ঢাকা ১২:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গ্রিনল্যান্ড হাঙর: অবিশ্বাস্য ৪০০ বছরের জীবনের রহস্য জানুন Logo ফ্যাসিবাদের শিকড় বাহাত্তরের সংবিধানে, দাবি ড. দিলারা চৌধুরীর Logo ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিনের নতুন দায়িত্ব: বঙ্গভবনে অফিস, স্পিকারের বাসভবনে অবস্থান Logo রান্নাঘর পরিষ্কার রাখার ৭ সহজ ও কার্যকর টিপস Logo সবুজ স্বর্গ নরওয়ে কেন বিদেশি বর্জ্য কিনে আনে? Logo মসুর ডালের সালাদ: প্রোটিনসমৃদ্ধ স্বাস্থ্যকর ও সহজ রেসিপি Logo স্যামসাংয়ের নজিরের পর বাড়তি বোনাস দাবি, উত্তাল দক্ষিণ কোরিয়ার শ্রমবাজার Logo বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের শীর্ষে আবারও সিঙ্গাপুর Logo এক রাতেই কাটা ২৯৬টি আমগাছ, গ্রেফতার ইউপি সদস্য Logo চুল পাকার আসল কারণ কী? জানুন প্রতিরোধের উপায়

চুল পাকার আসল কারণ কী? জানুন প্রতিরোধের উপায়

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১১:২৭:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
  • ৫১৮

চুল পাকা বার্ধক্যের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার একটি অংশ। ছবি: সংগৃহীত।

মাথায় প্রথম সাদা বা ধূসর চুল দেখা অনেকের কাছেই বার্ধক্যের প্রথম দৃশ্যমান লক্ষণ। কারও ক্ষেত্রে এটি ৩০–৪০ বছরের পর শুরু হয়, আবার অনেকের অল্প বয়সেই চুল পেকে যেতে পারে। যদিও চুল পাকা স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া, তবুও এর কারণ এবং এটি ধীর করার উপায় নিয়ে মানুষের আগ্রহের শেষ নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, জিনগত বৈশিষ্ট্য, মানসিক চাপ, জীবনযাপন ও কিছু শারীরিক সমস্যা—সবকিছুই এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে।

কেন চুল পাকে?

চুলের রং নির্ধারণ করে মেলানিন নামের একটি প্রাকৃতিক রঞ্জক পদার্থ। এটি তৈরি হয় চুলের ফলিকলের বিশেষ কোষ মেলানোসাইট থেকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই কোষগুলো মেলানিন উৎপাদন কমিয়ে দেয় বা বন্ধ করে দেয়। তখন নতুন গজানো চুল ধীরে ধীরে ধূসর বা সাদা হয়ে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিটি চুল নির্দিষ্ট একটি বৃদ্ধি চক্রের মধ্য দিয়ে যায়। কয়েকবার এই চক্র সম্পন্ন হওয়ার পর মেলানিনের উৎপাদন স্বাভাবিকভাবেই কমে আসে, আর তখনই চুলের রং হারাতে শুরু করে।

মানসিক চাপ কি চুল পাকার কারণ?

হ্যাঁ, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ চুল দ্রুত পেকে যাওয়ার একটি কারণ হতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত চাপের সময় শরীরে নরএপিনেফ্রিন (Norepinephrine) নামের একটি হরমোন নিঃসৃত হয়। এটি মেলানিন উৎপাদনকারী কোষের ওপর প্রভাব ফেলে, যার ফলে চুল দ্রুত রং হারাতে পারে।

তবে শুধু মানসিক চাপ নয়, পারিবারিক ইতিহাস, কিছু শারীরিক অসুস্থতা এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনও অকালে চুল পাকার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

চুল পেকে গেলে কি আবার কালো করা সম্ভব?

বর্তমানে এমন কোনো বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত চিকিৎসা নেই, যা পাকা চুলকে স্থায়ীভাবে আগের রঙে ফিরিয়ে আনতে পারে।

তবে যদি ভিটামিনের ঘাটতি বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা চুল পাকার কারণ হয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেই সমস্যার চিকিৎসা করলে উপকার পাওয়া যেতে পারে।

চুল পাকা স্বাভাবিক বার্ধক্যের অংশ। তবে কেউ চাইলে চুলের রং ব্যবহার করে এটি সাময়িকভাবে ঢেকে রাখতে পারেন।

চুলের রং ব্যবহার করলে কী বিষয় খেয়াল রাখবেন?

চুলের রং সাধারণত দুই ধরনের হয়—প্রাকৃতিক এবং কৃত্রিম।

মেহেদির মতো প্রাকৃতিক রং মাথার ত্বকের জন্য তুলনামূলক কোমল হলেও দ্রুত ফিকে হয়ে যায়। অন্যদিকে স্থায়ী বা সেমি-পার্মানেন্ট কৃত্রিম রং দীর্ঘদিন টিকে থাকলেও কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ত্বকে অ্যালার্জি বা জ্বালাপোড়ার কারণ হতে পারে।

তাই চুলের রং ব্যবহারের আগে নিজের ত্বকের সংবেদনশীলতা এবং পণ্যের উপাদান সম্পর্কে জেনে নেওয়া জরুরি।

পাকা চুল তুলে ফেললে কি সমস্যা হয়?

অনেকেই মনে করেন একটি পাকা চুল তুলে ফেললে আরেকটি কালো চুল গজাবে। বাস্তবে বিষয়টি এমন নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকা চুল উপড়ে ফেললে সেই ফলিকল থেকেই আবার পাকা চুলই গজাবে। এছাড়া বারবার চুল উপড়ে ফেললে ফলিকল ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চুল পাতলা হওয়ার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

চুল পাকা কি ধীর করা সম্ভব?

চুল পাকা পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব না হলেও কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস এই প্রক্রিয়াকে ধীর করতে সাহায্য করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন ও খনিজসমৃদ্ধ সুষম খাদ্য গ্রহণ, পর্যাপ্ত ঘুম, ধূমপান এড়িয়ে চলা, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে চুল ও ত্বককে সুরক্ষিত রাখা উপকারী হতে পারে।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

খুব অল্প বয়সে হঠাৎ করে প্রচুর চুল পেকে গেলে বা এর সঙ্গে অন্য কোনো শারীরিক উপসর্গ দেখা দিলে অবশ্যই চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে কোনো অন্তর্নিহিত শারীরিক সমস্যা আছে কি না তা নির্ণয় করে উপযুক্ত চিকিৎসার পরামর্শ দিতে পারেন।

শেষ কথা

চুল পাকা জীবনের স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া এবং এটি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে অকালে চুল পাকার পেছনে জীবনযাপন, মানসিক চাপ কিংবা শারীরিক সমস্যার ভূমিকা থাকতে পারে। স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার মাধ্যমে চুলের সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখা সম্ভব।

জনপ্রিয় সংবাদ

গ্রিনল্যান্ড হাঙর: অবিশ্বাস্য ৪০০ বছরের জীবনের রহস্য জানুন

চুল পাকার আসল কারণ কী? জানুন প্রতিরোধের উপায়

Update Time : ১১:২৭:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

মাথায় প্রথম সাদা বা ধূসর চুল দেখা অনেকের কাছেই বার্ধক্যের প্রথম দৃশ্যমান লক্ষণ। কারও ক্ষেত্রে এটি ৩০–৪০ বছরের পর শুরু হয়, আবার অনেকের অল্প বয়সেই চুল পেকে যেতে পারে। যদিও চুল পাকা স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া, তবুও এর কারণ এবং এটি ধীর করার উপায় নিয়ে মানুষের আগ্রহের শেষ নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, জিনগত বৈশিষ্ট্য, মানসিক চাপ, জীবনযাপন ও কিছু শারীরিক সমস্যা—সবকিছুই এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে।

কেন চুল পাকে?

চুলের রং নির্ধারণ করে মেলানিন নামের একটি প্রাকৃতিক রঞ্জক পদার্থ। এটি তৈরি হয় চুলের ফলিকলের বিশেষ কোষ মেলানোসাইট থেকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই কোষগুলো মেলানিন উৎপাদন কমিয়ে দেয় বা বন্ধ করে দেয়। তখন নতুন গজানো চুল ধীরে ধীরে ধূসর বা সাদা হয়ে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিটি চুল নির্দিষ্ট একটি বৃদ্ধি চক্রের মধ্য দিয়ে যায়। কয়েকবার এই চক্র সম্পন্ন হওয়ার পর মেলানিনের উৎপাদন স্বাভাবিকভাবেই কমে আসে, আর তখনই চুলের রং হারাতে শুরু করে।

আরও পড়ুন  শিশুদের কাশির ওষুধ নিয়ে সতর্কবার্তা, যা জানা জরুরি

মানসিক চাপ কি চুল পাকার কারণ?

হ্যাঁ, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ চুল দ্রুত পেকে যাওয়ার একটি কারণ হতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত চাপের সময় শরীরে নরএপিনেফ্রিন (Norepinephrine) নামের একটি হরমোন নিঃসৃত হয়। এটি মেলানিন উৎপাদনকারী কোষের ওপর প্রভাব ফেলে, যার ফলে চুল দ্রুত রং হারাতে পারে।

তবে শুধু মানসিক চাপ নয়, পারিবারিক ইতিহাস, কিছু শারীরিক অসুস্থতা এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনও অকালে চুল পাকার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

চুল পেকে গেলে কি আবার কালো করা সম্ভব?

বর্তমানে এমন কোনো বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত চিকিৎসা নেই, যা পাকা চুলকে স্থায়ীভাবে আগের রঙে ফিরিয়ে আনতে পারে।

তবে যদি ভিটামিনের ঘাটতি বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা চুল পাকার কারণ হয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেই সমস্যার চিকিৎসা করলে উপকার পাওয়া যেতে পারে।

চুল পাকা স্বাভাবিক বার্ধক্যের অংশ। তবে কেউ চাইলে চুলের রং ব্যবহার করে এটি সাময়িকভাবে ঢেকে রাখতে পারেন।

আরও পড়ুন  বায়ুদূষণে শীর্ষে জাকার্তা, ঢাকার খবর কী

চুলের রং ব্যবহার করলে কী বিষয় খেয়াল রাখবেন?

চুলের রং সাধারণত দুই ধরনের হয়—প্রাকৃতিক এবং কৃত্রিম।

মেহেদির মতো প্রাকৃতিক রং মাথার ত্বকের জন্য তুলনামূলক কোমল হলেও দ্রুত ফিকে হয়ে যায়। অন্যদিকে স্থায়ী বা সেমি-পার্মানেন্ট কৃত্রিম রং দীর্ঘদিন টিকে থাকলেও কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ত্বকে অ্যালার্জি বা জ্বালাপোড়ার কারণ হতে পারে।

তাই চুলের রং ব্যবহারের আগে নিজের ত্বকের সংবেদনশীলতা এবং পণ্যের উপাদান সম্পর্কে জেনে নেওয়া জরুরি।

পাকা চুল তুলে ফেললে কি সমস্যা হয়?

অনেকেই মনে করেন একটি পাকা চুল তুলে ফেললে আরেকটি কালো চুল গজাবে। বাস্তবে বিষয়টি এমন নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকা চুল উপড়ে ফেললে সেই ফলিকল থেকেই আবার পাকা চুলই গজাবে। এছাড়া বারবার চুল উপড়ে ফেললে ফলিকল ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চুল পাতলা হওয়ার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

চুল পাকা কি ধীর করা সম্ভব?

চুল পাকা পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব না হলেও কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস এই প্রক্রিয়াকে ধীর করতে সাহায্য করতে পারে।

আরও পড়ুন  কাদের চিয়া সিড খাওয়া উচিত নয় | চিকিৎসকের সতর্কতা ও সঠিক নিয়ম

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন ও খনিজসমৃদ্ধ সুষম খাদ্য গ্রহণ, পর্যাপ্ত ঘুম, ধূমপান এড়িয়ে চলা, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে চুল ও ত্বককে সুরক্ষিত রাখা উপকারী হতে পারে।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

খুব অল্প বয়সে হঠাৎ করে প্রচুর চুল পেকে গেলে বা এর সঙ্গে অন্য কোনো শারীরিক উপসর্গ দেখা দিলে অবশ্যই চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে কোনো অন্তর্নিহিত শারীরিক সমস্যা আছে কি না তা নির্ণয় করে উপযুক্ত চিকিৎসার পরামর্শ দিতে পারেন।

শেষ কথা

চুল পাকা জীবনের স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া এবং এটি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে অকালে চুল পাকার পেছনে জীবনযাপন, মানসিক চাপ কিংবা শারীরিক সমস্যার ভূমিকা থাকতে পারে। স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার মাধ্যমে চুলের সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখা সম্ভব।