ঢাকা ০৪:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টেলিকম ডাটা সাইবার বিল নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা

  • Kamrun Nahar Sumi
  • Update Time : ০৭:৪৩:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫১১

টেলিকম ডাটা সাইবার বিল নিয়ে আয়োজিত সংলাপ | ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের ডিজিটাল ভবিষ্যৎ এবং টেলিকম ডাটা সাইবার বিল নিয়ে রাজধানীতে আয়োজিত এক স্টেকহোল্ডার সংলাপে বিশেষজ্ঞরা গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তাদের মতে, নীতিমালায় ভারসাম্য না থাকলে দেশের দ্রুত বিস্তৃত হওয়া ডিজিটাল অর্থনীতি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।শনিবার রাজধানীর বনানী ক্লাবে আয়োজিত এই সংলাপে প্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তা, নীতিনির্ধারক এবং শিল্প সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আয়োজক ছিল বাংলাদেশ আইসিটি স্টেকহোল্ডারস অ্যালায়েন্স। অনুষ্ঠানে বক্তারা নতুন আইন প্রণয়নের আগে বাস্তবভিত্তিক বিশ্লেষণের ওপর জোর দেন।

বক্তারা বলেন, ডাটা সুরক্ষা এবং সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হলে প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ ও উদ্ভাবন ব্যাহত হতে পারে। ফলে ডিজিটাল অর্থনীতির গতি কমে যেতে পারে।সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাজনীতিবিদ ড. আব্দুল মঈন খান। তিনি বলেন, ডিজিটাল খাতের উন্নয়নের জন্য স্বচ্ছ এবং বাস্তবসম্মত নীতি প্রয়োজন। অন্যথায় উন্নয়নের পরিবর্তে নতুন প্রতিবন্ধকতা তৈরি হতে পারে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি জানান, সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে স্টেকহোল্ডারদের মতামত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।বক্তারা বলেন, টেলিকম ডাটা সাইবার বিল যদি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ না করে, তাহলে বিদেশি বিনিয়োগ কমে যেতে পারে। বিশেষ করে ডাটা প্রাইভেসি নিশ্চিত না হলে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ হারাতে পারে।

প্রযুক্তি উদ্যোক্তারা মনে করেন, একটি ভারসাম্যপূর্ণ নীতিমালা ছাড়া স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম টেকসইভাবে এগিয়ে যেতে পারবে না। সংলাপ থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ উঠে আসে।

  • ডাটা সুরক্ষা আইনকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা
  • টেলিকম ও সাইবার আইনে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ কমানো
  • নীতি প্রণয়নে স্টেকহোল্ডারদের মতামত বাধ্যতামূলক করা
  • আইন প্রয়োগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা

বক্তাদের মতে, এই সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করা হলে দেশের প্রযুক্তি খাত আরও শক্তিশালী হবে।বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতি দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। ই-কমার্স, ফিনটেক, সফটওয়্যার এবং আইটি সেবা খাত দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।তবে একইসঙ্গে ডাটা সুরক্ষা, সাইবার ঝুঁকি এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামোর জটিলতা নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। তাই নতুন আইনগুলো ভবিষ্যৎ ডিজিটাল ইকোসিস্টেম নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

টেলিকম ডাটা সাইবার বিল নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা

Update Time : ০৭:৪৩:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশের ডিজিটাল ভবিষ্যৎ এবং টেলিকম ডাটা সাইবার বিল নিয়ে রাজধানীতে আয়োজিত এক স্টেকহোল্ডার সংলাপে বিশেষজ্ঞরা গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তাদের মতে, নীতিমালায় ভারসাম্য না থাকলে দেশের দ্রুত বিস্তৃত হওয়া ডিজিটাল অর্থনীতি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।শনিবার রাজধানীর বনানী ক্লাবে আয়োজিত এই সংলাপে প্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তা, নীতিনির্ধারক এবং শিল্প সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আয়োজক ছিল বাংলাদেশ আইসিটি স্টেকহোল্ডারস অ্যালায়েন্স। অনুষ্ঠানে বক্তারা নতুন আইন প্রণয়নের আগে বাস্তবভিত্তিক বিশ্লেষণের ওপর জোর দেন।

বক্তারা বলেন, ডাটা সুরক্ষা এবং সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হলে প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ ও উদ্ভাবন ব্যাহত হতে পারে। ফলে ডিজিটাল অর্থনীতির গতি কমে যেতে পারে।সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাজনীতিবিদ ড. আব্দুল মঈন খান। তিনি বলেন, ডিজিটাল খাতের উন্নয়নের জন্য স্বচ্ছ এবং বাস্তবসম্মত নীতি প্রয়োজন। অন্যথায় উন্নয়নের পরিবর্তে নতুন প্রতিবন্ধকতা তৈরি হতে পারে।

আরও পড়ুন  বাঁশ-দড়ি বেয়ে মসজিদে যাওয়া অন্ধ মুয়াজ্জিন আর নেই

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি জানান, সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে স্টেকহোল্ডারদের মতামত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।বক্তারা বলেন, টেলিকম ডাটা সাইবার বিল যদি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ না করে, তাহলে বিদেশি বিনিয়োগ কমে যেতে পারে। বিশেষ করে ডাটা প্রাইভেসি নিশ্চিত না হলে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ হারাতে পারে।

আরও পড়ুন  ৭০৭ মামলার ভার্চুয়াল শুনানি সুপ্রিম কোর্টে

প্রযুক্তি উদ্যোক্তারা মনে করেন, একটি ভারসাম্যপূর্ণ নীতিমালা ছাড়া স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম টেকসইভাবে এগিয়ে যেতে পারবে না। সংলাপ থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ উঠে আসে।

  • ডাটা সুরক্ষা আইনকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা
  • টেলিকম ও সাইবার আইনে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ কমানো
  • নীতি প্রণয়নে স্টেকহোল্ডারদের মতামত বাধ্যতামূলক করা
  • আইন প্রয়োগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা
আরও পড়ুন  বাংলাদেশ স্কোয়াডে নতুন নাম

বক্তাদের মতে, এই সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করা হলে দেশের প্রযুক্তি খাত আরও শক্তিশালী হবে।বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতি দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। ই-কমার্স, ফিনটেক, সফটওয়্যার এবং আইটি সেবা খাত দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।তবে একইসঙ্গে ডাটা সুরক্ষা, সাইবার ঝুঁকি এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামোর জটিলতা নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। তাই নতুন আইনগুলো ভবিষ্যৎ ডিজিটাল ইকোসিস্টেম নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।