ঢাকা ০২:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঘুমিয়েই জেতা যাবে লাখ টাকার পুরস্কার

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০১:৩১:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫১১

টোকিওতে আয়োজিত হচ্ছে ব্যতিক্রমী ঘুমের প্রতিযোগিতা। | ছবি: সংগৃহীত

ঘুমের প্রতিযোগিতা—শুনলেই হয়তো মনে হবে, এ আবার কেমন প্রতিযোগিতা! দৌড়াতে হবে না, সাঁতার কাটতে হবে না, এমনকি কঠিন কোনো শারীরিক কসরতও করতে হবে না। বরং আরাম করে ঘুমিয়েই জিতে নেওয়া যাবে বড় অঙ্কের পুরস্কার। এমনই ব্যতিক্রমী আয়োজন হতে যাচ্ছে জাপানের টোকিওতে। ‘ম্যাট রেস বাই কোয়ালা’ নামের এই আয়োজনে প্রতিযোগীদের মূল কাজ হবে ৯০ মিনিট ঘুমানো। তবে শুধু চোখ বন্ধ করে বিছানায় পড়ে থাকলেই হবে না। কে কতটা ভালো ঘুমাতে পারছেন, সেটিই হবে আসল পরীক্ষা। অর্থাৎ ঘুমের প্রতিযোগিতা হলেও এখানে ঘুমের পরিমাণের চেয়ে গুণগত মানকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।

এই ঘুমের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৫ অক্টোবর টোকিওর মিনামি-আওয়ামির SHARE GREEN MINAMI AOYAMA-তে। আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দিনে তিনটি রেস অনুষ্ঠিত হবে এবং প্রতিটি রেসে প্রায় ২০ জন করে অংশ নিতে পারবেন। প্রতিযোগীরা কোয়ালা ম্যাট্রেসের ওপর ৯০ মিনিট ঘুমাবেন। ঘুমের সময় তাঁদের শরীরে বিশেষ পর্যবেক্ষণকারী ডিভাইস ব্যবহার করা হবে। এসব তথ্য থেকে ঘুমিয়ে পড়তে কত সময় লেগেছে, ঘুম কতটা গভীর ছিল এবং পুরো সময় ঘুম কতটা স্থির ছিল—এসব বিষয় বিশ্লেষণ করে তৈরি হবে একটি বিশেষ ‘স্লিপ স্কোর’। সবচেয়ে বেশি স্কোর পাওয়া প্রতিযোগীই পাবেন মূল পুরস্কার।

শুনতে যতটা সহজ, বাস্তবে এই ঘুমের প্রতিযোগিতা ততটা সহজ নাও হতে পারে। কারণ প্রতিযোগীদের শুধু আরাম করে শুয়ে থাকলেই চলবে না, বিভিন্ন পরিস্থিতিতেও ভালো ঘুম ধরে রাখতে হবে। প্রতিযোগিতা শুরুর আগে থাকবে ‘ইনসমনিয়া’ নয়, বরং ঘুমের প্রস্তুতির জন্য বিশেষ ‘ইন-সুইমিং এক্সারসাইজ’-এর মতো ‘নিউমিন টায়িসো’ বা ‘ঘুমের প্রস্তুতি ব্যায়াম’। এরপর প্রতিযোগীদের মধ্যে এলোমেলোভাবে কিছু ‘স্লিপ আইটেম’ দেওয়া হবে। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, ঘুমের মাঝেও হঠাৎ আসতে পারে বিঘ্ন। অর্থাৎ কেউ গভীর ঘুমে থাকলেও পরিকল্পিতভাবে তৈরি হতে পারে ‘স্লিপ ডিস্টার্বেন্স’। এর মধ্যেও কে নিজের ঘুম ধরে রাখতে পারেন, সেটিও বিবেচনায় আসবে।

এই ঘুমের প্রতিযোগিতার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ অবশ্যই পুরস্কার। সর্বোচ্চ স্লিপ স্কোর পাওয়া বিজয়ীকে দেওয়া হবে ২২২ লাখ ইয়েনের সমপরিমাণ নয়, বরং ২২২万円—অর্থাৎ ২.২২ মিলিয়ন জাপানি ইয়েন। বাংলাদেশি টাকায় এর মূল্য বিনিময় হারের ওপর নির্ভর করে কয়েক দশক লাখ টাকার কাছাকাছি হতে পারে। পাশাপাশি গভীর ঘুমের জন্য ‘জুকুসুই ডাইভ অ্যাওয়ার্ড’ এবং ব্যতিক্রমী ঘুমের ভঙ্গির জন্য ‘রোলওভার অ্যাক্রোব্যাট অ্যাওয়ার্ড’-এর মতো বিশেষ পুরস্কারও রাখা হয়েছে। ফলে এখানে শুধু দ্রুত ঘুমিয়ে পড়াই নয়, কে কীভাবে ঘুমাচ্ছেন, সেটিও হয়ে উঠবে আলোচনার বিষয়।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ঘুমের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য কোনো ফি নেই। ২০ বছর বা তার বেশি বয়সী ব্যক্তিরা এতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। আবেদনকারীর সংখ্যা নির্ধারিত আসনের চেয়ে বেশি হলে লটারির মাধ্যমে প্রতিযোগী বাছাইয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে প্রতিযোগিতায় সুবিধা পাওয়ার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে সারারাত জেগে থাকা বা অতিরিক্ত ঘুমের ঘাটতি তৈরি করে অংশ নেওয়া নিষিদ্ধ। একইভাবে ঘুম আনার জন্য ঘুমের ওষুধ বা ঘুম বাড়ায় এমন ওষুধ ব্যবহার করেও অংশ নেওয়া যাবে না। এসব শর্ত দেখায়, আয়োজনটি মজার হলেও ঘুমের বিষয়টিকে বেশ গুরুত্ব দিয়েই সাজানো হয়েছে।

সব মিলিয়ে এই ঘুমের প্রতিযোগিতা শুধু অদ্ভুত এক বিনোদনের আয়োজন নয়, ঘুমের মান নিয়েও মানুষের আগ্রহ তৈরি করার একটি অভিনব উদ্যোগ। ব্যস্ত জীবন, দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহার, অনিয়মিত রুটিন ও মানসিক চাপের কারণে অনেকের ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ বদলে যেতে পারে। তাই শুধু কত ঘণ্টা ঘুমানো হচ্ছে, তার পাশাপাশি ঘুমটি কতটা স্বস্তিদায়ক ও স্থিতিশীল—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। টোকিওর এই আয়োজন সেই বিষয়টিকেই ভিন্নভাবে সামনে আনছে। সাধারণত মানুষ ঘুম থেকে উঠে দিনের কাজ শুরু করেন; কিন্তু এখানে ঘুমিয়েই শুরু হবে প্রতিযোগিতা। আর সেই প্রতিযোগিতায় সবচেয়ে ভালো ঘুমই এনে দিতে পারে ২২২万円 পুরস্কার।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঘুমিয়েই জেতা যাবে লাখ টাকার পুরস্কার

Update Time : ০১:৩১:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঘুমের প্রতিযোগিতা—শুনলেই হয়তো মনে হবে, এ আবার কেমন প্রতিযোগিতা! দৌড়াতে হবে না, সাঁতার কাটতে হবে না, এমনকি কঠিন কোনো শারীরিক কসরতও করতে হবে না। বরং আরাম করে ঘুমিয়েই জিতে নেওয়া যাবে বড় অঙ্কের পুরস্কার। এমনই ব্যতিক্রমী আয়োজন হতে যাচ্ছে জাপানের টোকিওতে। ‘ম্যাট রেস বাই কোয়ালা’ নামের এই আয়োজনে প্রতিযোগীদের মূল কাজ হবে ৯০ মিনিট ঘুমানো। তবে শুধু চোখ বন্ধ করে বিছানায় পড়ে থাকলেই হবে না। কে কতটা ভালো ঘুমাতে পারছেন, সেটিই হবে আসল পরীক্ষা। অর্থাৎ ঘুমের প্রতিযোগিতা হলেও এখানে ঘুমের পরিমাণের চেয়ে গুণগত মানকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।

এই ঘুমের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৫ অক্টোবর টোকিওর মিনামি-আওয়ামির SHARE GREEN MINAMI AOYAMA-তে। আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দিনে তিনটি রেস অনুষ্ঠিত হবে এবং প্রতিটি রেসে প্রায় ২০ জন করে অংশ নিতে পারবেন। প্রতিযোগীরা কোয়ালা ম্যাট্রেসের ওপর ৯০ মিনিট ঘুমাবেন। ঘুমের সময় তাঁদের শরীরে বিশেষ পর্যবেক্ষণকারী ডিভাইস ব্যবহার করা হবে। এসব তথ্য থেকে ঘুমিয়ে পড়তে কত সময় লেগেছে, ঘুম কতটা গভীর ছিল এবং পুরো সময় ঘুম কতটা স্থির ছিল—এসব বিষয় বিশ্লেষণ করে তৈরি হবে একটি বিশেষ ‘স্লিপ স্কোর’। সবচেয়ে বেশি স্কোর পাওয়া প্রতিযোগীই পাবেন মূল পুরস্কার।

আরও পড়ুন  শক্তিশালী ভূমিকম্প জাপানে: ভয়াবহ কম্পনে বিপণিবিতানে আটকা বহু মানুষ

শুনতে যতটা সহজ, বাস্তবে এই ঘুমের প্রতিযোগিতা ততটা সহজ নাও হতে পারে। কারণ প্রতিযোগীদের শুধু আরাম করে শুয়ে থাকলেই চলবে না, বিভিন্ন পরিস্থিতিতেও ভালো ঘুম ধরে রাখতে হবে। প্রতিযোগিতা শুরুর আগে থাকবে ‘ইনসমনিয়া’ নয়, বরং ঘুমের প্রস্তুতির জন্য বিশেষ ‘ইন-সুইমিং এক্সারসাইজ’-এর মতো ‘নিউমিন টায়িসো’ বা ‘ঘুমের প্রস্তুতি ব্যায়াম’। এরপর প্রতিযোগীদের মধ্যে এলোমেলোভাবে কিছু ‘স্লিপ আইটেম’ দেওয়া হবে। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, ঘুমের মাঝেও হঠাৎ আসতে পারে বিঘ্ন। অর্থাৎ কেউ গভীর ঘুমে থাকলেও পরিকল্পিতভাবে তৈরি হতে পারে ‘স্লিপ ডিস্টার্বেন্স’। এর মধ্যেও কে নিজের ঘুম ধরে রাখতে পারেন, সেটিও বিবেচনায় আসবে।

আরও পড়ুন  Gen Z-এর নতুন ডেটিং স্টাইল: কম খরচে বেশি কানেকশন

এই ঘুমের প্রতিযোগিতার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ অবশ্যই পুরস্কার। সর্বোচ্চ স্লিপ স্কোর পাওয়া বিজয়ীকে দেওয়া হবে ২২২ লাখ ইয়েনের সমপরিমাণ নয়, বরং ২২২万円—অর্থাৎ ২.২২ মিলিয়ন জাপানি ইয়েন। বাংলাদেশি টাকায় এর মূল্য বিনিময় হারের ওপর নির্ভর করে কয়েক দশক লাখ টাকার কাছাকাছি হতে পারে। পাশাপাশি গভীর ঘুমের জন্য ‘জুকুসুই ডাইভ অ্যাওয়ার্ড’ এবং ব্যতিক্রমী ঘুমের ভঙ্গির জন্য ‘রোলওভার অ্যাক্রোব্যাট অ্যাওয়ার্ড’-এর মতো বিশেষ পুরস্কারও রাখা হয়েছে। ফলে এখানে শুধু দ্রুত ঘুমিয়ে পড়াই নয়, কে কীভাবে ঘুমাচ্ছেন, সেটিও হয়ে উঠবে আলোচনার বিষয়।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ঘুমের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য কোনো ফি নেই। ২০ বছর বা তার বেশি বয়সী ব্যক্তিরা এতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। আবেদনকারীর সংখ্যা নির্ধারিত আসনের চেয়ে বেশি হলে লটারির মাধ্যমে প্রতিযোগী বাছাইয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে প্রতিযোগিতায় সুবিধা পাওয়ার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে সারারাত জেগে থাকা বা অতিরিক্ত ঘুমের ঘাটতি তৈরি করে অংশ নেওয়া নিষিদ্ধ। একইভাবে ঘুম আনার জন্য ঘুমের ওষুধ বা ঘুম বাড়ায় এমন ওষুধ ব্যবহার করেও অংশ নেওয়া যাবে না। এসব শর্ত দেখায়, আয়োজনটি মজার হলেও ঘুমের বিষয়টিকে বেশ গুরুত্ব দিয়েই সাজানো হয়েছে।

আরও পড়ুন  চুল পড়া কমাতে রোজমেরি অয়েল নাকি অনিয়ন অয়েল

সব মিলিয়ে এই ঘুমের প্রতিযোগিতা শুধু অদ্ভুত এক বিনোদনের আয়োজন নয়, ঘুমের মান নিয়েও মানুষের আগ্রহ তৈরি করার একটি অভিনব উদ্যোগ। ব্যস্ত জীবন, দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহার, অনিয়মিত রুটিন ও মানসিক চাপের কারণে অনেকের ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ বদলে যেতে পারে। তাই শুধু কত ঘণ্টা ঘুমানো হচ্ছে, তার পাশাপাশি ঘুমটি কতটা স্বস্তিদায়ক ও স্থিতিশীল—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। টোকিওর এই আয়োজন সেই বিষয়টিকেই ভিন্নভাবে সামনে আনছে। সাধারণত মানুষ ঘুম থেকে উঠে দিনের কাজ শুরু করেন; কিন্তু এখানে ঘুমিয়েই শুরু হবে প্রতিযোগিতা। আর সেই প্রতিযোগিতায় সবচেয়ে ভালো ঘুমই এনে দিতে পারে ২২২万円 পুরস্কার।