ঢাকা ০১:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

ঢাকায় গির্জায় লুট: ফাদারের হাত-পা বেঁধে আড়াই লাখ টাকা লুট, গ্রেপ্তার ৩

  • Masura Akter Shumaya
  • Update Time : ০৮:৪১:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬
  • ৫০৮

ঢাকায় গির্জায় লুট ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামিদের সংবাদ সম্মেলনে হাজির করা হয়।

ঢাকায় গির্জায় লুট ঘটনায় বারিধারার গির্জায় ঢুকে ফাদারের হাত-পা বেঁধে আড়াই লাখ টাকা লুট করে দুর্বৃত্তরা। ঢাকায় গির্জায় লুট ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ঢাকায় গির্জায় লুট ঘটনায় রাজধানীর বারিধারা এলাকায় গভীর রাতে এক চাঞ্চল্যকর দস্যুতার ঘটনা ঘটেছে, যা নগরবাসীর মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। গত ২৮ এপ্রিল দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ‘ডি মাজেন্ড গির্জা’তে ঢুকে দুর্বৃত্তরা গির্জার পরিচালক ফাদার সুবাস পুলক গোমেজের হাত-পা ও মুখ বেঁধে আড়াই লাখ টাকা, পাসপোর্ট এবং গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র লুট করে নিয়ে যায়। এই ঢাকায় গির্জায় লুট ঘটনা শুধু একটি সাধারণ চুরির ঘটনা নয়, বরং এটি একটি পরিকল্পিত দস্যুতা হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। গির্জার নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ, কর্মচারীদের কক্ষ বাইরে থেকে বন্ধ করে দেওয়া এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ সবকিছু মিলিয়ে ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর হয়ে ওঠে এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত শুরু করে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকায় গির্জায় লুট ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন আবুল হোসেন রতন (হাবু), মোহাম্মদ নিজাম (মিজান) এবং আক্তার হোসেন (মনা)। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে ২ লাখ ৪৮ হাজার টাকা, একটি পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং গ্রিল কাটার সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। তদন্তে জানা গেছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে মাদক এবং অনলাইন জুয়ায় আসক্ত ছিল। দ্রুত অর্থের প্রয়োজন মেটাতে তারা এই অপরাধমূলক পরিকল্পনা করে। এই ঢাকায় গির্জায় লুট মামলায় পুলিশের প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত বিশেষ ভূমিকা রাখে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজনদের গতিবিধি শনাক্ত করা হয়, যা শেষ পর্যন্ত তাদের গ্রেপ্তারে সহায়তা করে।

ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে পুলিশের গুলশান বিভাগের উপকমিশনার এম তানভীর আহমেদ জানান, ঢাকায় গির্জায় লুট ঘটনার রাতে দুইজন মুখোশধারী ব্যক্তি গির্জার দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা প্রথমে কর্মচারীদের কক্ষ বাইরে থেকে আটকে দেয়, যাতে কেউ বাধা দিতে না পারে। এরপর ফাদারের অফিস রুমের গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকে তাঁকে বেঁধে ফেলে এবং আলমারি থেকে নগদ টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র লুট করে। বাইরে আরেকজন সহযোগী ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ে অপেক্ষা করছিল, যার মাধ্যমে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরবর্তীতে পুলিশ ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ও লক্ষ্মীপুরের দুর্গম চরাঞ্চলে অভিযান চালিয়ে একে একে সকল আসামিকে গ্রেপ্তার করে। এই ঢাকায় গির্জায় লুট ঘটনা প্রমাণ করে অপরাধীরা কতটা সংগঠিতভাবে অপরাধ সংঘটিত করতে পারে।

পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে, যা তাদের অপরাধপ্রবণতার প্রমাণ বহন করে। ঢাকায় গির্জায় লুট ঘটনায় তারা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। আদালতে হাজির করার পর তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের ধারণা, এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকতে পারে, যা তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ইস্টার সানডের সময় গির্জায় অর্থের উপস্থিতি থাকবে এই ধারণা থেকেই তারা এই পরিকল্পনা করে। এই ঢাকায় গির্জায় লুট ঘটনা রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আকিজ গ্রুপে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি : হিসাবরক্ষক পদে চাকরির সুযোগ, সাথে আবাসন সুবিধা

ঢাকায় গির্জায় লুট: ফাদারের হাত-পা বেঁধে আড়াই লাখ টাকা লুট, গ্রেপ্তার ৩

Update Time : ০৮:৪১:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

ঢাকায় গির্জায় লুট ঘটনায় বারিধারার গির্জায় ঢুকে ফাদারের হাত-পা বেঁধে আড়াই লাখ টাকা লুট করে দুর্বৃত্তরা। ঢাকায় গির্জায় লুট ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ঢাকায় গির্জায় লুট ঘটনায় রাজধানীর বারিধারা এলাকায় গভীর রাতে এক চাঞ্চল্যকর দস্যুতার ঘটনা ঘটেছে, যা নগরবাসীর মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। গত ২৮ এপ্রিল দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ‘ডি মাজেন্ড গির্জা’তে ঢুকে দুর্বৃত্তরা গির্জার পরিচালক ফাদার সুবাস পুলক গোমেজের হাত-পা ও মুখ বেঁধে আড়াই লাখ টাকা, পাসপোর্ট এবং গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র লুট করে নিয়ে যায়। এই ঢাকায় গির্জায় লুট ঘটনা শুধু একটি সাধারণ চুরির ঘটনা নয়, বরং এটি একটি পরিকল্পিত দস্যুতা হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। গির্জার নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ, কর্মচারীদের কক্ষ বাইরে থেকে বন্ধ করে দেওয়া এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ সবকিছু মিলিয়ে ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর হয়ে ওঠে এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত শুরু করে।

আরও পড়ুন  রাজধানীতে সাঁড়াশি অভিযানে গ্রেপ্তার ৫৬ জন

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকায় গির্জায় লুট ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন আবুল হোসেন রতন (হাবু), মোহাম্মদ নিজাম (মিজান) এবং আক্তার হোসেন (মনা)। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে ২ লাখ ৪৮ হাজার টাকা, একটি পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং গ্রিল কাটার সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। তদন্তে জানা গেছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে মাদক এবং অনলাইন জুয়ায় আসক্ত ছিল। দ্রুত অর্থের প্রয়োজন মেটাতে তারা এই অপরাধমূলক পরিকল্পনা করে। এই ঢাকায় গির্জায় লুট মামলায় পুলিশের প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত বিশেষ ভূমিকা রাখে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজনদের গতিবিধি শনাক্ত করা হয়, যা শেষ পর্যন্ত তাদের গ্রেপ্তারে সহায়তা করে।

আরও পড়ুন  কান্না থামা, নাইলে মাইরা ফালামু’ বলে বাচ্চার মুখ চেপে ধরে হত্যার অভিযোগ

ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে পুলিশের গুলশান বিভাগের উপকমিশনার এম তানভীর আহমেদ জানান, ঢাকায় গির্জায় লুট ঘটনার রাতে দুইজন মুখোশধারী ব্যক্তি গির্জার দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা প্রথমে কর্মচারীদের কক্ষ বাইরে থেকে আটকে দেয়, যাতে কেউ বাধা দিতে না পারে। এরপর ফাদারের অফিস রুমের গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকে তাঁকে বেঁধে ফেলে এবং আলমারি থেকে নগদ টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র লুট করে। বাইরে আরেকজন সহযোগী ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ে অপেক্ষা করছিল, যার মাধ্যমে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরবর্তীতে পুলিশ ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ও লক্ষ্মীপুরের দুর্গম চরাঞ্চলে অভিযান চালিয়ে একে একে সকল আসামিকে গ্রেপ্তার করে। এই ঢাকায় গির্জায় লুট ঘটনা প্রমাণ করে অপরাধীরা কতটা সংগঠিতভাবে অপরাধ সংঘটিত করতে পারে।

আরও পড়ুন  নেত্রকোণায় এমপির গাড়িতে হামলার অভিযোগ, উত্তেজনা এলাকায়

পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে, যা তাদের অপরাধপ্রবণতার প্রমাণ বহন করে। ঢাকায় গির্জায় লুট ঘটনায় তারা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। আদালতে হাজির করার পর তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের ধারণা, এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকতে পারে, যা তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ইস্টার সানডের সময় গির্জায় অর্থের উপস্থিতি থাকবে এই ধারণা থেকেই তারা এই পরিকল্পনা করে। এই ঢাকায় গির্জায় লুট ঘটনা রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে।