রোহিঙ্গা শ্রমিক অপহরণ অভিযোগে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায়। স্থানীয়দের দাবি, বাইশারী ইউনিয়নের আলীক্ষ্যং মৌজার বড়ইঝিরি এলাকার একটি রাবার বাগানে কাজ করার সময় ছয়জন রোহিঙ্গা শ্রমিককে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত তুলে নিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই শ্রমিকদের সহকর্মীরা বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানালে এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। তবে এ ঘটনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে অপহরণের কারণ বা জড়িতদের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বড়ইঝিরি এলাকা পাহাড়ি ও দুর্গম হওয়ায় সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর নিয়মিত টহল পরিচালনা তুলনামূলক কঠিন। সীমান্তঘেঁষা এই অঞ্চলে অতীতেও অপহরণ, মাদক পাচার এবং মানবপাচারের মতো অপরাধের অভিযোগ উঠে এসেছে। রোহিঙ্গা শ্রমিক অপহরণ–এর সর্বশেষ এই অভিযোগের পর স্থানীয় বাসিন্দা ও রাবার বাগানের শ্রমিকদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। অনেকেই নিরাপত্তার অভাবে কাজে যেতে শঙ্কা প্রকাশ করছেন।
ঘটনার খবর পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত শুরু করেছে। সম্ভাব্য অবস্থান শনাক্ত করতে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে এবং অপহৃতদের উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবাইকে গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং আনুষ্ঠানিক তথ্যের জন্য অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে।
এখন পর্যন্ত রোহিঙ্গা শ্রমিক অপহরণ–এর কারণ নিশ্চিত না হলেও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তবর্তী এলাকায় অতীতে মুক্তিপণ আদায়, অপরাধী চক্রের আধিপত্য বিস্তার এবং অন্যান্য সংঘবদ্ধ অপরাধকে কেন্দ্র করে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে এই নির্দিষ্ট ঘটনার পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সব দিক বিবেচনায় রেখেই তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ চৌকি স্থাপন, পাহাড়ি এলাকায় নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হলে এ ধরনের ঘটনা কমে আসতে পারে। পাশাপাশি রাবার বাগান ও পাহাড়ি এলাকায় কর্মরত শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তারা। রোহিঙ্গা শ্রমিক অপহরণ–এর ঘটনার পর প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্তসংলগ্ন একটি স্পর্শকাতর এলাকা হিসেবে পরিচিত। তাই এই ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষে অপহরণের প্রকৃত কারণ, জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং অপহৃত শ্রমিকদের অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ততক্ষণ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক তথ্যের ওপর নির্ভর করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


























