ঢাকা ১১:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo লিপস্টিক কেনার আগে এই ৫ উপকরণ দেখুন, বিপদ এড়ান Logo আঙুর খেলে শরীরে কী কী উপকার মিলতে পারে? Logo হাড়ের ঘনত্ব ঠিক রাখতে প্রতিদিনের খাবারে কী রাখবেন? Logo শরীরে ম্যাগনেশিয়াম কমছে বুঝবেন যেসব লক্ষণে Logo মাত্র ৪ উপকরণেই কীভাবে বানাবেন নরম ও মজার ভাপা দই Logo এআই নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সতর্কবার্তা, যা বললেন Logo চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জসীম উদ্দীন আহমেদ এর ব্যক্তিগত সচিব (রাজনৈতিক) হলেন মোহাম্মদ আকতার উদ্দীন Logo চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জসীম উদ্দীন আহমেদ এর প্রেস সচিব হলেন মনজুর মুহাম্মদ Logo মেসি: ব্যালন ডি’অর নিয়ে সিমিওনের চমকপ্রদ পছন্দ Logo অস্ট্রেলিয়া দল: ডোনাল্ডের গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণ

ছাত্রদল বিক্ষোভ মিছিল: নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিবাদ, ক্যাম্পাসে উত্তেজনা

ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করছে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। ছবি: সংগৃহীত।

ছাত্রদল বিক্ষোভ মিছিল ঘিরে মঙ্গলবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক উত্তেজনা দেখা দেয়। নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ব্যানারে মানববন্ধন কর্মসূচি আয়োজনের প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতারা দাবি করেন, শিক্ষাঙ্গনের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করার যেকোনো প্রচেষ্টা শিক্ষার্থীরা প্রতিহত করবে।

ছাত্রদল বিক্ষোভ মিছিল দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রফিক ভবনের সামনে থেকে শুরু হয়। পরে মিছিলটি প্রশাসনিক ভবন, বিজ্ঞান অনুষদ ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিল শেষে ‘একাত্তরের গণহত্যা ভাস্কর্য’ চত্বরে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদি হাসান বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের নামে ক্যাম্পাসে কর্মসূচি পালনের অপচেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি দাবি করেন, সাধারণ শিক্ষার্থীরা এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস ও দখলদারত্বের রাজনীতি ফেরানোর যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিহত করা হবে।

ছাত্রদল বিক্ষোভ মিছিল শেষে বক্তব্য দেন শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামছুল আরেফিনও। তিনি বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর নিষিদ্ধ সংগঠনকে পুনর্বাসনের যেকোনো উদ্যোগ দেশের শিক্ষার্থী সমাজ মেনে নেবে না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সহিংসতা ও অপসংস্কৃতিনির্ভর রাজনীতির কোনো স্থান নেই এবং শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান বজায় রাখতে হবে।

কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন জাফর আহমেদ, সুমন সরদার, মুস্তাফিজুর রহমান, শাহরিয়ার আহমেদ, কে এম মাহমুদ হাসান ও রবিউল আউয়ালসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা। এছাড়া নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হল শাখা ছাত্রদলের নেতারাও কর্মসূচিতে অংশ নেন। সমাবেশে বক্তারা ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এর আগে সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ফটকসংলগ্ন এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কিছু নেতা-কর্মী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন বলে জানা যায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে আলোচনা শুরু হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও অবহিত করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন অবস্থানের পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষাঙ্গনের নিরাপদ ও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সব পক্ষের দায়িত্বশীল আচরণ প্রয়োজন। ক্যাম্পাসে যাতে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

লিপস্টিক কেনার আগে এই ৫ উপকরণ দেখুন, বিপদ এড়ান

ছাত্রদল বিক্ষোভ মিছিল: নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিবাদ, ক্যাম্পাসে উত্তেজনা

Update Time : ১২:৩০:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

ছাত্রদল বিক্ষোভ মিছিল ঘিরে মঙ্গলবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক উত্তেজনা দেখা দেয়। নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ব্যানারে মানববন্ধন কর্মসূচি আয়োজনের প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতারা দাবি করেন, শিক্ষাঙ্গনের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করার যেকোনো প্রচেষ্টা শিক্ষার্থীরা প্রতিহত করবে।

ছাত্রদল বিক্ষোভ মিছিল দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রফিক ভবনের সামনে থেকে শুরু হয়। পরে মিছিলটি প্রশাসনিক ভবন, বিজ্ঞান অনুষদ ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিল শেষে ‘একাত্তরের গণহত্যা ভাস্কর্য’ চত্বরে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

আরও পড়ুন  ফরিদপুরে আটকের ৫ ঘণ্টা পর ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যু

সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদি হাসান বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের নামে ক্যাম্পাসে কর্মসূচি পালনের অপচেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি দাবি করেন, সাধারণ শিক্ষার্থীরা এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস ও দখলদারত্বের রাজনীতি ফেরানোর যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিহত করা হবে।

ছাত্রদল বিক্ষোভ মিছিল শেষে বক্তব্য দেন শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামছুল আরেফিনও। তিনি বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর নিষিদ্ধ সংগঠনকে পুনর্বাসনের যেকোনো উদ্যোগ দেশের শিক্ষার্থী সমাজ মেনে নেবে না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সহিংসতা ও অপসংস্কৃতিনির্ভর রাজনীতির কোনো স্থান নেই এবং শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান বজায় রাখতে হবে।

আরও পড়ুন  ছাত্রদলের মামলায় ইমাম তারেক রেজাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন জাফর আহমেদ, সুমন সরদার, মুস্তাফিজুর রহমান, শাহরিয়ার আহমেদ, কে এম মাহমুদ হাসান ও রবিউল আউয়ালসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা। এছাড়া নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হল শাখা ছাত্রদলের নেতারাও কর্মসূচিতে অংশ নেন। সমাবেশে বক্তারা ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এর আগে সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ফটকসংলগ্ন এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কিছু নেতা-কর্মী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন বলে জানা যায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে আলোচনা শুরু হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও অবহিত করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

আরও পড়ুন  ঢাবিতে হল প্রাধ্যক্ষকে উদ্ধার ঘিরে সংঘর্ষ, আহত ৬

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন অবস্থানের পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষাঙ্গনের নিরাপদ ও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সব পক্ষের দায়িত্বশীল আচরণ প্রয়োজন। ক্যাম্পাসে যাতে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।