ঢাকা ০৬:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিয়ন্ত্রণহীন এআই তৈরি করতে পারে ‘সিলিকন প্রজাতি’, সতর্ক করেছেন মাইক্রোসফট এআই বিভাগের প্রধান

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৪:৫৮:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫২২

মুস্তাফা সুলেইমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছেন। ছবি: সংগৃহীত

নিয়ন্ত্রণহীন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ভবিষ্যতে মানুষের সঙ্গে সম্পদের জন্য প্রতিযোগিতায় নামতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মাইক্রোসফট এআই বিভাগের প্রধান মুস্তাফা সুলেইমান। তার আশঙ্কা, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া উন্নত এআই তৈরি করা হলে তা একসময় মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

বিবিসির ‘টুডে’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সুলেইমান বলেন, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো যদি এমন এআই তৈরি করতে থাকে, যা নিজস্ব লক্ষ্য নির্ধারণ, অর্থ উপার্জন এবং সম্পদের মালিকানা অর্জনে সক্ষম হবে, তাহলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে পারে।

তিনি বলেন, এ ধরনের প্রযুক্তি তৈরি করা মানে কার্যত একটি নতুন ‘সিলিকন প্রজাতির’ বীজ বপন করা। ভবিষ্যতে এই প্রজাতি মানুষের সঙ্গে বিভিন্ন সম্পদের জন্য প্রতিযোগিতায় জড়িয়ে পড়তে পারে। এমনকি এআই মানুষের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব রাখলেও এ ধরনের প্রতিযোগিতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মাইক্রোসফটের এআই প্রধান বলেন, এআই নিয়ে মানুষের উদ্বিগ্ন হওয়া স্বাভাবিক। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য বাস্তবভিত্তিক কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এআই কীভাবে প্রশিক্ষিত হচ্ছে এবং কীভাবে তার সক্ষমতা যাচাই করা হচ্ছে, সে বিষয়ে আরও স্বচ্ছতা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সুলেইমানের বক্তব্যের কেন্দ্রে রয়েছে এআইকে মানুষের মতো করে দেখার প্রবণতা। তিনি বিশেষভাবে অ্যানথ্রপিকের এআই মডেল ক্লডের প্রশিক্ষণ পদ্ধতির সমালোচনা করেছেন। তার মতে, কোনো এআই ব্যবস্থাকে মানুষের মতো ইচ্ছা, মূল্যবোধ বা আত্মপরিচয়সম্পন্ন হিসেবে উপস্থাপন করা হলে সেটি নিয়ে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে।

সম্প্রতি প্রকাশিত এক লেখায় সুলেইমান দাবি করেন, এআই সচেতন নয় এবং মানুষের মতো অনুভূতি, অভিজ্ঞতা বা কষ্ট পাওয়ার ক্ষমতাও তার নেই। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এআই মূলত মানুষের দেওয়া নির্দেশনা অনুসরণ করে নির্দিষ্ট কাজ সম্পন্ন করার জন্য তৈরি প্রযুক্তি।

তিনি আরও সতর্ক করেন, এআইকে মানুষের মতো আচরণ করতে শেখানোর পাশাপাশি যদি তাকে অতিরিক্ত স্বাধীনতা দেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে এমন প্রযুক্তি তৈরি হতে পারে, যাকে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে।

এআই ব্যবস্থার আচরণ পর্যবেক্ষণে স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করা এবং শক্তিশালী নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন সুলেইমান। তার মতে, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত থাকা, যার পরিণতি ভবিষ্যতে ভয়াবহ হতে পারে।

এআইয়ের স্বায়ত্তশাসন কতটা থাকা উচিত, তা নিয়ে প্রযুক্তি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মতভেদ বাড়ছে। সুলেইমান এআই ‘অ্যালাইনমেন্ট’-এর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। এই পদ্ধতির লক্ষ্য হলো মানুষের মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও নিরাপত্তার সঙ্গে এআইয়ের আচরণকে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখা।

তিনি মনে করেন, উন্নত এআই ব্যবস্থাকে সবসময় মানবজাতির অধীনস্থ এবং নিয়ন্ত্রণযোগ্য থাকতে হবে। মাইক্রোসফটের প্রস্তাবিত ‘হিউম্যানিস্ট এআই কোড অব কনডাক্ট’-এও একই ধারণা তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে এমন উন্নত এআই তৈরির কথা বলা হয়েছে, যা মানুষের জন্য কাজ করবে, নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকবে এবং মানবনিয়ন্ত্রণের বাইরে যাবে না।

মাইক্রোসফট ২০২৫ সালের অক্টোবরে নিজস্ব সুপারইন্টেলিজেন্স দল গঠন করে। প্রতিষ্ঠানটি উন্নত এআই নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে সুলেইমানের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, এআইয়ের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি এর নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নিয়ন্ত্রণহীন এআই তৈরি করতে পারে ‘সিলিকন প্রজাতি’, সতর্ক করেছেন মাইক্রোসফট এআই বিভাগের প্রধান

Update Time : ০৪:৫৮:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিয়ন্ত্রণহীন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ভবিষ্যতে মানুষের সঙ্গে সম্পদের জন্য প্রতিযোগিতায় নামতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মাইক্রোসফট এআই বিভাগের প্রধান মুস্তাফা সুলেইমান। তার আশঙ্কা, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া উন্নত এআই তৈরি করা হলে তা একসময় মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

বিবিসির ‘টুডে’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সুলেইমান বলেন, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো যদি এমন এআই তৈরি করতে থাকে, যা নিজস্ব লক্ষ্য নির্ধারণ, অর্থ উপার্জন এবং সম্পদের মালিকানা অর্জনে সক্ষম হবে, তাহলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে পারে।

তিনি বলেন, এ ধরনের প্রযুক্তি তৈরি করা মানে কার্যত একটি নতুন ‘সিলিকন প্রজাতির’ বীজ বপন করা। ভবিষ্যতে এই প্রজাতি মানুষের সঙ্গে বিভিন্ন সম্পদের জন্য প্রতিযোগিতায় জড়িয়ে পড়তে পারে। এমনকি এআই মানুষের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব রাখলেও এ ধরনের প্রতিযোগিতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আরও পড়ুন  আজ সকাল থেকে বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়

মাইক্রোসফটের এআই প্রধান বলেন, এআই নিয়ে মানুষের উদ্বিগ্ন হওয়া স্বাভাবিক। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য বাস্তবভিত্তিক কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এআই কীভাবে প্রশিক্ষিত হচ্ছে এবং কীভাবে তার সক্ষমতা যাচাই করা হচ্ছে, সে বিষয়ে আরও স্বচ্ছতা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সুলেইমানের বক্তব্যের কেন্দ্রে রয়েছে এআইকে মানুষের মতো করে দেখার প্রবণতা। তিনি বিশেষভাবে অ্যানথ্রপিকের এআই মডেল ক্লডের প্রশিক্ষণ পদ্ধতির সমালোচনা করেছেন। তার মতে, কোনো এআই ব্যবস্থাকে মানুষের মতো ইচ্ছা, মূল্যবোধ বা আত্মপরিচয়সম্পন্ন হিসেবে উপস্থাপন করা হলে সেটি নিয়ে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে।

সম্প্রতি প্রকাশিত এক লেখায় সুলেইমান দাবি করেন, এআই সচেতন নয় এবং মানুষের মতো অনুভূতি, অভিজ্ঞতা বা কষ্ট পাওয়ার ক্ষমতাও তার নেই। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এআই মূলত মানুষের দেওয়া নির্দেশনা অনুসরণ করে নির্দিষ্ট কাজ সম্পন্ন করার জন্য তৈরি প্রযুক্তি।

আরও পড়ুন  টেলিকম ডাটা সাইবার বিল নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা

তিনি আরও সতর্ক করেন, এআইকে মানুষের মতো আচরণ করতে শেখানোর পাশাপাশি যদি তাকে অতিরিক্ত স্বাধীনতা দেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে এমন প্রযুক্তি তৈরি হতে পারে, যাকে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে।

এআই ব্যবস্থার আচরণ পর্যবেক্ষণে স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করা এবং শক্তিশালী নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন সুলেইমান। তার মতে, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত থাকা, যার পরিণতি ভবিষ্যতে ভয়াবহ হতে পারে।

এআইয়ের স্বায়ত্তশাসন কতটা থাকা উচিত, তা নিয়ে প্রযুক্তি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মতভেদ বাড়ছে। সুলেইমান এআই ‘অ্যালাইনমেন্ট’-এর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। এই পদ্ধতির লক্ষ্য হলো মানুষের মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও নিরাপত্তার সঙ্গে এআইয়ের আচরণকে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখা।

আরও পড়ুন  ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারফেস প্রযুক্তি বদলে দিচ্ছে ভবিষ্যতের বিশ্ব

তিনি মনে করেন, উন্নত এআই ব্যবস্থাকে সবসময় মানবজাতির অধীনস্থ এবং নিয়ন্ত্রণযোগ্য থাকতে হবে। মাইক্রোসফটের প্রস্তাবিত ‘হিউম্যানিস্ট এআই কোড অব কনডাক্ট’-এও একই ধারণা তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে এমন উন্নত এআই তৈরির কথা বলা হয়েছে, যা মানুষের জন্য কাজ করবে, নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকবে এবং মানবনিয়ন্ত্রণের বাইরে যাবে না।

মাইক্রোসফট ২০২৫ সালের অক্টোবরে নিজস্ব সুপারইন্টেলিজেন্স দল গঠন করে। প্রতিষ্ঠানটি উন্নত এআই নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে সুলেইমানের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, এআইয়ের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি এর নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।