ঢাকা ০৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

গরমে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি কতটা? লক্ষণ ও প্রতিরোধের উপায়

হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি, লক্ষণ ও প্রতিরোধের সহজ উপায় সম্পর্কে জেনে নিন।ছবি- সংগ্রহীত

দেশে গরমের তীব্রতা আগের তুলনায় অনেক আগেই বাড়তে শুরু করেছে। আগে যেখানে মে-জুনে তাপপ্রবাহ বেশি অনুভূত হতো, এখন এপ্রিলেই মানুষ ঘাম, মাথা ঘোরা ও দুর্বলতার মতো সমস্যায় ভুগছে। চিকিৎসকদের মতে, এই পরিবর্তন হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি আগেভাগেই বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শরীরের ওপর তাপের প্রভাব এখন দ্রুত পড়ছে। আগে গ্রীষ্মের শেষের দিকে যেসব উপসর্গ দেখা যেত, এখন তা মৌসুমের শুরুতেই দেখা যাচ্ছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, পরিবেশের পরিবর্তনের সঙ্গে শরীরের খাপ খাওয়ানোর ক্ষমতাও প্রভাবিত হচ্ছে।

চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বর্তমানে অনেক রোগী ডিহাইড্রেশন, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা এবং অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে আসছেন। এসব লক্ষণ হিটস্ট্রোকের প্রাথমিক সংকেত হতে পারে।

 তাপমাত্রা নয়, অনুভূত গরমই বড় ঝুঁকি

শুধু তাপমাত্রা কত ডিগ্রি সেটিই সব নয়—শরীর কীভাবে গরম অনুভব করছে, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর্দ্রতা বেশি থাকলে ঘাম ঠিকমতো শুকাতে পারে না, ফলে শরীর ঠান্ডা হতে ব্যর্থ হয়। আবার বাতাস চলাচল কম থাকলে গরম আরও বেশি অনুভূত হয়, যা শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।

 হিটস্ট্রোকের লক্ষণ

হিটস্ট্রোকের আগে সাধারণত কিছু সতর্ক সংকেত দেখা যায়, যেমন—

  • অতিরিক্ত ক্লান্তি
  • মাথা ব্যথা বা মাথা ঘোরা
  • বমি ভাব
  • দাঁড়ালে ভারসাম্য হারানো
  • তৃষ্ণা বৃদ্ধি

এই লক্ষণগুলো অনেক সময় অবহেলা করা হয়, কিন্তু এগুলো দীর্ঘস্থায়ী হলে গুরুতর সমস্যায় রূপ নিতে পারে।

 কীভাবে ঝুঁকি কমাবেন

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চললে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব—

  • নিয়মিত পর্যাপ্ত পানি পান করা
  • ওআরএস বা লবণ-চিনি মিশ্রিত পানি গ্রহণ
  • ঢিলেঢালা ও হালকা কাপড় পরা
  • দিনের সবচেয়ে গরম সময় এড়িয়ে চলা
  • ঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখা

 কখন সতর্ক হবেন

যদি কারও ঘাম বন্ধ হয়ে যায়, শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায় বা বিভ্রান্তি দেখা দেয়, তাহলে তা জরুরি অবস্থা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। এ অবস্থায় দ্রুত ঠান্ডা জায়গায় নিয়ে যাওয়া এবং চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গরম এখন আগেভাগেই তীব্র হচ্ছে। তাই সচেতনতা ও সতর্কতাই হতে পারে হিটস্ট্রোক থেকে বাঁচার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

নেইল পলিশ ছেড়ে জেল পলিশ কেন জনপ্রিয় হচ্ছে?

গরমে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি কতটা? লক্ষণ ও প্রতিরোধের উপায়

Update Time : ১১:০৯:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

দেশে গরমের তীব্রতা আগের তুলনায় অনেক আগেই বাড়তে শুরু করেছে। আগে যেখানে মে-জুনে তাপপ্রবাহ বেশি অনুভূত হতো, এখন এপ্রিলেই মানুষ ঘাম, মাথা ঘোরা ও দুর্বলতার মতো সমস্যায় ভুগছে। চিকিৎসকদের মতে, এই পরিবর্তন হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি আগেভাগেই বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শরীরের ওপর তাপের প্রভাব এখন দ্রুত পড়ছে। আগে গ্রীষ্মের শেষের দিকে যেসব উপসর্গ দেখা যেত, এখন তা মৌসুমের শুরুতেই দেখা যাচ্ছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, পরিবেশের পরিবর্তনের সঙ্গে শরীরের খাপ খাওয়ানোর ক্ষমতাও প্রভাবিত হচ্ছে।

আরও পড়ুন  ডায়াবেটিসের নতুন ট্রিপল-অ্যাকশন টিকা, ওজন কমাতেও আশাব্যঞ্জক

চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বর্তমানে অনেক রোগী ডিহাইড্রেশন, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা এবং অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে আসছেন। এসব লক্ষণ হিটস্ট্রোকের প্রাথমিক সংকেত হতে পারে।

 তাপমাত্রা নয়, অনুভূত গরমই বড় ঝুঁকি

শুধু তাপমাত্রা কত ডিগ্রি সেটিই সব নয়—শরীর কীভাবে গরম অনুভব করছে, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর্দ্রতা বেশি থাকলে ঘাম ঠিকমতো শুকাতে পারে না, ফলে শরীর ঠান্ডা হতে ব্যর্থ হয়। আবার বাতাস চলাচল কম থাকলে গরম আরও বেশি অনুভূত হয়, যা শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।

আরও পড়ুন  ছেলে নিয়ে উধাও যুবক, খোঁজ নেন না গর্ভবতী স্ত্রী ও দুই মেয়ের

 হিটস্ট্রোকের লক্ষণ

হিটস্ট্রোকের আগে সাধারণত কিছু সতর্ক সংকেত দেখা যায়, যেমন—

  • অতিরিক্ত ক্লান্তি
  • মাথা ব্যথা বা মাথা ঘোরা
  • বমি ভাব
  • দাঁড়ালে ভারসাম্য হারানো
  • তৃষ্ণা বৃদ্ধি

এই লক্ষণগুলো অনেক সময় অবহেলা করা হয়, কিন্তু এগুলো দীর্ঘস্থায়ী হলে গুরুতর সমস্যায় রূপ নিতে পারে।

 কীভাবে ঝুঁকি কমাবেন

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চললে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব—

  • নিয়মিত পর্যাপ্ত পানি পান করা
  • ওআরএস বা লবণ-চিনি মিশ্রিত পানি গ্রহণ
  • ঢিলেঢালা ও হালকা কাপড় পরা
  • দিনের সবচেয়ে গরম সময় এড়িয়ে চলা
  • ঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখা
আরও পড়ুন  কোন শাক কেন খাবেন? ১২ শাকের অবিশ্বাস্য স্বাস্থ্যগুণ জানুন

 কখন সতর্ক হবেন

যদি কারও ঘাম বন্ধ হয়ে যায়, শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায় বা বিভ্রান্তি দেখা দেয়, তাহলে তা জরুরি অবস্থা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। এ অবস্থায় দ্রুত ঠান্ডা জায়গায় নিয়ে যাওয়া এবং চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গরম এখন আগেভাগেই তীব্র হচ্ছে। তাই সচেতনতা ও সতর্কতাই হতে পারে হিটস্ট্রোক থেকে বাঁচার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।