বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ‘কালো মানিক’ নামের একটি গরু উপহার দিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনায় এসেছিলেন মো. সোহাগ মৃধা। তবে এবার কোনো ভালো কাজের জন্য নয়, বরং মারামারি, নারী নির্যাতন, হত্যাচেষ্টা ও পর্নোগ্রাফি আইনের একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে তিনি এখন আদালতের নির্দেশে কারাগারে দিন কাটাচ্ছেন। পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ থানা পুলিশ দীর্ঘ তদন্ত ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এই বিতর্কিত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
ঘটনাটি ঘটেছে পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার ৩ নম্বর আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের উত্তর ঝাটিবুনিয়া গ্রামে। গত ১০ জুন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পূর্ব শত্রুতা ও পারিবারিক বিরোধের জেরে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী পরিবারটি যখন নিজেদের বৈঠকখানায় বসে পারিবারিক বিষয়ে আলোচনা করছিলেন, ঠিক তখনই সোহাগ মৃধার নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী তাদের ওপর অতর্কিত ও বর্বর হামলা চালায়।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, সোহাগ মৃধা ও তার সহযোগীরা ঘরে ঢুকে শাহরিয়ার আহম্মেদ নামের এক ব্যক্তিকে জোরপূর্বক টেনে-হিঁচড়ে উঠানে নিয়ে এসে এলোপাতাড়ি মারধর করতে থাকে। একপর্যায়ে সোহাগ ধারালো দা দিয়ে শাহরিয়ারের মাথায় কোপ দিলে তিনি কোনোমতে সরে যান, যার ফলে কোপটি তার বাম চোখের ভ্রুর ওপর লেগে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন। স্বামীকে বাঁচাতে সারমিন সুলতানা ও ননদ মাহিনুর বেগম এগিয়ে এলে তাদেরও নির্মমভাবে পিটিয়ে শ্লীলতাহানি করা হয়।
চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা মাহিনুর বেগমের গলা থেকে এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। এই ঘটনার পর ১১ জুন মির্জাগঞ্জ থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়, যার তদন্তভার দেওয়া হয় উপপরিদর্শক (এসআই) অনুপ দাসকে। পুলিশ জানায়, সোহাগের বিরুদ্ধে এর আগেও মির্জাগঞ্জ থানায় মাদক, চাঁদাবাজি, চুরি এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের কোরবানির ঈদে এই সোহাগ মৃধাই ট্রাক সাজিয়ে ঢাকায় এনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে ‘কালা মানিক’ নামের বিশাল একটি গরু উপহার দিয়েছিলেন। খালেদা জিয়া উপহারটি গ্রহণ করে তা আবার সোহাগকে ফেরত দেন এলাকার মানুষের সাথে ঈদ উদযাপনের জন্য। তবে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, সোহাগ সেই গরু জবাই না করে গোপনে এ বছর ঢাকায় এনে ২১ লাখ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন।
মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোহিদুজ্জামান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃত সোহাগ মৃধাকে আজ রোববার (১৪ জুন) আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং এই মামলার সাথে জড়িত অন্য পলাতক আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধী যেই হোক না কেন, তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।


























