ঢাকা ০১:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ছাত্রাবাসে ধর্ষণ অভিযোগ: ৪ দিন আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ Logo প্লাস্টিকের ব্যাগে বিশ্বকাপ ট্রফি? কুকুরেয়ার ভিডিওর আসল রহস্য Logo হুতিদের নৌ অবরোধ ঘোষণা: সৌদির জন্য বড় হুমকি, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা Logo ধূমপান ছাড়ার ৪ সহজ উপায়, জানুন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ Logo চরমোনাই পীরের কড়া বার্তা: ইসলামের নামে একাধিক দল নিয়ে প্রশ্ন Logo ইয়ামালের প্রেমিকা ইনেস, এক রাতেই ফলোয়ারে চমক Logo এআই প্রযুক্তিতে পোশাকশিল্পের ভবিষ্যৎ: ৭ পরিবর্তনে নতুন সম্ভাবনা Logo ঘুম না এলে রাতে করুন এই ৭ ব্যায়াম, মিলবে স্বস্তির ঘুম Logo ঘুমের অভাব কি ডায়াবেটিস ডেকে আনে? জানুন বিশেষজ্ঞদের মতামত Logo শিশুর লাশ উদ্ধার: আলমারিতে মরদেহ, গণপিটুনিতে নারী নিহত | চাঞ্চল্যকর ঘটনা

লামিন ইয়ামালের শৈশব: দাদির ত্যাগে গড়ে ওঠা বার্সেলোনা তারকার গল্প

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৬:৪০:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
  • ৫৩২

দাদি ফাতিমার সঙ্গে লামিন ইয়ামাল। ছবি: সংগৃহীত

বার্সেলোনা ও স্পেন জাতীয় দলের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল এখন বিশ্বের অন্যতম আলোচিত ফুটবলার। মাঠে তাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্স যেমন প্রশংসা কুড়াচ্ছে, তেমনি মাঠের বাইরেও পরিবারকে নিয়ে তাঁর আবেগঘন কথাগুলো ছুঁয়ে যাচ্ছে লাখো মানুষের হৃদয়। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে লামিন ইয়ামালের শৈশব এবং তাঁর দাদি ফাতিমার অসাধারণ সংগ্রামের গল্প নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

ট্রফির চেয়ে পরিবারের সুখই বড় ইয়ামালের কাছে

মাত্র ১৮ বছর বয়সেই বিশ্ব ফুটবলে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন ইয়ামাল। তবে তাঁর মতে, জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন ট্রফি নয়; বরং পরিবারের মুখে হাসি ফোটানো। ছোটবেলায় যেসব কষ্টের মধ্য দিয়ে তাঁকে বড় হতে হয়েছে, এখন সেই অভাব যেন তাঁর পরিবারের আর না থাকে—এটাই তাঁর সবচেয়ে বড় স্বপ্ন।

বার্সেলোনার যুব একাডেমি লা মাসিয়া থেকে উঠে আসা ইয়ামাল বড় হয়েছেন কাতালোনিয়ার মাতারোর শ্রমজীবী এলাকা রোকাফোন্দায়। এখনও গোল করার পর নিজের বিখ্যাত হাতের ইশারায় এলাকার পোস্টাল কোড তুলে ধরেন তিনি। এতে তিনি শৈশবের সেই এলাকাকে সম্মান জানান, যেখানে তাঁর ফুটবল ও জীবনের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল।

এক পডকাস্টে ইয়ামাল বলেন, এখন সবচেয়ে বেশি আনন্দ পান যখন দেখেন তাঁর মা সুখে আছেন, ছোট ভাই সেই সুন্দর শৈশব পাচ্ছে যা তিনি কখনও পাননি। একই সঙ্গে তাঁর বাবা ও দাদিকে নিশ্চিন্তে জীবন কাটাতে দেখাই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

দাদি ফাতিমার ত্যাগ

ইয়ামালের জীবনের সবচেয়ে অনুপ্রেরণাদায়ক চরিত্র তাঁর পিতৃকূলের দাদি ফাতিমা। পরিবারের জন্য উন্নত ভবিষ্যতের আশায় তিনি একাই মরক্কো থেকে স্পেনে পাড়ি জমান। কোনো বিলাসবহুল যাত্রা নয়, বরং নানা ঝুঁকি নিয়ে বাসে করে সীমান্ত পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত পৌঁছান স্পেনের মাতারো শহরে।

সেখানে পৌঁছেই তিনি একাধিক কাজ শুরু করেন। সকাল, দুপুর, রাত—যে সময়ই কাজ পাওয়া যেত, তিনি কাজ করতেন। লক্ষ্য ছিল একটাই—মরক্কোয় থাকা নিজের ছেলে ও মেয়েকে স্পেনে নিয়ে আসা। দীর্ঘদিন কঠোর পরিশ্রমের পর প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করে তিনি পরিবারের অন্য সদস্যদেরও স্পেনে নিয়ে আসেন।

ইয়ামাল বলেন, তাঁর দাদির সেই ত্যাগই আজ তাঁদের পরিবারের ভাগ্য বদলে দিয়েছে। বর্তমানেও রোকাফোন্দায় যে বাড়িতে তাঁর দাদি থাকেন, সেটি কিনে দিয়েছেন ইয়ামাল নিজেই।

সংগ্রামে কেটেছে শৈশব

ইয়ামালের মা ইকুয়েটোরিয়াল গিনি থেকে ছোটবেলায় স্পেনে আসেন। পরে বার্সেলোনায় তাঁর বাবা-মায়ের পরিচয় হয়। খুব অল্প বয়সেই বাবা-মা হওয়ার কারণে তাঁদের জীবন সহজ ছিল না।

ইয়ামাল জানান, শৈশবে তাঁরা এমন এক আবাসনে থাকতেন, যেখানে অন্য তরুণ বাবা-মায়েরাও থাকতেন। সেখানেই সবাই মিলে খাবার খেতেন এবং সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেই দিন কাটত। অনেক সময় বন্ধু বা পরিচিতদের বাড়ির একটি ছোট কক্ষে থেকেও জীবন চালাতে হয়েছে তাঁদের।

পরে তাঁর বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হলে বাবা দাদির সঙ্গে থাকতে শুরু করেন। অন্যদিকে ইয়ামাল মায়ের সঙ্গে গ্রানোলার্সে চলে যান। জীবনের সেই কঠিন সময়গুলো তাঁকে আরও পরিণত করেছে বলেই মনে করেন তিনি।

আজ কোটি ভক্তের ভালোবাসা পেলেও নিজের অতীত ভুলে যাননি ইয়ামাল। বরং তিনি বিশ্বাস করেন, তাঁর পরিবারের ত্যাগ ও সংগ্রামই তাঁকে আজকের অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে। তাই সাফল্যের প্রতিটি মুহূর্ত তিনি উৎসর্গ করেন মা, বাবা, দাদি এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের।

জনপ্রিয় সংবাদ

ছাত্রাবাসে ধর্ষণ অভিযোগ: ৪ দিন আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ

লামিন ইয়ামালের শৈশব: দাদির ত্যাগে গড়ে ওঠা বার্সেলোনা তারকার গল্প

Update Time : ০৬:৪০:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

বার্সেলোনা ও স্পেন জাতীয় দলের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল এখন বিশ্বের অন্যতম আলোচিত ফুটবলার। মাঠে তাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্স যেমন প্রশংসা কুড়াচ্ছে, তেমনি মাঠের বাইরেও পরিবারকে নিয়ে তাঁর আবেগঘন কথাগুলো ছুঁয়ে যাচ্ছে লাখো মানুষের হৃদয়। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে লামিন ইয়ামালের শৈশব এবং তাঁর দাদি ফাতিমার অসাধারণ সংগ্রামের গল্প নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

ট্রফির চেয়ে পরিবারের সুখই বড় ইয়ামালের কাছে

মাত্র ১৮ বছর বয়সেই বিশ্ব ফুটবলে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন ইয়ামাল। তবে তাঁর মতে, জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন ট্রফি নয়; বরং পরিবারের মুখে হাসি ফোটানো। ছোটবেলায় যেসব কষ্টের মধ্য দিয়ে তাঁকে বড় হতে হয়েছে, এখন সেই অভাব যেন তাঁর পরিবারের আর না থাকে—এটাই তাঁর সবচেয়ে বড় স্বপ্ন।

বার্সেলোনার যুব একাডেমি লা মাসিয়া থেকে উঠে আসা ইয়ামাল বড় হয়েছেন কাতালোনিয়ার মাতারোর শ্রমজীবী এলাকা রোকাফোন্দায়। এখনও গোল করার পর নিজের বিখ্যাত হাতের ইশারায় এলাকার পোস্টাল কোড তুলে ধরেন তিনি। এতে তিনি শৈশবের সেই এলাকাকে সম্মান জানান, যেখানে তাঁর ফুটবল ও জীবনের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল।

আরও পড়ুন  ইয়ামালকে কেন বেঞ্চে রাখছেন স্পেন কোচ? জানালেন আসল কারণ

এক পডকাস্টে ইয়ামাল বলেন, এখন সবচেয়ে বেশি আনন্দ পান যখন দেখেন তাঁর মা সুখে আছেন, ছোট ভাই সেই সুন্দর শৈশব পাচ্ছে যা তিনি কখনও পাননি। একই সঙ্গে তাঁর বাবা ও দাদিকে নিশ্চিন্তে জীবন কাটাতে দেখাই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

দাদি ফাতিমার ত্যাগ

ইয়ামালের জীবনের সবচেয়ে অনুপ্রেরণাদায়ক চরিত্র তাঁর পিতৃকূলের দাদি ফাতিমা। পরিবারের জন্য উন্নত ভবিষ্যতের আশায় তিনি একাই মরক্কো থেকে স্পেনে পাড়ি জমান। কোনো বিলাসবহুল যাত্রা নয়, বরং নানা ঝুঁকি নিয়ে বাসে করে সীমান্ত পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত পৌঁছান স্পেনের মাতারো শহরে।

আরও পড়ুন  ৮৮ বছরের রেকর্ড ধরে রাখতে মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিল

সেখানে পৌঁছেই তিনি একাধিক কাজ শুরু করেন। সকাল, দুপুর, রাত—যে সময়ই কাজ পাওয়া যেত, তিনি কাজ করতেন। লক্ষ্য ছিল একটাই—মরক্কোয় থাকা নিজের ছেলে ও মেয়েকে স্পেনে নিয়ে আসা। দীর্ঘদিন কঠোর পরিশ্রমের পর প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করে তিনি পরিবারের অন্য সদস্যদেরও স্পেনে নিয়ে আসেন।

ইয়ামাল বলেন, তাঁর দাদির সেই ত্যাগই আজ তাঁদের পরিবারের ভাগ্য বদলে দিয়েছে। বর্তমানেও রোকাফোন্দায় যে বাড়িতে তাঁর দাদি থাকেন, সেটি কিনে দিয়েছেন ইয়ামাল নিজেই।

সংগ্রামে কেটেছে শৈশব

ইয়ামালের মা ইকুয়েটোরিয়াল গিনি থেকে ছোটবেলায় স্পেনে আসেন। পরে বার্সেলোনায় তাঁর বাবা-মায়ের পরিচয় হয়। খুব অল্প বয়সেই বাবা-মা হওয়ার কারণে তাঁদের জীবন সহজ ছিল না।

আরও পড়ুন  নেইমার বাংলাদেশ জার্সি হাতে: গর্বের মুহূর্ত বাংলাদেশের ফুটবলে

ইয়ামাল জানান, শৈশবে তাঁরা এমন এক আবাসনে থাকতেন, যেখানে অন্য তরুণ বাবা-মায়েরাও থাকতেন। সেখানেই সবাই মিলে খাবার খেতেন এবং সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেই দিন কাটত। অনেক সময় বন্ধু বা পরিচিতদের বাড়ির একটি ছোট কক্ষে থেকেও জীবন চালাতে হয়েছে তাঁদের।

পরে তাঁর বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হলে বাবা দাদির সঙ্গে থাকতে শুরু করেন। অন্যদিকে ইয়ামাল মায়ের সঙ্গে গ্রানোলার্সে চলে যান। জীবনের সেই কঠিন সময়গুলো তাঁকে আরও পরিণত করেছে বলেই মনে করেন তিনি।

আজ কোটি ভক্তের ভালোবাসা পেলেও নিজের অতীত ভুলে যাননি ইয়ামাল। বরং তিনি বিশ্বাস করেন, তাঁর পরিবারের ত্যাগ ও সংগ্রামই তাঁকে আজকের অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে। তাই সাফল্যের প্রতিটি মুহূর্ত তিনি উৎসর্গ করেন মা, বাবা, দাদি এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের।