হুতির হুমকি ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আকাশসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্কবার্তা দিয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি। তাদের দাবি, একটি ইরানি বেসামরিক বিমানকে সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।
শুক্রবার প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় হুতি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, ইয়েমেনের আকাশসীমায় কোনো ধরনের অনুপ্রবেশ বা আগ্রাসন পুনরাবৃত্তি হলে তার জবাব দেওয়া হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সৌদি আরবের স্থল ও সমুদ্র উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে প্রতিক্রিয়া জানানো হতে পারে।
হুতির দাবি, স্থানীয় সময় ভোরে একটি সৌদি যুদ্ধবিমান তাদের নিয়ন্ত্রিত আকাশসীমায় প্রবেশের চেষ্টা করে। একই সময়ে ২০০-এর বেশি আহত, অসুস্থ ও আটকে পড়া যাত্রী বহনকারী একটি ইরানি বেসামরিক বিমান সানায় অবতরণে বাধার মুখে পড়ে বলে অভিযোগ করা হয়। তবে পরে বিমানটি নিরাপদে সানায় অবতরণ করে এবং নির্ধারিত কার্যক্রম শেষ করে তেহরানে ফিরে যায় বলে হুতি-সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম জানিয়েছে।
এদিকে হুতি গোষ্ঠী আরও জানিয়েছে, তাদের যোদ্ধারা সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন অবরোধের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান অব্যাহত রাখার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছে। এই বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন কয়েক মাস আগেই সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকার ও হুতিদের মধ্যে বড় পরিসরের বন্দি বিনিময় সম্পন্ন হয়েছিল।
২০১৫ সাল থেকে ইয়েমেনে চলমান সংঘাত দেশটিকে দীর্ঘ মানবিক সংকটের মুখে ফেলেছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে আসছে হুতি গোষ্ঠী। বর্তমানে ইয়েমেনের বিস্তীর্ণ এলাকা তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও দক্ষিণাঞ্চলের বড় অংশ সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর বড় ধরনের সংঘর্ষ অনেকটাই কমে এলেও মাঝে মধ্যেই নতুন উত্তেজনা দেখা দিচ্ছে।
সর্বশেষ এই হুতির হুমকি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আবারও আলোচনায় নিয়ে এসেছে। এখন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়, সেদিকেই নজর রয়েছে আন্তর্জাতিক মহলের।






















