জীবনের কিছু মুহূর্ত আসে, যখন চারপাশের সব দরজা যেন একে একে বন্ধ হয়ে যায়। আপন মানুষও তখন অসহায় বোধ করেন, আর বুকভরা দুশ্চিন্তা ও অজানা আশঙ্কায় মন ভারী হয়ে ওঠে। মনে হয়, এই কঠিন সময় বুঝি আর শেষ হবে না।
অথচ ঠিক সেই মুহূর্তেই একজন মুমিনের সবচেয়ে বড় আশ্রয় হন মহান আল্লাহ। দুঃখ-কষ্ট ও বিপদ-আপদ মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কখনো তা আসে পরীক্ষার মতো, আবার কখনো সতর্কবার্তা হয়ে। কিন্তু বিপদের মুহূর্তে একজন মুমিনের আসল শক্তি হলো—সে জানে, পৃথিবীর সব পথ বন্ধ হলেও আল্লাহর রহমতের দরজা কখনো বন্ধ হয় না।
ইস্তেগফারের গুরুত্ব ও আমল
কখনো বিপদ আসে নিজের ভুলের কারণে, আবার কখনো তা হয় আল্লাহর পরীক্ষা। তাই বিপদে পড়লে প্রথমেই নিজের দিকে ফিরে তাকানো এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত।
সহজভাবে পড়া যায়— আস্তাগফিরুল্লাহ (অর্থ: আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি)।
আরও পড়া যায়— আস্তাগফিরুল্লাহা ওয়া আতুবু ইলাইহি (অর্থ: আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর কাছেই তওবা করছি)।
সংকটে দোয়া ইউনুস
কখনো মানুষের মনে হয়, সে এমন এক অন্ধকারে আটকে গেছে যেখান থেকে বের হওয়ার কোনো পথ নেই। এমন কঠিন অবস্থায় হজরত ইউনুস (আ.) যে দোয়া পড়েছিলেন, তা বিপদগ্রস্ত মানুষের জন্য আশার প্রতীক:
‘লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ-জালিমিন।’ (অর্থ: আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আপনি পবিত্র ও মহিমান্বিত। নিশ্চয়ই আমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম।)
ক্ষতি থেকে হেফাজতের দোয়া
জীবনে এমন অনেক বিপদ আসে, যা মানুষ আগে থেকে বুঝতে পারে না। তাই সকাল ও সন্ধ্যায় হাদিসে বর্ণিত এই দোয়াটি পাঠ করা অত্যন্ত জরুরি:
‘বিসমিল্লাহিল্লাজি লা ইয়াদুররু মা‘আসমিহি শাইউন ফিল আরদি, ওয়া লা ফিস-সামায়ি, ওয়া হুয়াস-সামিউল আলিম।’ (অর্থ: আল্লাহর নামে, যাঁর নামের সঙ্গে আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।)
কষ্ট এলে হতাশ না হয়ে ধৈর্য ধরতে হবে। চোখের পানি ফেললে মানুষের সামনে নয়, বরং আল্লাহর সামনে সিজদায় গিয়ে প্রার্থনা করতে হবে। মনে রাখবেন, বিপদ যত বড়ই হোক, মুমিনের ভরসা তার চেয়েও অনেক বড়—কারণ আল্লাহ আছেন।



























