ঢাকা ০৩:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

দায়িত্বে অবহেলায় ঢাকা সিটির আরও ৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর ব্যবস্থা

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৫:৪৯:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
  • ৫১৫

চিত্রঃ রাজধানীতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে ঢাকা সিটির আরও ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

দায়িত্বে অবহেলায় ঢাকা সিটির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে এবার আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কোরবানির ঈদের পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পশুর বর্জ্য, জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা, দুর্বল পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রমে ব্যর্থতার অভিযোগে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আরও ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছেন তিনি।

 

শুক্রবার রাতে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনা অনুযায়ী দুই সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এবং প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দায়িত্ব পালনে গাফিলতি এবং নগর সেবার মান বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এখনও ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ঈদের পরপরই নগরবাসী পরিচ্ছন্ন পরিবেশ প্রত্যাশা করলেও অনেক এলাকায় পরিস্থিতি সন্তোষজনক নয়। একই সঙ্গে জলাবদ্ধতা নিরসন এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রমেও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি দেখা যায়নি। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই প্রধানমন্ত্রী কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ঈদের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী নিজেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন। তিনি সরাসরি সড়ক, ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। সরকারি দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের ওপর নির্ভর না করে নিজে মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করায় বিষয়টি প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক গুরুত্ব পেয়েছে।

 

পরিদর্শনের সময় তিনি গুলশান, রামপুরা, মালিবাগ, বাসাবো, কমলাপুর, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, ধোলাইখাল, নারিন্দা, বংশাল, গুলিস্তান, শাহবাগ, নিউ মার্কেট, জিগাতলা, ধানমন্ডি, ফার্মগেট, বিজয় সরণি এবং মহাখালীসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো ঘুরে দেখেন। বিভিন্ন স্থানে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করার পাশাপাশি নাগরিক দুর্ভোগের বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় হাতিরপুল, এলিফ্যান্ট রোড, গ্রিন রোড, ফার্মগেট এবং কারওয়ান বাজার এলাকায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ময়লা-আবর্জনা জমে থাকতে দেখা যায়।

 

এসব এলাকায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বর্জ্য অপসারণ না হওয়ায় তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করেন তিনি। এর পরপরই দুই সিটি করপোরেশনের দুই আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রত্যাহার হওয়া কর্মকর্তারা হলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ছাদেকুর রহমান এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী সালেহ মোস্তানজির। তাদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।

 

সরকারি সূত্রগুলো বলছে, শুধু দুই কর্মকর্তাকে অপসারণ করেই দায়িত্ব শেষ করতে চান না প্রধানমন্ত্রী। নগর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার বিষয়েও তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন। এজন্যই দুই সিটি করপোরেশনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা আরও ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং জনস্বাস্থ্য কার্যক্রম পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। কোনো একটি খাতে অবহেলা দেখা দিলে তার প্রভাব পুরো নগর ব্যবস্থাপনায় পড়ে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং জমে থাকা পানি ডেঙ্গুর ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

 

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ প্রশাসনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে নাগরিকদের অভিযোগ ছিল, বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হলেও মাঠপর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রে সঠিক তদারকি হয় না। ফলে সেবার মান কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায় না। নগরবাসীর প্রত্যাশা, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে শুধু দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াই নয়, বরং পুরো নগর ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি ও দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে নাগরিক সেবার মান উন্নত হবে বলেও তারা আশা করছেন।

 

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জানিয়েছেন, পরিদর্শনের সময় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বিশেষ সম্পাদক মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন এবং প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শনের পর পাওয়া পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর সার্বিক পরিবেশ ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে সরকারের এই কঠোর অবস্থান আগামী দিনগুলোতে আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।

 

বিশেষ করে দায়িত্বে অবহেলায় ঢাকা সিটির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার এই উদ্যোগ প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গোপালগঞ্জ আওয়ামী লীগ নেতা বিএনপিতে যোগদান

দায়িত্বে অবহেলায় ঢাকা সিটির আরও ৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর ব্যবস্থা

Update Time : ০৫:৪৯:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

দায়িত্বে অবহেলায় ঢাকা সিটির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে এবার আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কোরবানির ঈদের পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পশুর বর্জ্য, জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা, দুর্বল পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রমে ব্যর্থতার অভিযোগে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আরও ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছেন তিনি।

 

শুক্রবার রাতে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনা অনুযায়ী দুই সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এবং প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দায়িত্ব পালনে গাফিলতি এবং নগর সেবার মান বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এখনও ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ঈদের পরপরই নগরবাসী পরিচ্ছন্ন পরিবেশ প্রত্যাশা করলেও অনেক এলাকায় পরিস্থিতি সন্তোষজনক নয়। একই সঙ্গে জলাবদ্ধতা নিরসন এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রমেও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি দেখা যায়নি। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই প্রধানমন্ত্রী কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ঈদের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী নিজেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন। তিনি সরাসরি সড়ক, ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। সরকারি দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের ওপর নির্ভর না করে নিজে মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করায় বিষয়টি প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক গুরুত্ব পেয়েছে।

আরও পড়ুন  গোপালগঞ্জ আওয়ামী লীগ নেতা বিএনপিতে যোগদান

 

পরিদর্শনের সময় তিনি গুলশান, রামপুরা, মালিবাগ, বাসাবো, কমলাপুর, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, ধোলাইখাল, নারিন্দা, বংশাল, গুলিস্তান, শাহবাগ, নিউ মার্কেট, জিগাতলা, ধানমন্ডি, ফার্মগেট, বিজয় সরণি এবং মহাখালীসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো ঘুরে দেখেন। বিভিন্ন স্থানে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করার পাশাপাশি নাগরিক দুর্ভোগের বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় হাতিরপুল, এলিফ্যান্ট রোড, গ্রিন রোড, ফার্মগেট এবং কারওয়ান বাজার এলাকায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ময়লা-আবর্জনা জমে থাকতে দেখা যায়।

 

এসব এলাকায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বর্জ্য অপসারণ না হওয়ায় তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করেন তিনি। এর পরপরই দুই সিটি করপোরেশনের দুই আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রত্যাহার হওয়া কর্মকর্তারা হলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ছাদেকুর রহমান এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী সালেহ মোস্তানজির। তাদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  চড়া সবজি-মুরগি-ডিমের বাজারে অস্বস্তি ঢাকায়

 

সরকারি সূত্রগুলো বলছে, শুধু দুই কর্মকর্তাকে অপসারণ করেই দায়িত্ব শেষ করতে চান না প্রধানমন্ত্রী। নগর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার বিষয়েও তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন। এজন্যই দুই সিটি করপোরেশনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা আরও ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং জনস্বাস্থ্য কার্যক্রম পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। কোনো একটি খাতে অবহেলা দেখা দিলে তার প্রভাব পুরো নগর ব্যবস্থাপনায় পড়ে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং জমে থাকা পানি ডেঙ্গুর ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

 

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ প্রশাসনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে নাগরিকদের অভিযোগ ছিল, বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হলেও মাঠপর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রে সঠিক তদারকি হয় না। ফলে সেবার মান কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায় না। নগরবাসীর প্রত্যাশা, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে শুধু দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াই নয়, বরং পুরো নগর ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি ও দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে নাগরিক সেবার মান উন্নত হবে বলেও তারা আশা করছেন।

আরও পড়ুন  হাসনাত সংসদে গাড়ির দাবি তুললেন

 

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জানিয়েছেন, পরিদর্শনের সময় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বিশেষ সম্পাদক মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন এবং প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শনের পর পাওয়া পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর সার্বিক পরিবেশ ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে সরকারের এই কঠোর অবস্থান আগামী দিনগুলোতে আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।

 

বিশেষ করে দায়িত্বে অবহেলায় ঢাকা সিটির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার এই উদ্যোগ প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।