন্ধ করা অনেক কঠিন।

চীনের কঠোর ডেটা ও সাইবার নিরাপত্তা আইন বিদেশি কোম্পানিগুলোর জন্যও নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। দেশটিতে ব্যবসা করা কিছু বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে স্থানীয় গ্রাহকদের তথ্য চীনের ভেতরে সংরক্ষণ করতে এবং সীমান্তের বাইরে ডেটা পাঠানোর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম মানতে হচ্ছে।

মার্কিন কমিশনের মতে, এসব বিধিনিষেধ যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর জন্য পরিচালন ব্যয় ও সাইবার নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে চীনের নিজস্ব প্রতিষ্ঠানগুলো ডেটা ব্যবহারে তুলনামূলকভাবে সুবিধা পেতে পারে।

এখনই এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। মার্কিন কমিশনের প্রতিবেদনটি মূলত ভবিষ্যৎ কৌশলগত ঝুঁকি ও সম্ভাব্য সুবিধা সম্পর্কে সতর্ক করেছে। চীন এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে—এমন দাবি করা হয়েছে, কিন্তু চীন ইতোমধ্যে সব দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে গেছে, এমন কথা প্রতিবেদনের অর্থ নয়।

এআই নেতৃত্ব নির্ধারণে উন্নত চিপ, কম্পিউটিং শক্তি, গবেষণা, দক্ষ জনবল, বিনিয়োগ, সফটওয়্যার, ডেটা এবং শিল্পে প্রযুক্তি প্রয়োগ—সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ। চীনের বড় সুবিধা হলো তার বিশাল উৎপাদনভিত্তি ও বাস্তব পরিবেশ থেকে ডেটা সংগ্রহের সুযোগ। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বড় শক্তি উন্নত এআই গবেষণা, প্রযুক্তি কোম্পানি ও কম্পিউটিং অবকাঠামো।

তাই বর্তমান পরিস্থিতিকে চীন বনাম যুক্তরাষ্ট্রের এআই দৌড়ে একটি নতুন পর্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে—যেখানে ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতায় শুধু কে ভালো এআই মডেল বানাতে পারে তা নয়, কার কাছে বেশি মানসম্মত বাস্তব ডেটা থাকবে এবং কে সেই ডেটা দ্রুত প্রযুক্তিতে রূপ দিতে পারবে, সেটিও বড় নির্ধারক হয়ে উঠতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

এআই দৌড়ে এগিয়ে যাচ্ছে চীন? নতুন সতর্কবার্তা যুক্তরাষ্ট্রের

Update Time : ০৯:১৯:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় চীন যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে যেতে পারে—এমন সতর্কবার্তা দিয়েছে মার্কিন কংগ্রেসের একটি উপদেষ্টা সংস্থা। ইউএস-চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড সিকিউরিটি রিভিউ কমিশনের নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিপুল পরিমাণ ডেটা সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে চীন যে কৌশল নিয়েছে, তা দেশটিকে ভবিষ্যতের এআই প্রতিযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা দিতে পারে।

মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংস্থাটি বলেছে, চীন ডেটাকে শুধু ব্যবসায়িক সম্পদ হিসেবে দেখছে না; বরং এটিকে জাতীয় সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে অর্থনীতি, প্রযুক্তি, উৎপাদনশীলতা, গোয়েন্দা কার্যক্রম এবং সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ব্যবহার করছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এআই প্রযুক্তি উন্নয়নের জন্য বিপুল পরিমাণ উচ্চমানের ডেটা প্রয়োজন। বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ইন্টারনেটে উন্মুক্ত থাকা বিপুল তথ্য ইতোমধ্যে ব্যবহার করেছে। ফলে ভবিষ্যতে আরও উন্নত এআই মডেল তৈরির ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের বাইরের বাস্তব জীবনের ডেটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

এই জায়গাতেই চীন এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে বলে মনে করছে মার্কিন উপদেষ্টা সংস্থাটি। দেশটি কারখানা, পরিবহন ব্যবস্থা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, শিল্প উৎপাদন এবং বিভিন্ন বাস্তব কার্যক্রম থেকে বিপুল পরিমাণ ডেটা সংগ্রহ করছে। এসব তথ্যকে শ্রেণিবদ্ধ করে এআই ব্যবস্থার প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন প্রযুক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

বিশেষ করে বাস্তব পরিবেশে কাজ করতে পারে এমন এআই প্রযুক্তির জন্য এ ধরনের ডেটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বয়ংচালিত গাড়ি, শিল্পকারখানার রোবট, ডেলিভারি সিস্টেম এবং হিউম্যানয়েড রোবটের মতো প্রযুক্তি উন্নয়নে বাস্তব পরিবেশের তথ্য এআইকে আরও কার্যকরভাবে প্রশিক্ষিত করতে পারে।

এআই প্রতিযোগিতার সঙ্গে রোবট প্রযুক্তির সম্পর্কও দিন দিন বাড়ছে। একটি রোবটকে মানুষের মতো পরিবেশ বুঝতে, বস্তু শনাক্ত করতে, সিদ্ধান্ত নিতে এবং নির্দিষ্ট কাজ সম্পন্ন করতে বিপুল পরিমাণ বাস্তব ডেটার প্রয়োজন হয়।

চীনের বিশাল উৎপাদন খাত এবং শিল্প রোবট ব্যবহারের কারণে দেশটির কাছে এই ধরনের ডেটার বড় ভাণ্ডার তৈরি হয়েছে। কারখানায় রোবট কীভাবে কাজ করছে, কোন পরিস্থিতিতে কী ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে এবং উৎপাদন প্রক্রিয়ায় কোন সমস্যাগুলো দেখা দিচ্ছে—এসব তথ্য ভবিষ্যতের এআই ও রোবট সফটওয়্যার উন্নয়নে ব্যবহার করা যেতে পারে।

মার্কিন কমিশনের আশঙ্কা, এই সুবিধা শুধু বাণিজ্যিক রোবট তৈরিতেই নয়, সামরিক প্রযুক্তিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ একই ধরনের এআই ও রোবট প্রযুক্তি শিল্প উৎপাদনের পাশাপাশি নজরদারি, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা এবং সামরিক কার্যক্রমেও ব্যবহারযোগ্য।

চীন বিশ্বের অন্যতম বড় উৎপাদনকেন্দ্র হওয়ায় দেশটির কাছে বাস্তব শিল্প কার্যক্রমের বিপুল ডেটা রয়েছে। উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গে ডিজিটাল প্রযুক্তির সংযোগ বাড়ানোর ফলে এসব তথ্য দ্রুত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা সম্ভব হচ্ছে।

প্রতিবেদনটি ইঙ্গিত করছে, শুধু শক্তিশালী এআই মডেল তৈরি করাই ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতায় জয়ী হওয়ার একমাত্র শর্ত নয়। কোন দেশের কাছে কত বেশি এবং কত মানসম্মত বাস্তব ডেটা রয়েছে, সেটিও বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

এ কারণে চীনের উৎপাদন খাত, পরিবহন ব্যবস্থা এবং শিল্প রোবট ব্যবহারের বিস্তার দেশটির জন্য দীর্ঘমেয়াদি প্রযুক্তিগত সুবিধা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছে মার্কিন সংস্থাটি।

চীনের ডেটা ব্যবস্থাপনা নীতির কারণে দেশটিতে ব্যবসা করা বিদেশি কোম্পানিগুলোর জন্যও নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন সীমান্তের বাইরে ডেটা স্থানান্তর ও সাইবার নিরাপত্তার বিষয়ে কঠোর নিয়ম চালু করেছে।

ফলে চীনে কার্যক্রম পরিচালনা করা বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় গ্রাহকদের তথ্য আলাদাভাবে সংরক্ষণ এবং নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ডেটা ব্যবস্থাপনা করতে হচ্ছে।

মার্কিন উপদেষ্টা সংস্থার মতে, এসব আইন ও বিধিনিষেধ যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর জন্য বাড়তি ব্যয় ও নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠান বড় পরিমাণে গ্রাহক বা ব্যবসায়িক ডেটা নিয়ে কাজ করে, তাদের চীনের স্থানীয় নিয়ম মেনে চলার পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিতে হচ্ছে।

বিশ্বের দুই বৃহৎ অর্থনৈতিক শক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে এআই প্রযুক্তি নিয়ে প্রতিযোগিতা ইতোমধ্যে তীব্র হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো উন্নত এআই মডেল, চিপ ও সফটওয়্যার তৈরিতে বড় বিনিয়োগ করছে। অন্যদিকে চীনও নিজস্ব এআই মডেল, ডেটা অবকাঠামো, রোবট এবং শিল্প প্রযুক্তিতে দ্রুত সক্ষমতা বাড়াচ্ছে।

নতুন মার্কিন প্রতিবেদনের মূল সতর্কবার্তা হলো—শুধু বর্তমান এআই মডেলের সক্ষমতা দিয়ে ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতা বিচার করলে পরিস্থিতির পুরো চিত্র পাওয়া যাবে না। ডেটা সংগ্রহ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে চীনের দীর্ঘমেয়াদি কৌশল ভবিষ্যতে দেশটির এআই সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

তবে চীন শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে যাবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত নয়। এআই উন্নয়নে কম্পিউটিং সক্ষমতা, উন্নত চিপ, গবেষণা, প্রতিভাবান কর্মী, সফটওয়্যার এবং বিনিয়োগসহ অনেকগুলো বিষয় একসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু মার্কিন কংগ্রেসের উপদেষ্টা সংস্থার এই প্রতিবেদন দেখাচ্ছে, ডেটা এখন যুক্তরাষ্ট্র-চীন এআই প্রতিযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সম্পদে পরিণত হয়েছে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় চীনের সবচেয়ে বড় সম্ভাব্য শক্তি হয়ে উঠছে ডেটা। ১৮ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত ইউএস-চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড সিকিউরিটি রিভিউ কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন ডেটাকে জাতীয় সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে তা পরিকল্পিতভাবে সংগ্রহ, শ্রেণিবিন্যাস ও ব্যবহার করছে। এর ফলে এআই, রোবটিক্স এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিতে দেশটি কৌশলগত সুবিধা তৈরি করতে পারে।

প্রতিবেদনটির গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, চীনের সুবিধা শুধু ইন্টারনেট থেকে পাওয়া তথ্যের পরিমাণে নয়। দেশটি শিল্পকারখানা, উৎপাদন ব্যবস্থা, পরিবহন, ব্যবসা এবং অন্যান্য বাস্তব কার্যক্রম থেকে বিপুল পরিমাণ রিয়েল-ওয়ার্ল্ড ডেটা সংগ্রহ করছে। এই তথ্য বিশেষ করে এমন এআই তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ, যেগুলো বাস্তব জগতে মানুষের মতো কাজ করতে পারে।

এআই মডেলকে যত বেশি বৈচিত্র্যময় ও নির্ভুল তথ্য দিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়, সেটি বাস্তব পরিস্থিতি বুঝতে তত বেশি সক্ষম হতে পারে। ইন্টারনেটের সাধারণ তথ্যের পাশাপাশি কারখানায় মেশিনের কার্যক্রম, যানবাহনের চলাচল, উৎপাদন প্রক্রিয়া, রোবটের কাজ এবং বিভিন্ন শিল্প ব্যবস্থার তথ্য এআইকে বাস্তব পরিবেশ সম্পর্কে প্রশিক্ষিত করতে পারে।

মার্চ ২০২৬-এর আরেকটি ইউএস-চায়না কমিশন গবেষণাতেও বলা হয়েছিল, চীনের উৎপাদনশিল্পে এআই ও রোবটের ব্যাপক ব্যবহার এমন একটি চক্র তৈরি করছে, যেখানে কারখানা ও রোবট এআই ব্যবহারের মাধ্যমে আরও ডেটা তৈরি করছে এবং সেই ডেটা আবার এআই মডেল উন্নত করতে ব্যবহার করা হচ্ছে।

অর্থাৎ, এআই → শিল্পে ব্যবহার → নতুন ডেটা → আরও উন্নত এআই—এ ধরনের একটি ধারাবাহিক ব্যবস্থা চীনের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে পারে।

চীনের উৎপাদন খাত বিশাল হওয়ায় শিল্প রোবট ব্যবহারের সুযোগও ব্যাপক। রোবট কারখানায় কীভাবে কাজ করছে, কোন পরিস্থিতিতে কী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে এবং কোথায় ভুল করছে—এসব তথ্য সংগ্রহ করে ভবিষ্যতের সফটওয়্যার ও এআই সিস্টেম উন্নত করা সম্ভব।

বিশেষ করে embodied AI বা বাস্তব পরিবেশে কাজ করতে সক্ষম এআইয়ের ক্ষেত্রে এই ডেটা গুরুত্বপূর্ণ। স্বয়ংচালিত গাড়ি, শিল্প রোবট এবং হিউম্যানয়েড রোবটকে শুধু ভাষা বা ছবি বোঝালেই হয় না; তাদের বাস্তব জগতের বস্তু, স্থান, গতি এবং মানুষের আচরণ সম্পর্কেও শিখতে হয়।

মার্কিন কমিশনের মতে, চীনের শিল্পভিত্তিক ডেটা সংগ্রহের এই সুবিধা বাণিজ্যিক প্রযুক্তির পাশাপাশি সামরিক ক্ষেত্রেও কাজে লাগতে পারে।

প্রতিবেদনে চীনের ডেটা নীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৩ সালে National Data Administration প্রতিষ্ঠার পর দেশটি ডেটার বাণিজ্যিক ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি আঞ্চলিক ডেটা এক্সচেঞ্জ তৈরি করেছে। এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের মানসম্মত ডেটাসেটকে ব্যবহারের উপযোগী করার চেষ্টা চলছে।

এর ফলে ডেটা শুধু কোনো একটি কোম্পানির অভ্যন্তরীণ সম্পদ না থেকে বৃহত্তর অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার অংশ হয়ে উঠতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে উন্নত এআই মডেল, চিপ এবং কম্পিউটিং সক্ষমতার ক্ষেত্রে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। তবে মার্কিন কমিশনের আশঙ্কা, ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতায় শুধু উন্নত চিপ বা বড় এআই মডেল যথেষ্ট নাও হতে পারে।

বিশেষ করে চীনের শিল্পভিত্তিক ডেটা তৈরির সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আলাদা চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। কমিশনের মার্চের গবেষণায় বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের চিপ রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ মূলত এআইয়ের ডিজিটাল দিক—অর্থাৎ উন্নত হার্ডওয়্যার ও কম্পিউটিং—নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। কিন্তু চীনের কারখানা, লজিস্টিকস ও রোবট ব্যবহারের মাধ্যমে তৈরি হওয়া বাস্তব ডেটার প্রবাহ বন্ধ করা অনেক কঠিন।

চীনের কঠোর ডেটা ও সাইবার নিরাপত্তা আইন বিদেশি কোম্পানিগুলোর জন্যও নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। দেশটিতে ব্যবসা করা কিছু বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে স্থানীয় গ্রাহকদের তথ্য চীনের ভেতরে সংরক্ষণ করতে এবং সীমান্তের বাইরে ডেটা পাঠানোর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম মানতে হচ্ছে।

মার্কিন কমিশনের মতে, এসব বিধিনিষেধ যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর জন্য পরিচালন ব্যয় ও সাইবার নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে চীনের নিজস্ব প্রতিষ্ঠানগুলো ডেটা ব্যবহারে তুলনামূলকভাবে সুবিধা পেতে পারে।

এখনই এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। মার্কিন কমিশনের প্রতিবেদনটি মূলত ভবিষ্যৎ কৌশলগত ঝুঁকি ও সম্ভাব্য সুবিধা সম্পর্কে সতর্ক করেছে। চীন এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে—এমন দাবি করা হয়েছে, কিন্তু চীন ইতোমধ্যে সব দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে গেছে, এমন কথা প্রতিবেদনের অর্থ নয়।

এআই নেতৃত্ব নির্ধারণে উন্নত চিপ, কম্পিউটিং শক্তি, গবেষণা, দক্ষ জনবল, বিনিয়োগ, সফটওয়্যার, ডেটা এবং শিল্পে প্রযুক্তি প্রয়োগ—সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ। চীনের বড় সুবিধা হলো তার বিশাল উৎপাদনভিত্তি ও বাস্তব পরিবেশ থেকে ডেটা সংগ্রহের সুযোগ। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বড় শক্তি উন্নত এআই গবেষণা, প্রযুক্তি কোম্পানি ও কম্পিউটিং অবকাঠামো।

তাই বর্তমান পরিস্থিতিকে চীন বনাম যুক্তরাষ্ট্রের এআই দৌড়ে একটি নতুন পর্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে—যেখানে ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতায় শুধু কে ভালো এআই মডেল বানাতে পারে তা নয়, কার কাছে বেশি মানসম্মত বাস্তব ডেটা থাকবে এবং কে সেই ডেটা দ্রুত প্রযুক্তিতে রূপ দিতে পারবে, সেটিও বড় নির্ধারক হয়ে উঠতে পারে।