ঢাকা ০৭:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

সৌন্দর্যচর্চায় ইনজেকশন ব্যবহার: ঝুঁকি, সতর্কতা ও করণীয়

  • Mir Yeaz Mahmud
  • Update Time : ০৬:২৯:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
  • ৫২৫

সৌন্দর্যচর্চায় ইনজেকশন ব্যবহারের মাধ্যমে কসমেটিক চিকিৎসা নিচ্ছেন এক নারী। ছবি: সংগৃহীত।

সৌন্দর্যচর্চায় ইনজেকশন ব্যবহার বর্তমানে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় কসমেটিক চিকিৎসাগুলোর অন্যতম। মুখের বলিরেখা কমানো, ত্বককে আরও মসৃণ ও আকর্ষণীয় দেখানো কিংবা বয়সের ছাপ আড়াল করতে অনেকেই বোটক্স ও ডার্মাল ফিলারের মতো ইনজেকশনভিত্তিক চিকিৎসা গ্রহণ করছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব পদ্ধতি যতটা সহজ মনে হয়, বাস্তবে ততটা ঝুঁকিমুক্ত নয়।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বোটক্স ও ফিলারকে ‘মিনিমালি ইনভেসিভ’ বা ক্ষুদ্র অস্ত্রোপচারের সমতুল্য ধরা হয়। ফলে এগুলো প্রয়োগের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ চিকিৎসক, সঠিক রোগনির্ণয় এবং স্বাস্থ্যগত মূল্যায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভুলভাবে প্রয়োগ করা হলে সাময়িক কিংবা স্থায়ী জটিলতা তৈরি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিস, থাইরয়েডজনিত সমস্যা বা অটোইমিউন রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কসমেটিক ইনজেকশনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে। এ ধরনের রোগীদের ইনজেকশনের পর অতিরিক্ত ফোলাভাব, বমি বমি ভাব বা প্রদাহ দেখা দিতে পারে। এছাড়া উদ্বেগ ও বিষণ্নতায় ভোগা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ইনজেকশনস্থলে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা ও কালশিটে দাগ হওয়ার প্রবণতাও বেশি দেখা যায়।

বোটক্স মূলত মুখের নির্দিষ্ট মাংসপেশিকে সাময়িকভাবে শিথিল করে বলিরেখা কমায়। তবে ভুল স্থানে প্রয়োগ করা হলে চোখের পাতা ঝুলে যাওয়া, ভ্রুর অসমতা বা মুখের স্বাভাবিক অভিব্যক্তি পরিবর্তিত হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিরল ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট বা খাবার গিলতে সমস্যাও তৈরি হতে পারে।

অন্যদিকে ডার্মাল ফিলারের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো রক্তনালি বন্ধ হয়ে যাওয়া বা ‘ভাস্কুলার অক্লুশন’। যদি ফিলার কোনো ধমনিতে প্রবেশ করে, তাহলে আক্রান্ত স্থানে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এর ফলে ত্বকের টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি চোখের আশপাশের ধমনি আক্রান্ত হলে স্থায়ী দৃষ্টিশক্তি হারানোর মতো গুরুতর পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।

সৌন্দর্যচর্চায় ইনজেকশন ব্যবহার
সৌন্দর্যচর্চায় ইনজেকশন ব্যবহারের আগে ঝুঁকি ও সতর্কতা সম্পর্কে জানা জরুরি। ছবি: সংগৃহীত।

সৌন্দর্যচর্চায় ইনজেকশন ব্যবহার করার আগে শরীরে কোনো সংক্রমণ আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। সাইনাস ইনফেকশন, দাঁতের সংক্রমণ বা মূত্রনালির সংক্রমণ থাকলে চিকিৎসা সম্পন্ন হওয়ার পর ইনজেকশন নেওয়া উচিত। এছাড়া অ্যাসপিরিন বা রক্ত পাতলা করার ওষুধ সেবন করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

ইনজেকশন নেওয়ার পর ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত মেকআপ ব্যবহার না করা, আক্রান্ত স্থানে হাত না দেওয়া এবং চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলা নিরাপদ ফলাফল নিশ্চিত করতে সাহায্য করে। যদি তীব্র ব্যথা, ত্বকের রঙ পরিবর্তন, হঠাৎ ঝাপসা দেখা বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, কসমেটিক ইনজেকশন নেওয়ার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র অভিজ্ঞ চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ বা প্লাস্টিক সার্জনের পরামর্শ ও তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা গ্রহণ করা। কারণ সঠিক হাতে পরিচালিত চিকিৎসাই সৌন্দর্য ও সুস্থতা দুই-ই নিশ্চিত করতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জুম্মা মোবারক বলা কি জায়েজ? জানুন ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা

সৌন্দর্যচর্চায় ইনজেকশন ব্যবহার: ঝুঁকি, সতর্কতা ও করণীয়

Update Time : ০৬:২৯:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

সৌন্দর্যচর্চায় ইনজেকশন ব্যবহার বর্তমানে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় কসমেটিক চিকিৎসাগুলোর অন্যতম। মুখের বলিরেখা কমানো, ত্বককে আরও মসৃণ ও আকর্ষণীয় দেখানো কিংবা বয়সের ছাপ আড়াল করতে অনেকেই বোটক্স ও ডার্মাল ফিলারের মতো ইনজেকশনভিত্তিক চিকিৎসা গ্রহণ করছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব পদ্ধতি যতটা সহজ মনে হয়, বাস্তবে ততটা ঝুঁকিমুক্ত নয়।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বোটক্স ও ফিলারকে ‘মিনিমালি ইনভেসিভ’ বা ক্ষুদ্র অস্ত্রোপচারের সমতুল্য ধরা হয়। ফলে এগুলো প্রয়োগের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ চিকিৎসক, সঠিক রোগনির্ণয় এবং স্বাস্থ্যগত মূল্যায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভুলভাবে প্রয়োগ করা হলে সাময়িক কিংবা স্থায়ী জটিলতা তৈরি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিস, থাইরয়েডজনিত সমস্যা বা অটোইমিউন রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কসমেটিক ইনজেকশনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে। এ ধরনের রোগীদের ইনজেকশনের পর অতিরিক্ত ফোলাভাব, বমি বমি ভাব বা প্রদাহ দেখা দিতে পারে। এছাড়া উদ্বেগ ও বিষণ্নতায় ভোগা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ইনজেকশনস্থলে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা ও কালশিটে দাগ হওয়ার প্রবণতাও বেশি দেখা যায়।

আরও পড়ুন  জাপানিদের সুন্দর ত্বকের রহস্য তথ্য

বোটক্স মূলত মুখের নির্দিষ্ট মাংসপেশিকে সাময়িকভাবে শিথিল করে বলিরেখা কমায়। তবে ভুল স্থানে প্রয়োগ করা হলে চোখের পাতা ঝুলে যাওয়া, ভ্রুর অসমতা বা মুখের স্বাভাবিক অভিব্যক্তি পরিবর্তিত হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিরল ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট বা খাবার গিলতে সমস্যাও তৈরি হতে পারে।

অন্যদিকে ডার্মাল ফিলারের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো রক্তনালি বন্ধ হয়ে যাওয়া বা ‘ভাস্কুলার অক্লুশন’। যদি ফিলার কোনো ধমনিতে প্রবেশ করে, তাহলে আক্রান্ত স্থানে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এর ফলে ত্বকের টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি চোখের আশপাশের ধমনি আক্রান্ত হলে স্থায়ী দৃষ্টিশক্তি হারানোর মতো গুরুতর পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।

আরও পড়ুন  ক্যানসারে প্রতি বছর মারা যাচ্ছে সোয়া লাখ মানুষ, বাড়ছে ঝুঁকি
সৌন্দর্যচর্চায় ইনজেকশন ব্যবহার
সৌন্দর্যচর্চায় ইনজেকশন ব্যবহারের আগে ঝুঁকি ও সতর্কতা সম্পর্কে জানা জরুরি। ছবি: সংগৃহীত।

সৌন্দর্যচর্চায় ইনজেকশন ব্যবহার করার আগে শরীরে কোনো সংক্রমণ আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। সাইনাস ইনফেকশন, দাঁতের সংক্রমণ বা মূত্রনালির সংক্রমণ থাকলে চিকিৎসা সম্পন্ন হওয়ার পর ইনজেকশন নেওয়া উচিত। এছাড়া অ্যাসপিরিন বা রক্ত পাতলা করার ওষুধ সেবন করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

ইনজেকশন নেওয়ার পর ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত মেকআপ ব্যবহার না করা, আক্রান্ত স্থানে হাত না দেওয়া এবং চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলা নিরাপদ ফলাফল নিশ্চিত করতে সাহায্য করে। যদি তীব্র ব্যথা, ত্বকের রঙ পরিবর্তন, হঠাৎ ঝাপসা দেখা বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

আরও পড়ুন  ঘামের দুর্গন্ধে নাজেহাল? এই ৫টি ঘরোয়া উপায়েই সারাদিন থাকবেন একদম ফ্রেশ!

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, কসমেটিক ইনজেকশন নেওয়ার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র অভিজ্ঞ চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ বা প্লাস্টিক সার্জনের পরামর্শ ও তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা গ্রহণ করা। কারণ সঠিক হাতে পরিচালিত চিকিৎসাই সৌন্দর্য ও সুস্থতা দুই-ই নিশ্চিত করতে পারে।