ঢাকা ১২:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তাসবিহ ইবাদত-বন্দেগিতে প্রতিযোগিতার সহায়ক

প্রতিদিনের জিকির ও সৎকাজও নফল সদকার সমতুল্য। ছবি: সংগৃহীত

সদকার সহজ উপায় সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র দিকনির্দেশনা সাধারণ মুমিনদের জন্য এক বিরাট আশার বাণী। একদা দরিদ্র সাহাবিরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে আফসোস করে বললেন যে, ধনী ব্যক্তিরা তাদের অতিরিক্ত অর্থ সদকা করে সব সওয়াব নিয়ে যাচ্ছে। সাহাবিদের এই আধ্যাত্মিক ব্যাকুলতার জবাবে মহানবী (সা.) অর্থ ছাড়াও সওয়াব অর্জনের নানা দিক তুলে ধরেন।

রাসুলুল্লাহ (সা.) স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে আল্লাহর জিকির এবং ভালো কাজের নির্দেশ দেওয়াও পরম সদকা। প্রতিদিন ‘সুবহানাল্লাহ’, ‘আল্লাহু আকবার’, ‘আলহামদুলিল্লাহ’ ও ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পাঠ করা অর্থমূল্যের দানের মতোই সওয়াব এনে দেয়।

হাদিসের সবচেয়ে বিশেষ শিক্ষা হলো, মানুষের স্বাভাবিক ও পারিবারিক হালাল কাজও সঠিক নিয়তের মাধ্যমে ইবাদতে রূপান্তরিত হয়। এমনকি স্ত্রীর সাথে বৈধ সম্পর্ক স্থাপনও সওয়াবের কারণ, কারণ এর মাধ্যমে মানুষ নিজেকে হারাম পথ থেকে মুক্ত রাখে।

এই হাদিস থেকে অধিকাংশ আলিম কিয়াস বা সাদৃশ্যের ভিত্তিতে শরীয়তের বিধান নির্ণয়ের বৈধতা প্রমাণ করেছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) হারাম ও হালাল পথের তুলনা করে সাহাবিদের সামনে যৌক্তিক প্রমাণ তুলে ধরেছিলেন। ফলে আলেম বা শিক্ষকদের জন্য অস্পষ্ট বিষয়ে দলিল ও যুক্তিসহ ব্যাখ্যা দেওয়ার গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

সাহাবিদের এই প্রশ্নের মাধ্যমে বোঝা যায় যে অস্পষ্ট বিষয় জানার জন্য বিনয়ের সাথে প্রশ্ন করা ইসলামে সম্পূর্ণ বৈধ। মনের বিভ্রান্তি দূর করতে এবং কোনো কাজের পেছনের হেকমত অনুধাবন করতে সঠিক ব্যক্তির কাছে জানতে চাওয়া মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। প্রতিটি বৈধ কাজ করার সময় ভালো নিয়তের চর্চা মানুষকে সার্বক্ষণিক ইবাদতের মাঝে যুক্ত রাখে।

পরিশেষে, ধনের প্রাচুর্য না থাকলেও নিজ নিয়ত ও আমল দিয়ে সওয়াবের পাল্লা ভারী করা সম্ভব। সদকার সহজ উপায় হিসেবে জিকির-আজকার এবং দৈনন্দিন সৎ কাজের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করাই আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। হাদিসের এই মহান শিক্ষা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োগ করে পরকালের পাথেয় সমৃদ্ধ করার তৌফিক দান করুন।

জনপ্রিয় সংবাদ

তাসবিহ ইবাদত-বন্দেগিতে প্রতিযোগিতার সহায়ক

Update Time : ১১:৩২:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

সদকার সহজ উপায় সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র দিকনির্দেশনা সাধারণ মুমিনদের জন্য এক বিরাট আশার বাণী। একদা দরিদ্র সাহাবিরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে আফসোস করে বললেন যে, ধনী ব্যক্তিরা তাদের অতিরিক্ত অর্থ সদকা করে সব সওয়াব নিয়ে যাচ্ছে। সাহাবিদের এই আধ্যাত্মিক ব্যাকুলতার জবাবে মহানবী (সা.) অর্থ ছাড়াও সওয়াব অর্জনের নানা দিক তুলে ধরেন।

রাসুলুল্লাহ (সা.) স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে আল্লাহর জিকির এবং ভালো কাজের নির্দেশ দেওয়াও পরম সদকা। প্রতিদিন ‘সুবহানাল্লাহ’, ‘আল্লাহু আকবার’, ‘আলহামদুলিল্লাহ’ ও ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পাঠ করা অর্থমূল্যের দানের মতোই সওয়াব এনে দেয়।

আরও পড়ুন  হালালা বিয়ে: শরিয়াহর বিধান নাকি ভয়াবহ অপব্যাখ্যা?

হাদিসের সবচেয়ে বিশেষ শিক্ষা হলো, মানুষের স্বাভাবিক ও পারিবারিক হালাল কাজও সঠিক নিয়তের মাধ্যমে ইবাদতে রূপান্তরিত হয়। এমনকি স্ত্রীর সাথে বৈধ সম্পর্ক স্থাপনও সওয়াবের কারণ, কারণ এর মাধ্যমে মানুষ নিজেকে হারাম পথ থেকে মুক্ত রাখে।

এই হাদিস থেকে অধিকাংশ আলিম কিয়াস বা সাদৃশ্যের ভিত্তিতে শরীয়তের বিধান নির্ণয়ের বৈধতা প্রমাণ করেছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) হারাম ও হালাল পথের তুলনা করে সাহাবিদের সামনে যৌক্তিক প্রমাণ তুলে ধরেছিলেন। ফলে আলেম বা শিক্ষকদের জন্য অস্পষ্ট বিষয়ে দলিল ও যুক্তিসহ ব্যাখ্যা দেওয়ার গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুন  মহানবী (সা.) যে আমলকে সর্বোত্তম বলেছেন

সাহাবিদের এই প্রশ্নের মাধ্যমে বোঝা যায় যে অস্পষ্ট বিষয় জানার জন্য বিনয়ের সাথে প্রশ্ন করা ইসলামে সম্পূর্ণ বৈধ। মনের বিভ্রান্তি দূর করতে এবং কোনো কাজের পেছনের হেকমত অনুধাবন করতে সঠিক ব্যক্তির কাছে জানতে চাওয়া মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। প্রতিটি বৈধ কাজ করার সময় ভালো নিয়তের চর্চা মানুষকে সার্বক্ষণিক ইবাদতের মাঝে যুক্ত রাখে।

আরও পড়ুন  রিজিকে বরকত পেতে কোরআন কী নির্দেশনা দিয়েছে?

পরিশেষে, ধনের প্রাচুর্য না থাকলেও নিজ নিয়ত ও আমল দিয়ে সওয়াবের পাল্লা ভারী করা সম্ভব। সদকার সহজ উপায় হিসেবে জিকির-আজকার এবং দৈনন্দিন সৎ কাজের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করাই আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। হাদিসের এই মহান শিক্ষা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োগ করে পরকালের পাথেয় সমৃদ্ধ করার তৌফিক দান করুন।