এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার শুরু হচ্ছে ঢাকায়। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) শুরু হবে তিন দিনব্যাপী ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার (এটিএফ)। মেলা চলবে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য মেলা খোলা থাকবে। দেশি-বিদেশি পর্যটনপ্রেমীদের পাশাপাশি পর্যটন খাতের ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা।
এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারের উদ্বোধন হবে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায়। বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত মেলার উদ্বোধন করবেন। অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব মিজ ফাহমিদা আখতারসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবারের মেলায় বাংলাদেশসহ ১০টি দেশের ২০০টির বেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। মেলায় থাকবে প্রায় ৩০০টি বুথ।
মেলায় পর্যটন খাতের বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠান নিজেদের পণ্য ও সেবা তুলে ধরবে। হোটেল, রিসোর্ট, ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল এজেন্ট ও এয়ারলাইনসের পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি পর্যটন প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশি দূতাবাসও অংশ নেবে। ফলে একই জায়গায় ভ্রমণ, আবাসন, পরিবহন ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সেবা সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবেন দর্শনার্থীরা। ব্যবসায়িক যোগাযোগ তৈরির ক্ষেত্রেও মেলাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এবারের আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে থাকছে ‘ডেস্টিনেশন বাংলাদেশ শোকেস’, ‘ইন্টারন্যাশনাল ট্যুরিজম শোকেস’ এবং ‘বাংলাদেশ ট্যুরিজম ইনভেস্টমেন্ট শোকেস’। এর পাশাপাশি থাকছে বিটুবি সেশন, সেমিনার, ডেস্টিনেশন প্রেজেন্টেশন, প্যানেল আলোচনা, প্রোডাক্ট প্রমোশন ও নেটওয়ার্কিং। অর্থাৎ শুধু ঘুরতে যাওয়ার তথ্য নয়, পর্যটন ব্যবসা ও বিনিয়োগের সম্ভাবনাও তুলে ধরা হবে মেলায়।
দেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে সামনে আনতেও এবার বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন, নৌ পর্যটন, অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম, কমিউনিটি ট্যুরিজম ও পরিবেশবান্ধব ভ্রমণ নিয়ে থাকবে বিভিন্ন আয়োজন। পাশাপাশি বিদেশি অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ দেশের পর্যটন গন্তব্য ও সেবাগুলো তুলে ধরবেন। বাংলাদেশ, নেপাল ও ফিলিপাইনের সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও প্রতিদিন সন্ধ্যায় মেলার আকর্ষণ বাড়াবে।
শিশু, শিক্ষার্থী, সাধারণ দর্শনার্থী এবং পর্যটন খাতের ব্যবসায়ীদের কথা মাথায় রেখে বিভিন্ন কার্যক্রম রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে নারী উদ্যোক্তা ও কমিউনিটি ট্যুরিজমের অংশগ্রহণও নিশ্চিত করা হয়েছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই মেলার মাধ্যমে দেশের পর্যটন গন্তব্যগুলো আরও বেশি মানুষের কাছে পরিচিত হবে এবং পর্যটন শিল্পে ব্যবসায়িক যোগাযোগ ও নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে।



























