মাটির ফিল্টারে পানি ঠান্ডা রাখার প্রচলন আবারও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। প্রচণ্ড গরমে ফ্রিজের ওপর নির্ভর না করে অনেকেই এখন প্রাকৃতিক উপায়ে পানি ঠান্ডা রাখার জন্য মাটির তৈরি ফিল্টার ব্যবহার করছেন। বিদ্যুৎ ছাড়াই পানি শীতল রাখার এই পদ্ধতি শুধু সাশ্রয়ী নয়, স্বাস্থ্যকরও বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
একসময় গ্রামবাংলার প্রায় প্রতিটি বাড়িতে মাটির কলস ব্যবহৃত হতো। আধুনিক সময়ে সেই ঐতিহ্যের নতুন রূপ হলো মাটির ফিল্টার। দেখতে সাধারণ ওয়াটার ফিল্টারের মতো হলেও এতে পানি বিশুদ্ধ করার কোনো বিশেষ প্রযুক্তি থাকে না। এর মূল কাজ হলো পানি সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিকভাবে ঠান্ডা রাখা।
মাটির ফিল্টারের গায়ে থাকা ক্ষুদ্র ছিদ্র দিয়ে ধীরে ধীরে পানি বাষ্পীভূত হয়। এই প্রাকৃতিক বাষ্পীভবন প্রক্রিয়ার কারণেই ভেতরের পানি ঠান্ডা হতে শুরু করে। ফলে বিদ্যুৎ বা অতিরিক্ত কোনো যন্ত্র ছাড়াই দীর্ঘ সময় পানি শীতল রাখা সম্ভব হয়।
বর্তমানে বাজারে ৬, ৮ ও ১০ লিটার ধারণক্ষমতার বিভিন্ন ধরনের মাটির ফিল্টার পাওয়া যায়। পরিবারের সদস্যসংখ্যা ও প্রয়োজন অনুযায়ী উপযুক্ত আকারের ফিল্টার বেছে নেওয়া যায়। শুধু কার্যকারিতাই নয়, নকশার দিক থেকেও এসব ফিল্টারে এসেছে বৈচিত্র্য। খাঁজকাটা ডিজাইন, ফুল-পাতার অলংকরণ কিংবা আধুনিক মিনিমাল স্টাইলের ফিল্টারও পাওয়া যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন ব্যবহৃত অনেক প্লাস্টিকের পাত্র স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে যদি সেগুলো ফুড-গ্রেড না হয়। সে তুলনায় মানসম্মত মাটি দিয়ে তৈরি ফিল্টার পানির স্বাভাবিক গুণাগুণ বজায় রাখতে সাহায্য করে। তাই স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের কাছেও এর চাহিদা বাড়ছে।
তবে মাটির ফিল্টারে পানি ঠান্ডা রাখার সুবিধা পেতে হলে সঠিকভাবে এর যত্ন নেওয়া জরুরি। নতুন ফিল্টার ব্যবহারের আগে কয়েকবার পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। প্রথম এক বা দুই দিন পানি ভরে রেখে তা ফেলে দেওয়াই ভালো। নিয়মিত ব্যবহারের সময় সপ্তাহে অন্তত একবার পরিষ্কার করা উচিত। পাশাপাশি মাসে একবার রোদে শুকিয়ে নিলে ফিল্টার দীর্ঘদিন ভালো থাকে।
বিশেষজ্ঞরা আরও পরামর্শ দেন, ফিল্টারে দীর্ঘদিন একই পানি জমিয়ে রাখা ঠিক নয়। অন্তত দুই দিনে একবার পানি পরিবর্তন করলে পানির সতেজতা বজায় থাকে। বর্তমানে আকার ও নকশাভেদে একটি মাটির ফিল্টারের দাম সাধারণত ৯০০ থেকে ২০০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়।গরমের দিনে বিদ্যুৎ ছাড়াই ঠান্ডা পানি পেতে চাইলে মাটির ফিল্টারে পানি ঠান্ডা রাখা হতে পারে একটি পরিবেশবান্ধব, স্বাস্থ্যসম্মত ও সাশ্রয়ী সমাধান।




























