নেত্রকোনার মদনে পাচারের সময় দুটি হ্যান্ডট্রলিভর্তি প্রায় ১০০ বস্তা সরকারি চাল জব্দ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মামুন মিয়া (২৮) ও আকারউল্লাহ নামে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মদন-তিয়শ্রী সড়কের রুদ্রশ্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকা থেকে চালগুলো জব্দ করা হয়।
আটক দুজনই মদন উপজেলার দেওসহিলা গ্রামের বাসিন্দা। তারা হ্যান্ডট্রলির চালক বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিন ধরে মদন উপজেলায় দুস্থ ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সরকারি বরাদ্দের ওএমএসের চাল বিতরণ করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, সুবিধাভোগীদের কেউ কেউ সরকারি চাল পাওয়ার পর তা নিজেরা ব্যবহার না করে কম দামে অন্যদের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছেন। পরে একটি পক্ষ এসব চাল সংগ্রহ করে অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছে।
শুক্রবার সকালে দুটি হ্যান্ডট্রলিতে করে বিপুল পরিমাণ চাল নেত্রকোনা উপজেলা সদরের দিকে নেওয়া হচ্ছিল। এ সময় স্থানীয় কয়েকজনের সন্দেহ হলে তারা হ্যান্ডট্রলি দুটি আটকে পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে মদন থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হ্যান্ডট্রলি দুটিতে তল্লাশি চালায়। এ সময় প্রায় ১০০ বস্তা সরকারি চাল পাওয়া যায়। পরে পুলিশ চালগুলো জব্দ করে থানায় নিয়ে যায় এবং হ্যান্ডট্রলির দুই চালককে আটক করে।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা জানান, জব্দ করা চালগুলো কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং কার মাধ্যমে এসব চাল অন্যত্র নেওয়া হচ্ছিল, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সরকারি চাল পাওয়ার পর কোনো সুবিধাভোগী তা বিক্রি করে থাকলে তার কারণও খতিয়ে দেখা দরকার।
তাদের মতে, সরকারি খাদ্য সহায়তা প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায় মানুষের কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে বিতরণব্যবস্থায় নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। পাশাপাশি সুবিধাভোগীদের তালিকাও নিয়মিত যাচাই করা দরকার।
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহউদ্দীন করিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, উপজেলার ফতেপুর গ্রামের দিক থেকে সরকারি চালবোঝাই দুটি হ্যান্ডট্রলি মদন উপজেলা সদরের দিকে আসছে—এমন খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালায়। পরে রুদ্রশ্রী এলাকায় হ্যান্ডট্রলি দুটি আটক করে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় প্রায় ১০০ বস্তা সরকারি চাল জব্দ এবং দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, জব্দ করা চালের উৎস ও কোথায় নেওয়া হচ্ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় সরকারি খাদ্য সহায়তার চালের অপব্যবহার বা পাচারের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তদন্তের মাধ্যমে তা বের করার চেষ্টা চলছে।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। সরকারি বরাদ্দের চাল যাতে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছেই পৌঁছায় এবং কোনোভাবেই তা অন্যত্র পাচার বা বেচাকেনা না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।




























