ঢাকা ১১:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বাংলাদেশ-দক্ষিণ কোরিয়া সিইপিএ, দর-কষাকষি শেষ, চুক্তি সই শিগগিরই Logo গাজা চুক্তি নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে মতবিরোধে নেতানিয়াহু Logo গ্যাস সংকটে উৎপাদন কমেছে: ছুটি বাড়াচ্ছে শিল্পকারখানা Logo পাট রপ্তানিতে বড় লক্ষ্য: ৫ বছরে দ্বিগুণ আয়ের পরিকল্পনা Logo এআই ডেটা সেন্টারে যুদ্ধের হুমকি: কেন সহজ টার্গেট হয়ে উঠছে? Logo স্বর্ণের দাম আবার ঊর্ধ্বমুখী, আজ কত টাকায় মিলছে এক ভরি? Logo ৯ আগস্ট চট্টগ্রামে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, থাকছে বড় কর্মসূচি Logo বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষ, রাত পর্যন্ত মুখোমুখি অবস্থান Logo সরকারি দপ্তরে এআই ব্যবহারে কেন সতর্ক করল সরকার? Logo ঘরেই বানান রেস্টুরেন্ট স্টাইল ক্রিস্পি পটেটো ওয়েজেস

এআই ডেটা সেন্টারে যুদ্ধের হুমকি: কেন সহজ টার্গেট হয়ে উঠছে?

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১০:৪৮:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৮

বিশ্বজুড়ে এআই ডেটা সেন্টার এখন যুদ্ধের নতুন ঝুঁকির মুখে। ছবি: সংগৃহীত

এআই ডেটা সেন্টার এখন শুধু প্রযুক্তি কোম্পানির অবকাঠামো নয়, বরং আন্তর্জাতিক সংঘাতের নতুন লক্ষ্যবস্তু হিসেবেও সামনে আসছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ডেটা সেন্টারেও হামলার ঘটনা বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের অর্থনীতি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মূল ভিত্তি হওয়ায় এসব স্থাপনা এখন কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সাম্প্রতিক সময়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি ডেটা সেন্টারে হামলার ঘটনা সামনে এসেছে। এর মধ্যে বাহরাইনে অবস্থিত একটি ক্লাউড অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের একটি ডেটা সেন্টারে পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এতে প্রযুক্তি অবকাঠামো সরাসরি যুদ্ধের অংশ হয়ে ওঠার নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের ফলে ডেটা সেন্টারের গুরুত্ব আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেড়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড সেবা, আর্থিক লেনদেন, সরকারি তথ্য সংরক্ষণ এবং বিভিন্ন অনলাইন সেবা পরিচালনার জন্য এসব কেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ছে। ফলে একটি বড় ডেটা সেন্টারে হামলা শুধু প্রযুক্তি খাত নয়, পুরো অর্থনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে নিজেদের বৈশ্বিক এআই হাব হিসেবে গড়ে তুলতে শত শত বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়েছে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন ও অন্যান্য উপসাগরীয় দেশ বড় আকারের ডেটা সেন্টার নির্মাণ করছে। তবে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায় এসব প্রকল্পে নতুন বিনিয়োগকারীরা আরও সতর্ক অবস্থান নিতে পারেন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, ডেটা সেন্টারগুলো সাধারণত সাইবার হামলা মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকলেও সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ সুরক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন। এ কারণে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন একাধিক স্থানে বিকল্প ডেটা সেন্টার (Redundancy) গড়ে তুলছে, যাতে একটি কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সেবা চালু রাখা সম্ভব হয়।

বিশ্বব্যাপী এআই খাতে বিনিয়োগ দ্রুত বাড়লেও যুদ্ধের ঝুঁকি, নিরাপত্তা ব্যয় এবং বিমা খরচ বৃদ্ধি প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে শুধু উন্নত প্রযুক্তি নয়, সেই প্রযুক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠবে।

বাংলাদেশ-দক্ষিণ কোরিয়া সিইপিএ, দর-কষাকষি শেষ, চুক্তি সই শিগগিরই

এআই ডেটা সেন্টারে যুদ্ধের হুমকি: কেন সহজ টার্গেট হয়ে উঠছে?

Update Time : ১০:৪৮:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

এআই ডেটা সেন্টার এখন শুধু প্রযুক্তি কোম্পানির অবকাঠামো নয়, বরং আন্তর্জাতিক সংঘাতের নতুন লক্ষ্যবস্তু হিসেবেও সামনে আসছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ডেটা সেন্টারেও হামলার ঘটনা বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের অর্থনীতি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মূল ভিত্তি হওয়ায় এসব স্থাপনা এখন কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সাম্প্রতিক সময়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি ডেটা সেন্টারে হামলার ঘটনা সামনে এসেছে। এর মধ্যে বাহরাইনে অবস্থিত একটি ক্লাউড অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের একটি ডেটা সেন্টারে পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এতে প্রযুক্তি অবকাঠামো সরাসরি যুদ্ধের অংশ হয়ে ওঠার নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন  ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা: চুক্তি থেকে কে কী পেল?

বিশ্লেষকদের মতে, এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের ফলে ডেটা সেন্টারের গুরুত্ব আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেড়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড সেবা, আর্থিক লেনদেন, সরকারি তথ্য সংরক্ষণ এবং বিভিন্ন অনলাইন সেবা পরিচালনার জন্য এসব কেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ছে। ফলে একটি বড় ডেটা সেন্টারে হামলা শুধু প্রযুক্তি খাত নয়, পুরো অর্থনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

আরও পড়ুন  নতুন আইএমএফ ঋণ কর্মসূচি, দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্বে সরকার

মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে নিজেদের বৈশ্বিক এআই হাব হিসেবে গড়ে তুলতে শত শত বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়েছে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন ও অন্যান্য উপসাগরীয় দেশ বড় আকারের ডেটা সেন্টার নির্মাণ করছে। তবে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায় এসব প্রকল্পে নতুন বিনিয়োগকারীরা আরও সতর্ক অবস্থান নিতে পারেন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, ডেটা সেন্টারগুলো সাধারণত সাইবার হামলা মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকলেও সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ সুরক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন। এ কারণে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন একাধিক স্থানে বিকল্প ডেটা সেন্টার (Redundancy) গড়ে তুলছে, যাতে একটি কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সেবা চালু রাখা সম্ভব হয়।

আরও পড়ুন  ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আবেদন নিউইয়র্ক টাইমসের

বিশ্বব্যাপী এআই খাতে বিনিয়োগ দ্রুত বাড়লেও যুদ্ধের ঝুঁকি, নিরাপত্তা ব্যয় এবং বিমা খরচ বৃদ্ধি প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে শুধু উন্নত প্রযুক্তি নয়, সেই প্রযুক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠবে।