এইচএসসি পরীক্ষা আজ (বৃহস্পতিবার) থেকে সারা দেশে একযোগে শুরু হচ্ছে। উচ্চমাধ্যমিক ও সমমানের এই পরীক্ষায় এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
এবারের পরীক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো, ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে একই দিনে একই বিষয়ের অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রশ্নপত্রের মান ও মূল্যায়নে সমতা নিশ্চিত হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা। সারা দেশের ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেবে।
পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা জোরদারে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। এই সেল থেকে দেশের যেকোনো কেন্দ্রের পরীক্ষা কার্যক্রম সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা যাবে। এছাড়া দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে পরীক্ষা চলাকালে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা যায়।
মোট ৭৭টি বিষয়ে ২১ দিনব্যাপী এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। যেসব দিনে পরীক্ষা থাকবে না, সেসব দিনে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম চালু থাকবে। অন্যদিকে, সেভেন্থ ডে এডভান্টিস্ট সম্প্রদায়ের পরীক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য শনিবারের পরীক্ষাগুলো সূর্যাস্তের পর বিশেষ ব্যবস্থায় নেওয়া হবে।
শিক্ষা বোর্ডগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী রয়েছে ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন। এর মধ্যে ছাত্রী ৫ লাখ ৭৭ হাজার ৩০৮ জন এবং ছাত্র ৪ লাখ ৯২ হাজার ৪০৬ জন। গত বছরের তুলনায় সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী বেড়েছে ১৪ হাজার ৩১৬ জন।
অন্যদিকে, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ৯২ হাজার ৯০৫ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্র ৫২ হাজার ১১ জন এবং ছাত্রী ৪০ হাজার ৮৯৪ জন। গত বছরের তুলনায় এই বোর্ডে পরীক্ষার্থী বেড়েছে ৬ হাজার ৮০৩ জন।
এদিকে, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে ৭৭ হাজার ৫৫২ জন ছাত্র এবং ৩০ হাজার ৪১২ জন ছাত্রী। তবে গত বছরের তুলনায় কারিগরি বোর্ডে পরীক্ষার্থী ১ হাজার ৬৪৭ জন কমেছে।
এবারের পরীক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নিবন্ধিত শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেনি। তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ৩৩.০৪ শতাংশ, মাদ্রাসা বোর্ডে ৪৪.০৭ শতাংশ এবং কারিগরি বোর্ডে ৫৪.৫৮ শতাংশ নিবন্ধিত শিক্ষার্থী এবার পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরীক্ষায় ভালো ফলের জন্য শেষ মুহূর্তে নতুন কিছু পড়ার চেয়ে আত্মবিশ্বাস ধরে রাখা, সময়মতো পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছানো এবং বোর্ডের নির্দেশনা মেনে চলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র, রেজিস্ট্রেশন কার্ড, প্রয়োজনীয় কলমসহ নির্ধারিত সময়ের আগেই কেন্দ্রে উপস্থিত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পরীক্ষা চলাকালে মোবাইল ফোন, স্মার্ট ডিভাইস বা নিষিদ্ধ কোনো ইলেকট্রনিক যন্ত্র বহন না করারও নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা বোর্ড। কেন্দ্রের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পরীক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও কেন্দ্রের বাইরে অযথা ভিড় না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
দেশের লাখো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এইচএসসি পরীক্ষা শুধু একটি পাবলিক পরীক্ষা নয়, বরং উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তাই সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা বোর্ড, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। শিক্ষার্থীদের জন্য রইল আন্তরিক শুভকামনা।























