ঢাকা ১০:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দাম বাড়ার পর আজ সোনার ভরি কত?

বাজুস ঘোষিত নতুন সোনার দাম।

সোনার বাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি এবং স্থানীয় বাজারে কাঁচা স্বর্ণের আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে। নতুন এই মূল্য কার্যকর হওয়ার পর দেশের বাজারে প্রতি ভরি সোনা কিনতে ক্রেতাদের আগের তুলনায় আরও বেশি অর্থ ব্যয় করতে হবে।

সর্বশেষ ঘোষিত মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম ১ লাখ ৯৬ হাজার ৩৩৬ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪১০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি ১ লাখ ৬০ হাজার ৬৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৩২ হাজার ৭৯১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই দর কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে সংশোধিত মূল্য অনুযায়ী স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে।

বাজুস জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের ওঠানামা, মার্কিন ডলারের বিনিময় হার, আমদানি ব্যয়, পরিশোধিত স্বর্ণের সরবরাহ এবং স্থানীয় বাজারের চাহিদা-যোগানের বিষয়গুলো বিবেচনা করে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের মূল্য বাড়লে তার প্রভাব সাধারণত বাংলাদেশের বাজারেও পড়ে।

তবে ক্রেতাদের মনে রাখতে হবে, ঘোষিত এই দাম শুধুমাত্র স্বর্ণের মূল মূল্য। গয়না কেনার সময় এর সঙ্গে মেকিং চার্জ (কারিগরি খরচ), ৫ শতাংশ ভ্যাট (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) এবং প্রতিষ্ঠানভেদে অন্যান্য সেবামূল্য যুক্ত হতে পারে। ফলে একই ওজনের গয়নার দাম এক দোকান থেকে অন্য দোকানে কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিয়ের মৌসুম, উৎসব কিংবা বিনিয়োগের আগ্রহ বাড়লে স্বর্ণের চাহিদা বেড়ে যায়। আবার বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ ক্রয় বৃদ্ধি এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার সময়ও আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম বাড়তে দেখা যায়। এসব কারণের সরাসরি প্রভাব দেশের বাজারেও পড়ে।

অন্যদিকে, পুরোনো সোনা বিক্রি বা এক্সচেঞ্জ করার ক্ষেত্রেও প্রতিটি জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নীতিমালা থাকে। তাই পুরোনো গয়না বিক্রি বা বদল করার আগে একাধিক প্রতিষ্ঠানের মূল্য যাচাই করা ভালো। এতে ন্যায্য মূল্য পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

আপনি যদি নতুন গয়না কেনার পরিকল্পনা করে থাকেন, তাহলে কেনার আগে অবশ্যই বাজুস অনুমোদিত জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান থেকে হালনাগাদ মূল্য যাচাই করুন। পাশাপাশি গয়নার রসিদ, ক্যারেটের মান, হলমার্ক এবং ওজন ভালোভাবে পরীক্ষা করে নিন। এতে ভবিষ্যতে বিক্রি বা পরিবর্তনের সময় কোনো জটিলতায় পড়তে হবে না।

বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতেও সোনার দামে ওঠানামা হতে পারে। তাই বিনিয়োগ বা গয়না কেনার আগে সর্বশেষ মূল্য যাচাই করাই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

জনপ্রিয় সংবাদ

দাম বাড়ার পর আজ সোনার ভরি কত?

Update Time : ০৯:০৫:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

সোনার বাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি এবং স্থানীয় বাজারে কাঁচা স্বর্ণের আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে। নতুন এই মূল্য কার্যকর হওয়ার পর দেশের বাজারে প্রতি ভরি সোনা কিনতে ক্রেতাদের আগের তুলনায় আরও বেশি অর্থ ব্যয় করতে হবে।

সর্বশেষ ঘোষিত মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম ১ লাখ ৯৬ হাজার ৩৩৬ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪১০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি ১ লাখ ৬০ হাজার ৬৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৩২ হাজার ৭৯১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই দর কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে সংশোধিত মূল্য অনুযায়ী স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে।

আরও পড়ুন  অক্টোবর–ডিসেম্বরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি নেমে ৩ শতাংশে, বৈশ্বিক সংকটে বাড়ছে দুশ্চিন্তা

বাজুস জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের ওঠানামা, মার্কিন ডলারের বিনিময় হার, আমদানি ব্যয়, পরিশোধিত স্বর্ণের সরবরাহ এবং স্থানীয় বাজারের চাহিদা-যোগানের বিষয়গুলো বিবেচনা করে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের মূল্য বাড়লে তার প্রভাব সাধারণত বাংলাদেশের বাজারেও পড়ে।

তবে ক্রেতাদের মনে রাখতে হবে, ঘোষিত এই দাম শুধুমাত্র স্বর্ণের মূল মূল্য। গয়না কেনার সময় এর সঙ্গে মেকিং চার্জ (কারিগরি খরচ), ৫ শতাংশ ভ্যাট (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) এবং প্রতিষ্ঠানভেদে অন্যান্য সেবামূল্য যুক্ত হতে পারে। ফলে একই ওজনের গয়নার দাম এক দোকান থেকে অন্য দোকানে কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।

আরও পড়ুন  আজকের স্বর্ণ ও রুপার দাম, কত কমলো সোনার মূল্য?

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিয়ের মৌসুম, উৎসব কিংবা বিনিয়োগের আগ্রহ বাড়লে স্বর্ণের চাহিদা বেড়ে যায়। আবার বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ ক্রয় বৃদ্ধি এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার সময়ও আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম বাড়তে দেখা যায়। এসব কারণের সরাসরি প্রভাব দেশের বাজারেও পড়ে।

অন্যদিকে, পুরোনো সোনা বিক্রি বা এক্সচেঞ্জ করার ক্ষেত্রেও প্রতিটি জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নীতিমালা থাকে। তাই পুরোনো গয়না বিক্রি বা বদল করার আগে একাধিক প্রতিষ্ঠানের মূল্য যাচাই করা ভালো। এতে ন্যায্য মূল্য পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

আরও পড়ুন  লাগামহীন বাজার দর : মাছ, মুরগি , সবজি ও তেলের দাম বাড়ায় দিশেহারা সাধারণ মানুষ।

আপনি যদি নতুন গয়না কেনার পরিকল্পনা করে থাকেন, তাহলে কেনার আগে অবশ্যই বাজুস অনুমোদিত জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান থেকে হালনাগাদ মূল্য যাচাই করুন। পাশাপাশি গয়নার রসিদ, ক্যারেটের মান, হলমার্ক এবং ওজন ভালোভাবে পরীক্ষা করে নিন। এতে ভবিষ্যতে বিক্রি বা পরিবর্তনের সময় কোনো জটিলতায় পড়তে হবে না।

বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতেও সোনার দামে ওঠানামা হতে পারে। তাই বিনিয়োগ বা গয়না কেনার আগে সর্বশেষ মূল্য যাচাই করাই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।