এআই ভাইভা চালুর পরিকল্পনা নিয়ে নতুন তথ্য দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং প্রযুক্তিনির্ভর করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ভাইভা পদ্ধতি চালুর বিষয়ে কাজ করছে সরকার।
সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, বর্তমানে নিয়োগ ব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এআই ভাইভা পদ্ধতি চালু হলে প্রার্থীদের মূল্যায়নে মানবিক পক্ষপাত বা প্রভাবের সুযোগ অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষ নিয়োগের জন্য প্রায় ৫৩ হাজার প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ১৫ হাজার প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। বর্তমানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১১ হাজার ১৫০টি পদ শূন্য রয়েছে, যা দ্রুত পূরণের লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।
এআই ভাইভা ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হলো যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও নির্ভুল ও স্বচ্ছ করা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এমন একটি প্রযুক্তিগত কাঠামো তৈরির চেষ্টা করছেন, যেখানে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত প্রভাব বা অনিয়মের সুযোগ থাকবে না। তবে এই প্রযুক্তি এখনও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি সম্পন্ন না হলে প্রচলিত নিয়মেই ভাইভা পরীক্ষা নেওয়া হবে। কারণ সরকার দ্রুত নিয়োগ কার্যক্রম শেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্বের শূন্যতা দূর করতে চায়। তাই প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি এবং সময়সীমা উভয় বিষয়ই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এআই ভাইভা চালুর উদ্যোগকে শিক্ষা খাতে ডিজিটাল রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে নিয়োগ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে এবং যোগ্য প্রার্থীরা আরও ন্যায্য সুযোগ পাবেন। এখন সবকিছু নির্ভর করছে প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি এবং চূড়ান্ত নীতিগত অনুমোদনের ওপর।

























