ঢাকা ০২:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

আরও ৫ দিন বৃষ্টি, উত্তরাঞ্চলে অতিভারী বর্ষণের শঙ্কা

চিত্রঃ আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে

দেশজুড়ে আরও ৫ দিন বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কমবেশি বৃষ্টি হচ্ছে। তবে উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি বিভাগে ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্ক বার্তায় বলা হয়েছে, দেশের অভ্যন্তরে বজ্রমেঘের বিস্তার অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে আগামী শনিবার পর্যন্ত রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ার শঙ্কার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।

আবহাওয়াবিদদের মতে, ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হলে সেটিকে ভারী বর্ষণ হিসেবে ধরা হয়। আর ৮৮ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হলে তাকে অতিভারী বর্ষণ বলা হয়ে থাকে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বুধবার কুড়িগ্রামের রাজাহাট এলাকায় সর্বোচ্চ ১৯৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা অতিভারী বর্ষণের মধ্যে পড়ে। এছাড়া রাজধানী ঢাকায় মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টি হয়েছে ৪২ মিলিমিটার।

আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, যশোর, কুষ্টিয়া, রাজশাহী, পাবনা, টাঙ্গাইল, ঢাকা, ফরিদপুর, নোয়াখালী, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে বজ্রবৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে দুই নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এছাড়া দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ী দমকা হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। সেসব এলাকার নদীবন্দরকে এক নম্বর সতর্ক সংকেত দেখানোর নির্দেশ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

সংস্থাটির ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। এর বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও আশপাশের এলাকায় বিস্তৃত রয়েছে। এই আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতির কারণে আগামী কয়েক দিন দেশের উত্তরাঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে। একই সময়ে দেশের অন্যান্য স্থানেও বজ্রসহ বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই সময়ে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তবে বৃহস্পতিবার থেকে উত্তরাঞ্চলের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। একই সঙ্গে এসব এলাকায় দিনের পাশাপাশি রাতের তাপমাত্রাও কিছুটা কমে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।অন্যদিকে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। তবে বৃষ্টির প্রবণতা পুরোপুরি থামার সম্ভাবনা আপাতত নেই।

শুক্রবার ও শনিবারও একই ধরনের আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে বলে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে। বিশেষ করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে ভারী বর্ষণের ঝুঁকি বেশি থাকবে। আগামী রোববার পর্যন্ত ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। তবে দেশের অন্যান্য এলাকায় আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া তুলনামূলক শুষ্ক থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ বিষয়ে একে এম নাজমুল হক বলেন, আগামী শনিবার পর্যন্ত সারাদেশে কমবেশি বৃষ্টি হলেও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের চার বিভাগে বেশি ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে। এরপর ১৭ মে থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, বর্তমান পরিস্থিতি মূলত পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে সৃষ্টি হয়েছে। শ্রীলঙ্কার কাছাকাছি এলাকায় যে লঘুচাপ তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব বাংলাদেশে পড়ার সম্ভাবনা খুব কম।

জনপ্রিয় সংবাদ

গোপালগঞ্জ আওয়ামী লীগ নেতা বিএনপিতে যোগদান

আরও ৫ দিন বৃষ্টি, উত্তরাঞ্চলে অতিভারী বর্ষণের শঙ্কা

Update Time : ০৯:১৮:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

দেশজুড়ে আরও ৫ দিন বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কমবেশি বৃষ্টি হচ্ছে। তবে উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি বিভাগে ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্ক বার্তায় বলা হয়েছে, দেশের অভ্যন্তরে বজ্রমেঘের বিস্তার অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে আগামী শনিবার পর্যন্ত রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ার শঙ্কার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।

আবহাওয়াবিদদের মতে, ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হলে সেটিকে ভারী বর্ষণ হিসেবে ধরা হয়। আর ৮৮ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হলে তাকে অতিভারী বর্ষণ বলা হয়ে থাকে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বুধবার কুড়িগ্রামের রাজাহাট এলাকায় সর্বোচ্চ ১৯৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা অতিভারী বর্ষণের মধ্যে পড়ে। এছাড়া রাজধানী ঢাকায় মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টি হয়েছে ৪২ মিলিমিটার।

আরও পড়ুন  হামের উপসর্গ নিয়ে আরো পাঁচজনের মৃত্যু, বাড়ছে শঙ্কা

আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, যশোর, কুষ্টিয়া, রাজশাহী, পাবনা, টাঙ্গাইল, ঢাকা, ফরিদপুর, নোয়াখালী, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে বজ্রবৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে দুই নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এছাড়া দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ী দমকা হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। সেসব এলাকার নদীবন্দরকে এক নম্বর সতর্ক সংকেত দেখানোর নির্দেশ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

সংস্থাটির ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। এর বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও আশপাশের এলাকায় বিস্তৃত রয়েছে। এই আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতির কারণে আগামী কয়েক দিন দেশের উত্তরাঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে। একই সময়ে দেশের অন্যান্য স্থানেও বজ্রসহ বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আরও পড়ুন  রোহিঙ্গাদের জন্য ১ কোটি ডলার সহায়তা দিচ্ছে কানাডা

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই সময়ে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তবে বৃহস্পতিবার থেকে উত্তরাঞ্চলের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। একই সঙ্গে এসব এলাকায় দিনের পাশাপাশি রাতের তাপমাত্রাও কিছুটা কমে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।অন্যদিকে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। তবে বৃষ্টির প্রবণতা পুরোপুরি থামার সম্ভাবনা আপাতত নেই।

আরও পড়ুন  সকাল ৯টার মধ্যে যেসব অঞ্চলে বৃষ্টি হতে পারে

শুক্রবার ও শনিবারও একই ধরনের আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে বলে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে। বিশেষ করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে ভারী বর্ষণের ঝুঁকি বেশি থাকবে। আগামী রোববার পর্যন্ত ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। তবে দেশের অন্যান্য এলাকায় আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া তুলনামূলক শুষ্ক থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ বিষয়ে একে এম নাজমুল হক বলেন, আগামী শনিবার পর্যন্ত সারাদেশে কমবেশি বৃষ্টি হলেও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের চার বিভাগে বেশি ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে। এরপর ১৭ মে থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, বর্তমান পরিস্থিতি মূলত পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে সৃষ্টি হয়েছে। শ্রীলঙ্কার কাছাকাছি এলাকায় যে লঘুচাপ তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব বাংলাদেশে পড়ার সম্ভাবনা খুব কম।