বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি শক্তিশালী নিম্নচাপে পরিণত হওয়ায় উত্তাল হয়ে উঠেছে ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদী। বৈরী আবহাওয়ার কারণে যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুটের সব ধরনের লঞ্চ চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন। একই সঙ্গে দুপুরের পর থেকে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে ভোলা-ঢাকা নৌরুটের লঞ্চ চলাচলও।
রোববার (৫ জুলাই) দিনভর তীব্র বাতাস ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে নদীপথে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। নৌপথে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জরুরি ভিত্তিতে লঞ্চ চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়। এতে দুই রুটে চলাচলকারী শত শত যাত্রী ঘাটে এসে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
ঘাটে আসা অনেক যাত্রী জানান, পূর্বঘোষণা ছাড়া লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা বিপাকে পড়েছেন। অনেকে জরুরি কাজে ঢাকা কিংবা লক্ষ্মীপুরে যাওয়ার জন্য ঘাটে এলেও বিকল্প কোনো পরিবহন না পেয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে তাদের যাত্রা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
লঞ্চ মালিক ও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আবহাওয়ার পরিস্থিতি উন্নতি হলে রাতের দিকে ঢাকা রুটে সীমিত আকারে লঞ্চ চলাচল শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে আবহাওয়ার ওপরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে। অন্যদিকে ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুটে আপাতত লঞ্চ চালুর কোনো সম্ভাবনা নেই বলেও তারা জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আবহাওয়া আরও খারাপ হলে যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে দেশের অন্যান্য নৌরুটেও নৌযান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় দমকা হাওয়া ও ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। এ কারণে সমুদ্রবন্দরগুলোতে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত এবং নদীবন্দরগুলোতে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল রাখা হয়েছে।
নৌপরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈরী আবহাওয়ায় নদীপথে চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। প্রবল বাতাস ও উত্তাল ঢেউয়ের কারণে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই সাময়িকভাবে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের আবহাওয়ার সর্বশেষ পরিস্থিতি জেনে ঘাটে আসার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অপ্রয়োজনীয় নৌভ্রমণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। আবহাওয়ার উন্নতি হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পুনরায় লঞ্চ চলাচলের নতুন সময়সূচি ঘোষণা করবে।





























