ঢাকা ১২:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক আফজাল নাছের ৩ দিনের রিমান্ডে

  • Asrafi Al Nahin
  • Update Time : ০৮:১৭:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬
  • ৫১৪

ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক আফজাল নাছের ৩ দিনের রিমান্ডে

ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আফজাল নাছেরকে আবারও রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ঢাকার উত্তরা পূর্ব থানায় দায়ের হওয়া মাহমুদুল হাসান হত্যা মামলায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চতুর্থ দফায় তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে। শনিবার (২ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ডের আবেদন করলে তা শুনানি শেষে আংশিক মঞ্জুর করেন বিচারক। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক শামীম হোসেন। এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করলেও আদালত তা নাকচ করেন।

মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, আফজাল নাছের ২০০৬ সালের মার্চ থেকে ২০০৮ সালের মার্চ পর্যন্ত ডিজিএফআইয়ের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ সময় পর চলতি বছরের ২৯ মার্চ রাতে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকা থেকে তাকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরদিন তাকে একটি পৃথক মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয় এবং আদালত তাকে প্রথম দফায় ছয় দিনের রিমান্ডে পাঠান।

পরবর্তীতে বিভিন্ন হত্যা মামলায় তার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাওয়ার দাবি তুলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একাধিকবার রিমান্ডের আবেদন করে। বিএনপি কর্মী মকবুল হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন ঘটনায় তাকে মোট ১১ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। এছাড়া দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় গত ১৭ ও ২০ এপ্রিল পৃথক দুই দফায় তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

একই ধারাবাহিকতায় মাহমুদুল হাসান হত্যা মামলায়ও একাধিকবার রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে আফজাল নাছেরকে। গত ২৩ এপ্রিল চার দিন, ২৭ এপ্রিল দুই দিন এবং ২৯ এপ্রিল তিন দিনের রিমান্ড শেষে শনিবার তাকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পূর্ব থানার এসআই মোহাম্মদ আশরাফুল আলম আরও সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন মাহমুদুল হাসান। ওইদিন বিকেল সাড়ে চারটার দিকে উত্তরা পূর্ব থানার আওতাধীন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের আজমপুর ফুটওভার ব্রিজের নিচে পৌঁছালে আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে গুলিবিদ্ধ হন মাহমুদুল।

পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর উত্তরা পূর্ব থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, ঘটনাটির পেছনে কারা জড়িত তা উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং আফজাল নাছেরের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের দাবি—তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং তাকে হয়রানিমূলকভাবে বারবার রিমান্ডে নেওয়া হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আলোচিত এ মামলাটি দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সঙ্গে জড়িত হওয়ায় এটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। ফলে তদন্তের অগ্রগতি ও আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর সবার নজর রয়েছে।

এই মামলার পরবর্তী কার্যক্রম কীভাবে এগোয় এবং তদন্তে নতুন কোনো তথ্য উঠে আসে কি না, তা নিয়ে জনমনে কৌতূহল বাড়ছে। রিমান্ড শেষে তাকে আবারও আদালতে হাজির করা হবে বলে জানা গেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আকিজ গ্রুপে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি : হিসাবরক্ষক পদে চাকরির সুযোগ, সাথে আবাসন সুবিধা

ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক আফজাল নাছের ৩ দিনের রিমান্ডে

Update Time : ০৮:১৭:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আফজাল নাছেরকে আবারও রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ঢাকার উত্তরা পূর্ব থানায় দায়ের হওয়া মাহমুদুল হাসান হত্যা মামলায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চতুর্থ দফায় তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে। শনিবার (২ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ডের আবেদন করলে তা শুনানি শেষে আংশিক মঞ্জুর করেন বিচারক। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক শামীম হোসেন। এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করলেও আদালত তা নাকচ করেন।

মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, আফজাল নাছের ২০০৬ সালের মার্চ থেকে ২০০৮ সালের মার্চ পর্যন্ত ডিজিএফআইয়ের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ সময় পর চলতি বছরের ২৯ মার্চ রাতে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকা থেকে তাকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরদিন তাকে একটি পৃথক মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয় এবং আদালত তাকে প্রথম দফায় ছয় দিনের রিমান্ডে পাঠান।

আরও পড়ুন  জীবননগরে তেল পাম্পে বিশৃঙ্খলা, ৩ জনকে জরিমানা

পরবর্তীতে বিভিন্ন হত্যা মামলায় তার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাওয়ার দাবি তুলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একাধিকবার রিমান্ডের আবেদন করে। বিএনপি কর্মী মকবুল হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন ঘটনায় তাকে মোট ১১ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। এছাড়া দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় গত ১৭ ও ২০ এপ্রিল পৃথক দুই দফায় তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

একই ধারাবাহিকতায় মাহমুদুল হাসান হত্যা মামলায়ও একাধিকবার রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে আফজাল নাছেরকে। গত ২৩ এপ্রিল চার দিন, ২৭ এপ্রিল দুই দিন এবং ২৯ এপ্রিল তিন দিনের রিমান্ড শেষে শনিবার তাকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পূর্ব থানার এসআই মোহাম্মদ আশরাফুল আলম আরও সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আরও পড়ুন  বেইলি রোডের আগুনের ঘটনায় ১৩ পলাতক আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন মাহমুদুল হাসান। ওইদিন বিকেল সাড়ে চারটার দিকে উত্তরা পূর্ব থানার আওতাধীন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের আজমপুর ফুটওভার ব্রিজের নিচে পৌঁছালে আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে গুলিবিদ্ধ হন মাহমুদুল।

পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর উত্তরা পূর্ব থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

আরও পড়ুন  তিন মাসে ৮৫৪ খুন বাংলাদেশে হত্যাকাণ্ড বাড়ছে

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, ঘটনাটির পেছনে কারা জড়িত তা উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং আফজাল নাছেরের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের দাবি—তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং তাকে হয়রানিমূলকভাবে বারবার রিমান্ডে নেওয়া হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আলোচিত এ মামলাটি দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সঙ্গে জড়িত হওয়ায় এটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। ফলে তদন্তের অগ্রগতি ও আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর সবার নজর রয়েছে।

এই মামলার পরবর্তী কার্যক্রম কীভাবে এগোয় এবং তদন্তে নতুন কোনো তথ্য উঠে আসে কি না, তা নিয়ে জনমনে কৌতূহল বাড়ছে। রিমান্ড শেষে তাকে আবারও আদালতে হাজির করা হবে বলে জানা গেছে।