পশ্চিম তীরের হেবরনের উত্তরে হালহুল এলাকায় একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন ফিলিস্তিনি আঙুরবাগান থেকে আঙুর নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের একটি পরিবারের বিরুদ্ধে। শুক্রবার সকালে শিশুদের সঙ্গে নিয়ে ওই পরিবারকে বাগানে প্রবেশ করে আঙুর সংগ্রহ করতে দেখা যায়। ঘটনাটি সেখানে উপস্থিত ইসরায়েলি অধিকারকর্মীরা ভিডিও ধারণ করেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিলিস্তিনি কৃষকদের সহায়তা করতে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন ‘Reservists Against Terror’ নামের একটি ইসরায়েলি অধিকারকর্মী দল। তাদের সদস্যরা দেখতে পান, বসতি স্থাপনকারী পরিবারের সদস্যরা বাগান থেকে আঙুর সংগ্রহ করে বাক্সে তুলছেন। পরে ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।
অধিকারকর্মী আভিয়াদ হোমিনার-রোজেনব্লুম জানান, ঘটনাস্থলে কিছুক্ষণ পর ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর একটি গাড়ি আসে। সেনাবাহিনী এলাকাটিকে ‘বন্ধ সামরিক এলাকা’ হিসেবে উল্লেখ করে সেখানে থাকা ফিলিস্তিনি জমির মালিক ও অধিকারকর্মীদের চলে যেতে নির্দেশ দেয়। তবে অভিযোগ ওঠা বসতি স্থাপনকারীদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়নি।
অধিকারকর্মীদের বক্তব্য অনুযায়ী, বসতি স্থাপনকারীরা পরে নিজেরাই ঘটনাস্থল ছেড়ে যায়। তাদের চলে যাওয়ার পর অধিকারকর্মীরা আবার এলাকায় ফিরে এসে দেখতে পান, তাদের ব্যবহৃত গাড়ির কয়েকটি টায়ার ফুটো করে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী বা আইডিএফের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং অধিকারকর্মীদের গাড়ির টায়ার ফুটো করার অভিযোগের বিষয়ে সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিক অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়।
হালহুল এলাকায় ফিলিস্তিনি কৃষিজমি ও আঙুরবাগান নিয়ে বসতি স্থাপনকারীদের সঙ্গে বিরোধ নতুন নয়। চলতি বছরের জুলাইয়ে একই এলাকায় আল-জানাজরা পরিবারের একটি আঙুরবাগানে হামলার অভিযোগ ওঠে। স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই ঘটনায় প্রায় ৪ হাজার কেজি আঙুর নষ্ট করা হয়েছিল। কৃষকদের অভিযোগ, আঙুরবাগানের সেচব্যবস্থা ও পানির ট্যাংকও বিভিন্ন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে।
পশ্চিম তীরে কৃষিজমি ও ফসলকে কেন্দ্র করে বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে হামলা, ফসল নষ্ট, গাছ কেটে ফেলা এবং কৃষকদের জমিতে প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ বিভিন্ন সময় সামনে এসেছে। এসব ঘটনায় ফিলিস্তিনি কৃষকদের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ আরও তীব্র হচ্ছে।
সাম্প্রতিক এই ঘটনাটি এমন সময়ে সামনে এলো, যখন পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ও ফিলিস্তিনি কৃষকদের ওপর চাপ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আঙুরবাগানগুলো স্থানীয় অনেক পরিবারের আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হওয়ায় ফসলের ক্ষতি বা চুরি কৃষকদের ওপর সরাসরি অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলে।





























