ঢাকা ১২:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মৃত্যু আমাদের কত কাছে

মৃত্যুর চিন্তা মানুষকে অন্যায় ও পাপ থেকে দূরে রাখে। ছবি: সংগৃহীত

মৃত্যুর স্মরণ মানুষের ক্ষণস্থায়ী জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপকে সঠিক ও অর্থপূর্ণ পথে চালিত করতে সহায়তা করে। মানুষ এই দুনিয়ায় যত বড় স্বপ্নই দেখুক না কেন, শেষ নিঃশ্বাসের পর তা স্তব্ধ হয়ে যায়। পার্থিব সম্মান, বিপুল অর্থসম্পদ কিংবা শারীরিক সুস্থতা—কোনোটিই মানুষের হায়াত বা আয়ু বাড়াতে পারে না। অনাকাঙ্ক্ষিত সময়ে মৃত্যুর ডাক আসার আগেই পরকালের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা প্রতিটি সচেতন মুমিনের মূল দায়িত্ব।

পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে মহান আল্লাহ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, প্রতিটি সৃষ্টির জন্যই মৃত্যু এক নির্ধারিত ও অনিবার্য সত্য। তবে কোন স্থানে কিংবা ঠিক কোন বয়সে একজন মানুষের শেষ মুহূর্ত আসবে, তা একমাত্র সৃষ্টিকর্তা ছাড়া কারও জানা নেই। বয়স কিংবা শারীরিক সক্ষমতা মৃত্যুকে ঠেকাতে পারে না বলেই অহেতুক বিলম্ব না করে প্রতিনিয়ত ঈমানি প্রস্তুতি রাখা প্রয়োজন।

আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এই পৃথিবীতে মানুষকে একজন পথিকের মতো সতর্কতার সাথে জীবন যাপন করতে নির্দেশ দিয়েছেন। চলন্ত পথে একজন ভ্রমণকারী যেমন সাময়িক বিরতি নেয় কিন্তু স্থায়ী আবাসের কথা ভুলে যায় না, তেমনি মুমিনেরও উচিত পার্থিব মায়ায় অন্ধ না হয়ে পরকালের আমল বৃদ্ধি করা।

যখন কোনো বান্দার অন্তর থেকে এই পরকালীন চিন্তা কিংবা মৃত্যুর অনুভুতি হারিয়ে যায়, তখন তার ভেতর দুনিয়ার মোহ তীব্রভাবে ভর করে। অন্যায্য উপায়ে সম্পদ অর্জন, অন্যায়ে লিপ্ত হওয়া এবং পাপের পর তওবা না করার কারণ মূলত এই অসচেতনতা। অহংকার ও পার্থিব দৌড়ঝাঁপ মানুষকে অন্ধ করে দেওয়ার আগেই মৃত্যুর স্মৃতি হৃদয়কে নম্র ও অনুতপ্ত করে তোলে।

ইসলামে পরকালকে মনে রাখার অর্থ কিন্তু সংসার ত্যাগ করে বৈরাগ্য অর্জন করা কিংবা স্বাভাবিক জীবন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া নয়। প্রতিদিন ঘুমানোর আগে নিজের কাজের হিসাব নেওয়া এবং কারো অধিকার নষ্ট করেছি কি না—এই আত্মপর্যালোচনাই হলো খাঁটি ঈমানদারের বৈশিষ্ট্য। অন্যায় থেকে বেঁচে থাকা এবং ভালো কাজের চর্চা করাই একজন মানুষকে আল্লাহর অনুগত বান্দা হিসেবে গড়ে তোলে।

সুতরাং ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার রঙিন স্বপ্নে বিভোর না হয়ে পরকালীন চিরস্থায়ী মুক্তির পথ সুগম করতে মৃত্যুর স্মরণ করা অপরিহার্য। নিয়মিত কোরআন ও সহিহ হাদিসের চর্চা এবং দৈনন্দিন জীবনে সৎ কাজের অনুশীলনের মাধ্যমেই মৃত্যুপরবর্তী জীবনে সফলতা অর্জন সম্ভব। জীবনপ্রদীপ নিভে যাওয়ার আগেই নিজেদের শুধরে নিয়ে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করাই আমাদের পরম কাম্য হওয়া উচিত।

জনপ্রিয় সংবাদ

মৃত্যু আমাদের কত কাছে

Update Time : ১১:২৬:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

মৃত্যুর স্মরণ মানুষের ক্ষণস্থায়ী জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপকে সঠিক ও অর্থপূর্ণ পথে চালিত করতে সহায়তা করে। মানুষ এই দুনিয়ায় যত বড় স্বপ্নই দেখুক না কেন, শেষ নিঃশ্বাসের পর তা স্তব্ধ হয়ে যায়। পার্থিব সম্মান, বিপুল অর্থসম্পদ কিংবা শারীরিক সুস্থতা—কোনোটিই মানুষের হায়াত বা আয়ু বাড়াতে পারে না। অনাকাঙ্ক্ষিত সময়ে মৃত্যুর ডাক আসার আগেই পরকালের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা প্রতিটি সচেতন মুমিনের মূল দায়িত্ব।

পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে মহান আল্লাহ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, প্রতিটি সৃষ্টির জন্যই মৃত্যু এক নির্ধারিত ও অনিবার্য সত্য। তবে কোন স্থানে কিংবা ঠিক কোন বয়সে একজন মানুষের শেষ মুহূর্ত আসবে, তা একমাত্র সৃষ্টিকর্তা ছাড়া কারও জানা নেই। বয়স কিংবা শারীরিক সক্ষমতা মৃত্যুকে ঠেকাতে পারে না বলেই অহেতুক বিলম্ব না করে প্রতিনিয়ত ঈমানি প্রস্তুতি রাখা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন  হজ শেষে দেশে ফিরলেন ৫৪৩২৩ হাজি, ৫০ জনের মৃত্যু

আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এই পৃথিবীতে মানুষকে একজন পথিকের মতো সতর্কতার সাথে জীবন যাপন করতে নির্দেশ দিয়েছেন। চলন্ত পথে একজন ভ্রমণকারী যেমন সাময়িক বিরতি নেয় কিন্তু স্থায়ী আবাসের কথা ভুলে যায় না, তেমনি মুমিনেরও উচিত পার্থিব মায়ায় অন্ধ না হয়ে পরকালের আমল বৃদ্ধি করা।

যখন কোনো বান্দার অন্তর থেকে এই পরকালীন চিন্তা কিংবা মৃত্যুর অনুভুতি হারিয়ে যায়, তখন তার ভেতর দুনিয়ার মোহ তীব্রভাবে ভর করে। অন্যায্য উপায়ে সম্পদ অর্জন, অন্যায়ে লিপ্ত হওয়া এবং পাপের পর তওবা না করার কারণ মূলত এই অসচেতনতা। অহংকার ও পার্থিব দৌড়ঝাঁপ মানুষকে অন্ধ করে দেওয়ার আগেই মৃত্যুর স্মৃতি হৃদয়কে নম্র ও অনুতপ্ত করে তোলে।

আরও পড়ুন  চন্দনাইশের জাঁহাগিরিয়া শাহছুফি মমতাজিয়া দরবার শরীফের শাহসুফি সৈয়্যদ মুহাম্মদ মমতাজ আলী ১৭তম পবিত্র বার্ষিক ওরশ মোবারক অনুষ্ঠিত

ইসলামে পরকালকে মনে রাখার অর্থ কিন্তু সংসার ত্যাগ করে বৈরাগ্য অর্জন করা কিংবা স্বাভাবিক জীবন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া নয়। প্রতিদিন ঘুমানোর আগে নিজের কাজের হিসাব নেওয়া এবং কারো অধিকার নষ্ট করেছি কি না—এই আত্মপর্যালোচনাই হলো খাঁটি ঈমানদারের বৈশিষ্ট্য। অন্যায় থেকে বেঁচে থাকা এবং ভালো কাজের চর্চা করাই একজন মানুষকে আল্লাহর অনুগত বান্দা হিসেবে গড়ে তোলে।

আরও পড়ুন  আখেরাত বিক্রি করার ৩টি বড় ক্ষতি: আপনিও কি এই ভুল করছেন?

সুতরাং ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার রঙিন স্বপ্নে বিভোর না হয়ে পরকালীন চিরস্থায়ী মুক্তির পথ সুগম করতে মৃত্যুর স্মরণ করা অপরিহার্য। নিয়মিত কোরআন ও সহিহ হাদিসের চর্চা এবং দৈনন্দিন জীবনে সৎ কাজের অনুশীলনের মাধ্যমেই মৃত্যুপরবর্তী জীবনে সফলতা অর্জন সম্ভব। জীবনপ্রদীপ নিভে যাওয়ার আগেই নিজেদের শুধরে নিয়ে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করাই আমাদের পরম কাম্য হওয়া উচিত।