ঢাকা ০২:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কায়িক পরিশ্রম কমছে, বাড়ছে রোগের ভয়াবহ ঝুঁকি

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০১:২২:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫১৫

নিয়মিত হাঁটা ও শরীরচর্চা সুস্থ থাকতে সহায়তা করে। | ছবি: সংগৃহীত

কায়িক পরিশ্রম কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আধুনিক জীবন যেন ধীরে ধীরে মানুষকে চেয়ারে বসিয়ে দিচ্ছে। অফিসে দীর্ঘসময় বসে থাকা, গাড়ি-লিফটে চলাফেরা, অবসর সময়ে মোবাইল ও টেলিভিশনে ডুবে থাকা—সব মিলিয়ে দৈনন্দিন জীবনে শরীরের স্বাভাবিক নড়াচড়া কমছে। এর ফলও এখন স্পষ্ট। হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, স্ট্রোক ও স্থূলতার মতো অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদনে শারীরিক নিষ্ক্রিয়তাকে এসব রোগের গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

একসময় দিনের বড় একটি অংশ মাঠে-ঘাটে বা কাজে কাটলেও জীবনযাত্রার পরিবর্তনে সেই চিত্র দ্রুত বদলে গেছে। এখন অনেকের কাজের ধরনই এমন যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই জায়গায় বসে থাকতে হয়। কিন্তু শরীরের প্রয়োজনীয় নড়াচড়া না হলে শুধু ওজনই বাড়ে না, বিপাকে পড়ে রক্তনালি, হৃদযন্ত্র ও পেশিও। চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত হাঁটা, সিঁড়ি ব্যবহার, খেলাধুলা কিংবা দৈনন্দিন কাজের মধ্য দিয়ে শরীরকে সক্রিয় রাখাও কায়িক পরিশ্রমের অংশ। অর্থাৎ সুস্থ থাকতে প্রতিদিন জিমে যেতেই হবে—এমন ধারণা ঠিক নয়।

শারীরিক নিষ্ক্রিয়তার বড় ধাক্কা পড়ে বিপাকীয় স্বাস্থ্যে। দীর্ঘসময় নিষ্ক্রিয় থাকলে শরীরে ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমতে পারে এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত ক্যালরি জমে ওজন ও শরীরের চর্বি বাড়ে। রক্তচাপ ও ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রাও খারাপের দিকে যেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এসব পরিবর্তন হৃদরোগ ও স্ট্রোকের মতো গুরুতর সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়। WHO-ও নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রমকে হৃদরোগ, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, কিছু ক্যানসারসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে।

শুধু বড়রাই নয়, বিপদের তালিকায় আছে শিশুরাও। মাঠ ও খেলার জায়গা কমে যাওয়ার পাশাপাশি স্মার্টফোন, ট্যাব, কম্পিউটার ও টেলিভিশনের সামনে দীর্ঘসময় কাটানোর প্রবণতা শিশুদের দৈনন্দিন জীবনকে আরও নিষ্ক্রিয় করে তুলছে। খেলাধুলার বদলে স্ক্রিননির্ভর বিনোদন বাড়লে শারীরিক কর্মকাণ্ড কমে যাওয়ার পাশাপাশি ঘুম, ওজন ও মানসিক সুস্থতার ওপরও প্রভাব পড়তে পারে। তাই শিশুদের জন্য নিরাপদ খেলার জায়গা তৈরি, নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ এবং স্ক্রিন ব্যবহারে ভারসাম্য তৈরি করা এখন পরিবারের পাশাপাশি সমাজেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

শারীরিক নিষ্ক্রিয়তার প্রভাব শরীরের পাশাপাশি মনেও পড়ে। নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম মানসিক চাপ কমাতে, ঘুমের মান উন্নত করতে এবং সামগ্রিক সুস্থতা ধরে রাখতে সহায়ক। বিপরীতে দীর্ঘসময় নিষ্ক্রিয় জীবনযাপন করলে অলসতা, ঘুমের অনিয়ম ও মানসিক চাপ বাড়তে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পেশির শক্তি ও হাড়ের সুস্থতা ধরে রাখতেও শরীরচর্চার প্রয়োজন রয়েছে। তাই ব্যস্ততার অজুহাতে দিনের পুরো সময় বসে না থেকে ছোট ছোট সুযোগ কাজে লাগানোই হতে পারে সহজ সমাধান।

সমস্যার সমাধান খুব কঠিন নয়, প্রয়োজন শুধু অভ্যাসে পরিবর্তন। প্রতিদিন নিয়ম করে হাঁটা, কাছের দূরত্বে সম্ভব হলে হেঁটে যাওয়া, লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার, কাজের ফাঁকে উঠে কিছুক্ষণ হাঁটা এবং শিশুদের মাঠে খেলতে উৎসাহ দেওয়া যেতে পারে। WHO প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শারীরিক কার্যক্রম অথবা ৭৫ মিনিট বেশি তীব্রতার কার্যক্রমের পরামর্শ দেয়।তাই শরীরকে সচল রাখার শুরুটা আজ থেকেই করা সম্ভব। মনে রাখতে হবে, দীর্ঘসময় বসে থাকার অভ্যাস বদলাতে বড় কোনো আয়োজন নয়—প্রতিদিনের ছোট ছোট কায়িক পরিশ্রমই হতে পারে সুস্থ জীবনের বড় হাতিয়ার।

জনপ্রিয় সংবাদ

কায়িক পরিশ্রম কমছে, বাড়ছে রোগের ভয়াবহ ঝুঁকি

Update Time : ০১:২২:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কায়িক পরিশ্রম কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আধুনিক জীবন যেন ধীরে ধীরে মানুষকে চেয়ারে বসিয়ে দিচ্ছে। অফিসে দীর্ঘসময় বসে থাকা, গাড়ি-লিফটে চলাফেরা, অবসর সময়ে মোবাইল ও টেলিভিশনে ডুবে থাকা—সব মিলিয়ে দৈনন্দিন জীবনে শরীরের স্বাভাবিক নড়াচড়া কমছে। এর ফলও এখন স্পষ্ট। হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, স্ট্রোক ও স্থূলতার মতো অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদনে শারীরিক নিষ্ক্রিয়তাকে এসব রোগের গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

একসময় দিনের বড় একটি অংশ মাঠে-ঘাটে বা কাজে কাটলেও জীবনযাত্রার পরিবর্তনে সেই চিত্র দ্রুত বদলে গেছে। এখন অনেকের কাজের ধরনই এমন যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই জায়গায় বসে থাকতে হয়। কিন্তু শরীরের প্রয়োজনীয় নড়াচড়া না হলে শুধু ওজনই বাড়ে না, বিপাকে পড়ে রক্তনালি, হৃদযন্ত্র ও পেশিও। চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত হাঁটা, সিঁড়ি ব্যবহার, খেলাধুলা কিংবা দৈনন্দিন কাজের মধ্য দিয়ে শরীরকে সক্রিয় রাখাও কায়িক পরিশ্রমের অংশ। অর্থাৎ সুস্থ থাকতে প্রতিদিন জিমে যেতেই হবে—এমন ধারণা ঠিক নয়।

আরও পড়ুন  প্রতিদিন চায়ের সঙ্গে বিস্কুট খাচ্ছেন? জানুন শরীরে কী ঘটতে পারে

শারীরিক নিষ্ক্রিয়তার বড় ধাক্কা পড়ে বিপাকীয় স্বাস্থ্যে। দীর্ঘসময় নিষ্ক্রিয় থাকলে শরীরে ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমতে পারে এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত ক্যালরি জমে ওজন ও শরীরের চর্বি বাড়ে। রক্তচাপ ও ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রাও খারাপের দিকে যেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এসব পরিবর্তন হৃদরোগ ও স্ট্রোকের মতো গুরুতর সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়। WHO-ও নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রমকে হৃদরোগ, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, কিছু ক্যানসারসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে।

শুধু বড়রাই নয়, বিপদের তালিকায় আছে শিশুরাও। মাঠ ও খেলার জায়গা কমে যাওয়ার পাশাপাশি স্মার্টফোন, ট্যাব, কম্পিউটার ও টেলিভিশনের সামনে দীর্ঘসময় কাটানোর প্রবণতা শিশুদের দৈনন্দিন জীবনকে আরও নিষ্ক্রিয় করে তুলছে। খেলাধুলার বদলে স্ক্রিননির্ভর বিনোদন বাড়লে শারীরিক কর্মকাণ্ড কমে যাওয়ার পাশাপাশি ঘুম, ওজন ও মানসিক সুস্থতার ওপরও প্রভাব পড়তে পারে। তাই শিশুদের জন্য নিরাপদ খেলার জায়গা তৈরি, নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ এবং স্ক্রিন ব্যবহারে ভারসাম্য তৈরি করা এখন পরিবারের পাশাপাশি সমাজেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

আরও পড়ুন  রাতের খাবার খেয়েই ঘুমিয়ে পড়ছেন? ডেকে আনছেন স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি!

শারীরিক নিষ্ক্রিয়তার প্রভাব শরীরের পাশাপাশি মনেও পড়ে। নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম মানসিক চাপ কমাতে, ঘুমের মান উন্নত করতে এবং সামগ্রিক সুস্থতা ধরে রাখতে সহায়ক। বিপরীতে দীর্ঘসময় নিষ্ক্রিয় জীবনযাপন করলে অলসতা, ঘুমের অনিয়ম ও মানসিক চাপ বাড়তে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পেশির শক্তি ও হাড়ের সুস্থতা ধরে রাখতেও শরীরচর্চার প্রয়োজন রয়েছে। তাই ব্যস্ততার অজুহাতে দিনের পুরো সময় বসে না থেকে ছোট ছোট সুযোগ কাজে লাগানোই হতে পারে সহজ সমাধান।

আরও পড়ুন  নিজের মানসিক শক্তি ধরে রাখতে যে ৫ অভ্যাস জরুরি

সমস্যার সমাধান খুব কঠিন নয়, প্রয়োজন শুধু অভ্যাসে পরিবর্তন। প্রতিদিন নিয়ম করে হাঁটা, কাছের দূরত্বে সম্ভব হলে হেঁটে যাওয়া, লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার, কাজের ফাঁকে উঠে কিছুক্ষণ হাঁটা এবং শিশুদের মাঠে খেলতে উৎসাহ দেওয়া যেতে পারে। WHO প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শারীরিক কার্যক্রম অথবা ৭৫ মিনিট বেশি তীব্রতার কার্যক্রমের পরামর্শ দেয়।তাই শরীরকে সচল রাখার শুরুটা আজ থেকেই করা সম্ভব। মনে রাখতে হবে, দীর্ঘসময় বসে থাকার অভ্যাস বদলাতে বড় কোনো আয়োজন নয়—প্রতিদিনের ছোট ছোট কায়িক পরিশ্রমই হতে পারে সুস্থ জীবনের বড় হাতিয়ার।