ফেনীর পরশুরামে মুহুরী নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া এক তরুণের মরদেহ এক দিন পর উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার সকালে ফুলগাজী উপজেলার জিএম হাট ইউনিয়নের মধ্যম শ্রীচন্দ্রপুর এলাকা থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নদীর প্রবল স্রোতে ভেসে সেখানে পৌঁছায় তাঁর মরদেহ।
নিহত তরুণের নাম মোহাম্মদ সাকিব (২৪)। তিনি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বাসিন্দা এবং মোহাম্মদ আলীর ছেলে। পরিবারের সঙ্গে তিনি চট্টগ্রাম শহরের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তবে তাঁর নানাবাড়ি ফেনীর পরশুরাম উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ জঙ্গলঘোনা গ্রামে হওয়ায় বেড়াতে সেখানে এসেছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার সাকিব নানাবাড়িতে বেড়াতে আসেন। শনিবার দুপুরে বাড়ির কাছেই মুহুরী নদীতে গোসল করতে নামেন। একপর্যায়ে তিনি নদীতে ডুব দিলে আর পানির ওপরে উঠতে দেখা যায়নি। এরপর থেকেই স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
সাকিব নিখোঁজ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন দ্রুত নদীতে নেমে তাঁকে খুঁজতে শুরু করেন। দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে বিষয়টি ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশকে জানানো হলে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। তবে নদীর স্রোত এবং প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে অভিযান কঠিন হয়ে পড়ে।
ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ডুবুরি দলের সহায়তায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। ডুবুরি দল নদীর বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালায় এবং ড্রামের তৈরি ভেলা ব্যবহার করেও অনুসন্ধান অব্যাহত রাখে। কিন্তু শনিবার রাত পর্যন্ত সাকিবের কোনো সন্ধান মেলেনি। ফলে পরিবারের সদস্যদের উৎকণ্ঠা আরও বেড়ে যায়।
রোববার সকালে ফুলগাজী উপজেলার জিএম হাট ইউনিয়নের মধ্যম শ্রীচন্দ্রপুর এলাকায় নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে তারা পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর জানা যায়, এটি নিখোঁজ হওয়া মোহাম্মদ সাকিবের মরদেহ।
উদ্ধারের স্থানটি সাকিব নিখোঁজ হওয়ার স্থান থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, নদীর তীব্র স্রোতের কারণেই তাঁর মরদেহ এত দূর পর্যন্ত ভেসে গেছে। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানির প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় এমন ঘটনা ঘটতে পারে বলেও তারা জানান।
ফায়ার সার্ভিসের পরশুরাম স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধারে ডুবুরি দল সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। নদীর প্রবল স্রোত ও প্রতিকূল পরিবেশের কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হয়েছিল। তবুও বিভিন্ন উপায়ে দীর্ঘ সময় অনুসন্ধান চালানো হয়েছে।
ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মিজানুর রহমান জানান, নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় মরদেহ উদ্ধারের পর প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। যেহেতু নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি পরশুরাম মডেল থানার এলাকায় ঘটেছে, তাই সংশ্লিষ্ট থানাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হবে।
স্থানীয়দের মতে, বর্ষাকালে মুহুরী নদীতে পানির স্রোত অত্যন্ত তীব্র থাকে। তাই নদীতে গোসল বা সাঁতার কাটার সময় সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। সামান্য অসাবধানতাও বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলে তারা মনে করছেন।




























