জঙ্গল সলিমপুর পুলিশ ফাঁড়ির পানিতে বিষ মেশানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার সকালে পুলিশ সদস্যরা পানির মধ্যে অস্বাভাবিক ফেনা ও তীব্র দুর্গন্ধ লক্ষ্য করার পর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়। পরে নিরাপত্তার স্বার্থে পানির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের জঙ্গল সলিমপুর আলীনগর এলাকায় অবস্থিত পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা প্রতিদিন যে পানি ব্যবহার করেন, সেই পানিতেই প্রথম অস্বাভাবিকতা ধরা পড়ে। গ্লাসে পানি নেওয়ার পর সাদা ফেনা ও তীব্র গন্ধ দেখে সদস্যদের সন্দেহ হয় যে এতে কোনো ধরনের বিষাক্ত পদার্থ থাকতে পারে। সতর্কতার কারণে কেউ সেই পানি পান করেননি।
ঘটনার খবর পেয়ে সীতাকুণ্ড থানা ও চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে পানির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। পরীক্ষার রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত পানির প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
সীতাকুণ্ড থানার ওসি (তদন্ত) মো. আলমগীর হোসেন জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত হয়েছেন এবং নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে কারা বা কী উদ্দেশ্যে পানিতে সন্দেহজনক পদার্থ মিশিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত শেষ হলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
স্থানীয়দের দাবি, জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম নিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন অভিযান চলছে। অতীতেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা, সরকারি স্থাপনায় ভাঙচুর এবং প্রশাসনের কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। ফলে নতুন এই ঘটনাকেও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, পরীক্ষাগারের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার আগে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়। যদি সত্যিই পানিতে বিষাক্ত রাসায়নিক পাওয়া যায়, তাহলে এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে



























