তারেক রেজাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ— এমন অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। রোববার (২৪ মে) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ বিষয়ে দুটি আলাদা পোস্ট দেন তিনি। রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
ঝিনাইদহে ছাত্রদলের দায়ের করা একটি মামলায় এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক গায়েবানা জানাজার ইমাম তারেক রেজাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ বলে দাবি করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তার পোস্ট ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
প্রথম পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লেখেন, ‘ঝিনাইদহে ছাত্রদলের দায়ের করা মামলায় এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক গায়েবানা জানাজার ইমাম তারেক রেজাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।’ পোস্টটি প্রকাশের পর রাজনৈতিক কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
এর কিছুক্ষণ পর আরও একটি পোস্ট করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। সেখানে তিনি সুনানে আবু দাউদের ৫১২১ নম্বর হাদিসের রেফারেন্স টেনে লেখেন, ‘যে ব্যক্তি অন্ধ পতাকার নিচে যুদ্ধ করে, অথবা অন্ধ গোষ্ঠীপ্রীতি (আসাবিয়্যা)-এর দিকে আহ্বান করে বা এর জন্য ক্ষুব্ধ হয়, এবং সেই অবস্থায় নিহত হয়— তার মৃত্যু জাহিলিয়াতের মৃত্যুর মতো।’
তারেক রেজাকে গ্রেপ্তার করার ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই বিষয়টি নিয়ে মতামত প্রকাশ করছেন। কেউ এটিকে রাজনৈতিক চাপ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ বলেও মন্তব্য করেছেন। তবে এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিস্তারিত বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
এনসিপির নেতাকর্মীদের দাবি, তারেক রেজাকে গ্রেপ্তার করার ঘটনা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, দায়ের হওয়া মামলার ভিত্তিতেই পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
তারেক রেজা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ঐতিহাসিক গায়েবানা জানাজার ইমাম হিসেবে আলোচনায় আসেন। এরপর থেকেই তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছিলেন। তার গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সমর্থকদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এমন ঘটনা নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতাদের পোস্ট ও প্রতিক্রিয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও আলোচনা বাড়ছে।




















