ঢাকা ০১:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo চন্দনাইশে অবৈধ গ্যাসের গুদামে প্রশাসনের হানাঃ খালি গ্যাস সিলিন্ডার ও সরঞ্জাম জব্দ Logo ঢাবি ভর্তি আবেদন শুরু ১১ নভেম্বর: প্রকাশ হলো ভর্তি পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ সূচি Logo প্রবাসী আয় কমার কারণ কী? Logo গলায় পারফিউম স্প্রে কি স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়? জানুন বিশেষজ্ঞদের মতামত Logo বিওয়াইডি গাড়ি বিক্রিতে দারুণ উল্লম্ফন, জুলাইয়ে বেড়েছে ২২% Logo মৌসুমী ও ওমর সানীর বিয়ের গল্প Logo ঘোমটা পরে ওমর সানীর বাসায় হাজির মৌসুমী, জানুন সেই দিনের গল্প Logo এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল: ১২ কেজির নতুন দাম ১,৫৯৮ টাকা Logo জঙ্গি নাটক মামলা শুনানিতে প্রসিকিউটরের বক্তব্য Logo বিটিএস গ্র্যামি বয়কট: চমকপ্রদ সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কী কারণ?

ঈদে বেশি মাংস খেয়ে ভুঁড়ি বেড়েছে? জেনে নিন কার্যকর সমাধান

  • Mir Yeaz Mahmud
  • Update Time : ০৭:৪২:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
  • ৫২৮

পেটের মেদ কমাতে নিয়মিত হাঁটা, ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ। ছবি: সংগৃহীত।

পেটের মেদ কমানোর উপায় নিয়ে চিন্তিত অনেকেই, বিশেষ করে ঈদ বা উৎসবের পর। কোরবানির ঈদে গরু ও খাসির মাংসের বিভিন্ন পদ খেতে খেতে অনেক সময় প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ক্যালোরি শরীরে জমা হয়। এর ফলে ওজন বৃদ্ধি, পেটের চারপাশে চর্বি জমা এবং ভুঁড়ি বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকদিন বেশি মাংস খাওয়ার কারণে ওজন কিছুটা বেড়ে গেলেও সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত শরীরচর্চার মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। এজন্য প্রথমেই মাংসের পরিমাণ কমিয়ে খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ডাল, ফলমূল ও সালাদের পরিমাণ বাড়াতে হবে। এসব খাবারে ক্যালোরি কম থাকলেও পুষ্টিগুণ বেশি এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুতগতিতে হাঁটা ওজন কমানোর সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকর উপায়গুলোর একটি। প্রতিদিন অন্তত ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট হাঁটলে অতিরিক্ত ক্যালোরি খরচ হয় এবং ধীরে ধীরে শরীরের জমে থাকা চর্বি কমতে শুরু করে। নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস হৃদ্‌স্বাস্থ্য ভালো রাখার পাশাপাশি শরীরকে আরও কর্মক্ষম করে তোলে।

পেটের মেদ
দ্রুতগতিতে হাঁটা ওজন কমানোর সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকর উপায়গুলোর একটি।

পর্যাপ্ত পানি পানও ওজন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পানি হজমে সহায়তা করে, শরীরের বিপাকক্রিয়া সচল রাখে এবং অযথা ক্ষুধা লাগার প্রবণতা কমায়। প্রতিদিন অন্তত ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করলে শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ঠিক থাকে এবং অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা হ্রাস পায়।

অন্যদিকে, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবও ওজন বৃদ্ধির একটি কারণ হতে পারে। ঘুম কম হলে শরীরের ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়, ফলে বেশি খাবার খাওয়ার ইচ্ছা তৈরি হয়। তাই প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

পেটের মেদ কমানোর উপায় হিসেবে নিয়মিত ব্যায়ামের বিকল্প নেই। প্ল্যাঙ্ক, ক্রাঞ্চ, সাইক্লিং, জগিং এবং বিভিন্ন ধরনের কার্ডিও ব্যায়াম শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমাতে সহায়ক। তবে শুধু পেটের ব্যায়াম নয়, পুরো শরীরের জন্য উপযোগী ব্যায়াম করাও জরুরি।

এ ছাড়া সফট ড্রিংকস, মিষ্টি ও অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা উচিত। এসব খাবারে উচ্চমাত্রার চিনি ও ক্যালোরি থাকায় খুব দ্রুত ওজন বাড়তে পারে। বিশেষ করে ভারি খাবারের পর কোমল পানীয় পান করলে শরীরে অতিরিক্ত ক্যালোরি জমার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

পেটের মেদ
ড্রিংকস, মিষ্টি ও অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা

রাতের খাবারের ক্ষেত্রেও সচেতন থাকা জরুরি। রাতে অতিরিক্ত মাংস বা ভারি খাবার খেলে তা সহজে হজম হয় না এবং অতিরিক্ত ক্যালোরি শরীরে জমতে থাকে। তাই রাতের খাবারে সবজি, সালাদ, ডিম, মাছ, ডাল কিংবা ওটসের মতো আঁশ ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা।

উৎসবের আনন্দ উপভোগের পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত শরীরচর্চা বজায় রাখতে পারলে ভুঁড়ি বা পেটের মেদ নিয়ে দুশ্চিন্তার প্রয়োজন নেই। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই হতে পারে অতিরিক্ত মেদ কমানোর সবচেয়ে কার্যকর সমাধান।

জনপ্রিয় সংবাদ

চন্দনাইশে অবৈধ গ্যাসের গুদামে প্রশাসনের হানাঃ খালি গ্যাস সিলিন্ডার ও সরঞ্জাম জব্দ

ঈদে বেশি মাংস খেয়ে ভুঁড়ি বেড়েছে? জেনে নিন কার্যকর সমাধান

Update Time : ০৭:৪২:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

পেটের মেদ কমানোর উপায় নিয়ে চিন্তিত অনেকেই, বিশেষ করে ঈদ বা উৎসবের পর। কোরবানির ঈদে গরু ও খাসির মাংসের বিভিন্ন পদ খেতে খেতে অনেক সময় প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ক্যালোরি শরীরে জমা হয়। এর ফলে ওজন বৃদ্ধি, পেটের চারপাশে চর্বি জমা এবং ভুঁড়ি বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকদিন বেশি মাংস খাওয়ার কারণে ওজন কিছুটা বেড়ে গেলেও সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত শরীরচর্চার মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। এজন্য প্রথমেই মাংসের পরিমাণ কমিয়ে খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ডাল, ফলমূল ও সালাদের পরিমাণ বাড়াতে হবে। এসব খাবারে ক্যালোরি কম থাকলেও পুষ্টিগুণ বেশি এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে।

আরও পড়ুন  হামে আক্রান্ত শিশু মৃত্যু: তিন হাসপাতাল ঘুরেও বাঁচল না ৫ মাস বয়সী তাকরিম

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুতগতিতে হাঁটা ওজন কমানোর সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকর উপায়গুলোর একটি। প্রতিদিন অন্তত ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট হাঁটলে অতিরিক্ত ক্যালোরি খরচ হয় এবং ধীরে ধীরে শরীরের জমে থাকা চর্বি কমতে শুরু করে। নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস হৃদ্‌স্বাস্থ্য ভালো রাখার পাশাপাশি শরীরকে আরও কর্মক্ষম করে তোলে।

পেটের মেদ
দ্রুতগতিতে হাঁটা ওজন কমানোর সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকর উপায়গুলোর একটি।

পর্যাপ্ত পানি পানও ওজন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পানি হজমে সহায়তা করে, শরীরের বিপাকক্রিয়া সচল রাখে এবং অযথা ক্ষুধা লাগার প্রবণতা কমায়। প্রতিদিন অন্তত ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করলে শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ঠিক থাকে এবং অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা হ্রাস পায়।

আরও পড়ুন  বাড়ি বদলের সময় গাছ বাঁচানোর ৭ সহজ কৌশল

অন্যদিকে, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবও ওজন বৃদ্ধির একটি কারণ হতে পারে। ঘুম কম হলে শরীরের ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়, ফলে বেশি খাবার খাওয়ার ইচ্ছা তৈরি হয়। তাই প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

পেটের মেদ কমানোর উপায় হিসেবে নিয়মিত ব্যায়ামের বিকল্প নেই। প্ল্যাঙ্ক, ক্রাঞ্চ, সাইক্লিং, জগিং এবং বিভিন্ন ধরনের কার্ডিও ব্যায়াম শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমাতে সহায়ক। তবে শুধু পেটের ব্যায়াম নয়, পুরো শরীরের জন্য উপযোগী ব্যায়াম করাও জরুরি।

এ ছাড়া সফট ড্রিংকস, মিষ্টি ও অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা উচিত। এসব খাবারে উচ্চমাত্রার চিনি ও ক্যালোরি থাকায় খুব দ্রুত ওজন বাড়তে পারে। বিশেষ করে ভারি খাবারের পর কোমল পানীয় পান করলে শরীরে অতিরিক্ত ক্যালোরি জমার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

আরও পড়ুন  শরীরের লোম হঠাৎ দাঁড়িয়ে যায় কেন? জানুন বৈজ্ঞানিক কারণ
পেটের মেদ
ড্রিংকস, মিষ্টি ও অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা

রাতের খাবারের ক্ষেত্রেও সচেতন থাকা জরুরি। রাতে অতিরিক্ত মাংস বা ভারি খাবার খেলে তা সহজে হজম হয় না এবং অতিরিক্ত ক্যালোরি শরীরে জমতে থাকে। তাই রাতের খাবারে সবজি, সালাদ, ডিম, মাছ, ডাল কিংবা ওটসের মতো আঁশ ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা।

উৎসবের আনন্দ উপভোগের পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত শরীরচর্চা বজায় রাখতে পারলে ভুঁড়ি বা পেটের মেদ নিয়ে দুশ্চিন্তার প্রয়োজন নেই। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই হতে পারে অতিরিক্ত মেদ কমানোর সবচেয়ে কার্যকর সমাধান।