ঢাকা ১০:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo প্রিপেইড মিটার চার্জ বাতিল ২০২৬: গ্রাহকদের বড় স্বস্তির ঘোষণা Logo আমির খানের বিয়ে: গৌরীর সঙ্গে নতুন অধ্যায়ের প্রস্তুতি Logo তাপপ্রবাহ পূর্বাভাস: জুনজুড়ে গরম ও কম বৃষ্টির বিশেষ চিত্র Logo ওয়ালটন চাকরি ২০২৬: সিনিয়র এক্সিকিউটিভ পদে আবেদন অনলাইনে Logo লাইভ শপিং চাকরি সার্কুলার: আকর্ষণীয় বেতনে নিয়োগের সুযোগ Logo সাগর-রুনি হত্যা তদন্তে নতুন জটিলতা, খুঁজে মিলছে না কর্মকর্তাদের Logo হাম মৃত্যু ছাড়াল ৬০০, নতুন আক্রান্ত আরও ৫৫ Logo আর্জেন্টিনা নয়, ব্রাজিলও নয়; সবচেয়ে দামি দল ফ্রান্স Logo সুন্দরবন ভ্রমণ প্যাকেজ: খরচ, দর্শনীয় স্থান ও পূর্ণ গাইড Logo খুরশিদ আলম ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান, স্ত্রীর ঋণ খেলাপি হওয়া বাধা নয়: বাংলাদেশ ব্যাংক

আখাউড়ায় যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীর চুল কেটে নির্যাতন

আখাউড়ায় যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীর চুল কেটে নির্যাতন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূর ওপর নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। শুধু মারধরই নয়, তার চুল কেটে দেওয়া এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার (৫ মে) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার উত্তর ইউনিয়নের রামধননগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত গৃহবধূ মীম আক্তার বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর পরিবারের বরাত দিয়ে জানা যায়, মীম আক্তারের সঙ্গে একই এলাকার দিনু মিয়ার বিয়ে হয় কয়েক বছর আগে। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময় যৌতুকের দাবিতে তাকে চাপ প্রয়োগ করা হতো বলে অভিযোগ। সম্প্রতি ব্যবসার কথা বলে ৫ লাখ টাকা দাবি করেন স্বামী দিনু মিয়া। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওই টাকা বাবার বাড়ি থেকে এনে দিতে না পারায় মীম আক্তারের ওপর নির্যাতন শুরু হয়।

মীম আক্তার অভিযোগ করেন, ঘটনার দিন সকালে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে স্বামী দিনু মিয়া তাকে মারধর শুরু করেন। পরে ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গাল ও হাতে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানান তিনি।

এতেই শেষ নয়, নির্যাতনের এক পর্যায়ে শাশুড়ির সহযোগিতায় তার মাথার চুল কেটে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন মীম আক্তার। এমন অমানবিক ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবেশীরা জানান, চিৎকার শুনে তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং গুরুতর আহত অবস্থায় মীমকে উদ্ধার করেন।

পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাকে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, বিয়ের পর থেকেই মীমকে নানা অজুহাতে নির্যাতন করা হতো। যৌতুকের টাকা না পেয়ে এই নির্যাতনের মাত্রা দিন দিন বাড়ছিল। তারা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে, অভিযুক্ত স্বামী দিনু মিয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ উল ইসলাম বলেন, এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগ পেলে ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, এমন ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নারী নির্যাতন ও যৌতুকের মতো সামাজিক ব্যাধি রোধে আইন থাকলেও বাস্তবে এ ধরনের ঘটনা এখনো ঘটছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যৌতুকের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।

এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে, পারিবারিক সহিংসতা ও যৌতুকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রিপেইড মিটার চার্জ বাতিল ২০২৬: গ্রাহকদের বড় স্বস্তির ঘোষণা

আখাউড়ায় যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীর চুল কেটে নির্যাতন

Update Time : ১০:২০:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূর ওপর নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। শুধু মারধরই নয়, তার চুল কেটে দেওয়া এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার (৫ মে) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার উত্তর ইউনিয়নের রামধননগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত গৃহবধূ মীম আক্তার বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর পরিবারের বরাত দিয়ে জানা যায়, মীম আক্তারের সঙ্গে একই এলাকার দিনু মিয়ার বিয়ে হয় কয়েক বছর আগে। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময় যৌতুকের দাবিতে তাকে চাপ প্রয়োগ করা হতো বলে অভিযোগ। সম্প্রতি ব্যবসার কথা বলে ৫ লাখ টাকা দাবি করেন স্বামী দিনু মিয়া। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওই টাকা বাবার বাড়ি থেকে এনে দিতে না পারায় মীম আক্তারের ওপর নির্যাতন শুরু হয়।

আরও পড়ুন  শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির বড় বরাদ্দের ঘোষণা

মীম আক্তার অভিযোগ করেন, ঘটনার দিন সকালে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে স্বামী দিনু মিয়া তাকে মারধর শুরু করেন। পরে ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গাল ও হাতে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানান তিনি।

এতেই শেষ নয়, নির্যাতনের এক পর্যায়ে শাশুড়ির সহযোগিতায় তার মাথার চুল কেটে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন মীম আক্তার। এমন অমানবিক ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবেশীরা জানান, চিৎকার শুনে তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং গুরুতর আহত অবস্থায় মীমকে উদ্ধার করেন।

আরও পড়ুন  শিক্ষার্থীদের ৬ হাজার টাকা ভর্তি সহায়তা দেবে সরকার | আবেদন শুরু ১২ এপ্রিল

পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাকে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, বিয়ের পর থেকেই মীমকে নানা অজুহাতে নির্যাতন করা হতো। যৌতুকের টাকা না পেয়ে এই নির্যাতনের মাত্রা দিন দিন বাড়ছিল। তারা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে, অভিযুক্ত স্বামী দিনু মিয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ উল ইসলাম বলেন, এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগ পেলে ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, এমন ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন  তনু হত্যা মামলায় প্রথম গ্রেফতার আদালতে

নারী নির্যাতন ও যৌতুকের মতো সামাজিক ব্যাধি রোধে আইন থাকলেও বাস্তবে এ ধরনের ঘটনা এখনো ঘটছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যৌতুকের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।

এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে, পারিবারিক সহিংসতা ও যৌতুকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব বলে মনে করছেন সচেতন মহল।