ঢাকা ১১:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফেনীতে আকস্মিক টর্নেডোয় লণ্ডভণ্ড ৩৫ পরিবার

টর্নেডোর আঘাতে উপড়ে পড়েছে শতাধিক গাছ। ছবি: সংগৃহীত

ফেনী টর্নেডোর আকস্মিক তাণ্ডবে সোনাগাজী উপজেলার মতিগঞ্জ ইউনিয়নের মধ্যম স্বরাজপুর গ্রামের অন্তত ৩৫টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রবিবার (১৯ জুলাই) দুপুরে মাত্র এক মিনিটেরও কম সময়ের ভয়াবহ ঘূর্ণিবাতাসে গ্রামের বহু ঘরের চাল উড়ে যায়, গাছপালা ভেঙে পড়ে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শান্ত একটি দুপুর মুহূর্তেই রূপ নেয় আতঙ্কের ঘটনায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রথমে আকাশে কালো মেঘ জমে এবং প্রবল বাতাস শুরু হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিকট শব্দ তুলে টর্নেডো গ্রামের ওপর দিয়ে বয়ে যায়। অনেকে ঘর থেকে বের হওয়ারও সুযোগ পাননি। বাতাসের তীব্রতায় টিনের চাল, বাঁশ, কাঠ ও বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী কয়েকশ মিটার দূরে ছিটকে পড়ে। শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে গিয়ে অনেক পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়ে।

টর্নেডোর আঘাতে অন্তত চারটি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে যায় এবং ৩৫টি পরিবারের বিদ্যুতের মিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রায় ২০টি বসতঘর আংশিক ও সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া শতাধিক ফলজ, বনজ ও ছায়াদানকারী গাছ উপড়ে পড়ে। স্থানীয়দের দাবি, বসতঘর, কৃষি, বিদ্যুৎ অবকাঠামো ও গাছপালার ক্ষতি মিলিয়ে প্রায় এক কোটি টাকার আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যদিও প্রশাসন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের কাজ করছে।

৭০ বছর বয়সী সাহাব উদ্দিন জানান, জীবনে এত ভয়াবহ টর্নেডো তিনি আগে কখনো দেখেননি। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ঘরের চাল উড়ে যায় এবং চারদিকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। একই গ্রামের আরও কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, ঝড় থেমে যাওয়ার পর চারদিকে শুধু ভাঙা ঘর, উপড়ে পড়া গাছ এবং ছিন্নভিন্ন বিদ্যুৎ লাইনের দৃশ্য দেখা যায়। অনেক পরিবার এখন আত্মীয়স্বজনের বাড়ি অথবা অস্থায়ী আশ্রয়ে অবস্থান করছে।

ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। মতিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আমিন উদ্দিন দোলন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং দ্রুত সরকারি সহায়তার জন্য আবেদন করা হয়েছে। সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিগ্যান চাকমা জানান, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে। যাচাই শেষে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরাও ভেঙে যাওয়া খুঁটি ও লাইন মেরামতের কাজ শুরু করেছেন।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষা মৌসুমে বজ্রগর্ভ মেঘের প্রভাবে স্থানীয়ভাবে স্বল্পস্থায়ী টর্নেডোর সৃষ্টি হতে পারে। এসব টর্নেডো সাধারণত অল্প সময় স্থায়ী হলেও বাতাসের গতি অত্যন্ত বেশি হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে সক্ষম। তাই বৈরী আবহাওয়ার সময় সবাইকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু হলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ফেনীতে আকস্মিক টর্নেডোয় লণ্ডভণ্ড ৩৫ পরিবার

Update Time : ০৮:৩১:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

ফেনী টর্নেডোর আকস্মিক তাণ্ডবে সোনাগাজী উপজেলার মতিগঞ্জ ইউনিয়নের মধ্যম স্বরাজপুর গ্রামের অন্তত ৩৫টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রবিবার (১৯ জুলাই) দুপুরে মাত্র এক মিনিটেরও কম সময়ের ভয়াবহ ঘূর্ণিবাতাসে গ্রামের বহু ঘরের চাল উড়ে যায়, গাছপালা ভেঙে পড়ে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শান্ত একটি দুপুর মুহূর্তেই রূপ নেয় আতঙ্কের ঘটনায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রথমে আকাশে কালো মেঘ জমে এবং প্রবল বাতাস শুরু হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিকট শব্দ তুলে টর্নেডো গ্রামের ওপর দিয়ে বয়ে যায়। অনেকে ঘর থেকে বের হওয়ারও সুযোগ পাননি। বাতাসের তীব্রতায় টিনের চাল, বাঁশ, কাঠ ও বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী কয়েকশ মিটার দূরে ছিটকে পড়ে। শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে গিয়ে অনেক পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়ে।

আরও পড়ুন  রাতে ধেয়ে আসছে কালবৈশাখী, কোন এলাকায় কখন ঝড়-বৃষ্টি

টর্নেডোর আঘাতে অন্তত চারটি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে যায় এবং ৩৫টি পরিবারের বিদ্যুতের মিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রায় ২০টি বসতঘর আংশিক ও সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া শতাধিক ফলজ, বনজ ও ছায়াদানকারী গাছ উপড়ে পড়ে। স্থানীয়দের দাবি, বসতঘর, কৃষি, বিদ্যুৎ অবকাঠামো ও গাছপালার ক্ষতি মিলিয়ে প্রায় এক কোটি টাকার আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যদিও প্রশাসন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের কাজ করছে।

৭০ বছর বয়সী সাহাব উদ্দিন জানান, জীবনে এত ভয়াবহ টর্নেডো তিনি আগে কখনো দেখেননি। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ঘরের চাল উড়ে যায় এবং চারদিকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। একই গ্রামের আরও কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, ঝড় থেমে যাওয়ার পর চারদিকে শুধু ভাঙা ঘর, উপড়ে পড়া গাছ এবং ছিন্নভিন্ন বিদ্যুৎ লাইনের দৃশ্য দেখা যায়। অনেক পরিবার এখন আত্মীয়স্বজনের বাড়ি অথবা অস্থায়ী আশ্রয়ে অবস্থান করছে।

আরও পড়ুন  আট অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত

ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। মতিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আমিন উদ্দিন দোলন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং দ্রুত সরকারি সহায়তার জন্য আবেদন করা হয়েছে। সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিগ্যান চাকমা জানান, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে। যাচাই শেষে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরাও ভেঙে যাওয়া খুঁটি ও লাইন মেরামতের কাজ শুরু করেছেন।

আরও পড়ুন  বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস: আবহাওয়া অফিসের গুরুত্বপূর্ণ আপডেট

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষা মৌসুমে বজ্রগর্ভ মেঘের প্রভাবে স্থানীয়ভাবে স্বল্পস্থায়ী টর্নেডোর সৃষ্টি হতে পারে। এসব টর্নেডো সাধারণত অল্প সময় স্থায়ী হলেও বাতাসের গতি অত্যন্ত বেশি হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে সক্ষম। তাই বৈরী আবহাওয়ার সময় সবাইকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু হলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে।