বিপিএল ফিক্সিং নিয়ে তদন্তের ধারাবাহিকতায় এবার আরও দুজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। চট্টগ্রাম রয়্যালসের মালিক আব্দুল কাইয়ুম ও দুর্বার রাজশাহীর ম্যানেজার আমিন খানকে সাময়িকভাবে সব ধরনের ক্রিকেটীয় কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে এটি চূড়ান্ত শাস্তি নয়; তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে ১৪ দিনের মধ্যে জবাব দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বিসিবির দুর্নীতিবিরোধী ইউনিট একাধিক অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নিয়েছে।
চট্টগ্রাম রয়্যালসের মালিকানা নিয়ে শুরু থেকেই জটিলতা ছিল। সর্বশেষ বিপিএল আসরে শুরুতে ট্রায়াঙ্গল সার্ভিসেসের মাধ্যমে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির মালিকানা নিয়েছিলেন আব্দুল কাইয়ুম। তবে ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক দিতে না পারায় টুর্নামেন্ট শুরুর আগের দিন তিনি মালিকানা ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে বিসিবিকে চিঠি দেন। পরে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির পরিচালনার দায়িত্ব নেয় বিসিবি। এবার কাইয়ুমের বিরুদ্ধে দুর্নীতিবিরোধী চারটি ধারা ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে।
বিসিবির অভিযোগের মধ্যে রয়েছে ম্যাচের ফলাফল বা ম্যাচের কোনো অংশ বেআইনিভাবে প্রভাবিত করার সঙ্গে যুক্ত থাকা এবং ফিক্সিংয়ের কোনো পরিকল্পনা বা চুক্তিতে অংশ নেওয়া। পাশাপাশি দুর্নীতির কোনো প্রস্তাব পাওয়ার পর সেটির বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট দুর্নীতিবিরোধী কর্মকর্তাকে না জানানোর অভিযোগও রয়েছে। তদন্তে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না করা এবং ব্যবহৃত মূল মোবাইল ফোন ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য জমা দিতে অস্বীকার করার বিষয়টিও অভিযোগের অংশ।
অন্যদিকে আমিন খানের বিরুদ্ধেও চারটি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি বিপিএলের ১১তম আসরে দুর্বার রাজশাহী এবং ১২তম আসরে চট্টগ্রাম রয়্যালসের ম্যানেজার ও টিম অফিশিয়াল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ম্যাচের ফলাফল প্রভাবিত করা বা ফিক্সিংয়ের পরিকল্পনায় যুক্ত থাকার পাশাপাশি অন্য কোনো খেলোয়াড় বা কর্মকর্তাকে দুর্নীতিতে উৎসাহিত বা সহায়তা করার অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে প্রয়োজনীয় তথ্য, বার্তা বা অন্যান্য উপাদান গোপন, ধ্বংস কিংবা তদন্তে বিলম্ব ঘটানোর অভিযোগও করা হয়েছে।
দুই অভিযুক্তকেই অভিযোগের বিষয়ে নিজেদের বক্তব্য দেওয়ার জন্য ১৪ দিন সময় দিয়েছে বিসিবি। অর্থাৎ বর্তমানে তাঁদের বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সেটিকে অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বিসিবির দুর্নীতিবিরোধী ইউনিট জানিয়েছে, তদন্তের ক্ষেত্রে অভিযোগের প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এর আগে সেপ্টেম্বরের শুরুতেও বিসিবির সাবেক পরিচালক মোখলেছুর রহমানসহ আরও দুজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
বিপিএল ফিক্সিং নিয়ে বিসিবির সাম্প্রতিক তৎপরতায় বোঝা যাচ্ছে, ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের দুর্নীতির অভিযোগগুলো আলাদাভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিসিবির দুর্নীতিবিরোধী ইউনিটের স্বাধীন চেয়ারম্যান অ্যালেক্স মার্শাল জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি মামলা ঘোষণা করা হয়েছে এবং আরও কিছু বিষয় তদন্তাধীন রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, তদন্তাধীন ব্যক্তিদের বিষয়ে প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে মন্তব্য করা হলে তাঁদের ন্যায্য শুনানির অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।



























