৭ জেলায় নতুন মেডিকেল কলেজ স্থাপনের পরিকল্পনা করছে সরকার বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সর্দার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি জাতীয় সংসদে জানান, দেশের স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়াতে এবং দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে নতুন এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে মুন্সীগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঠাকুরগাঁও, নাটোর, নরসিংদী, ভোলা, শেরপুর ও লক্ষ্মীপুর জেলায় মেডিকেল কলেজ স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই কার্যক্রম চলছে। সরকারের এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ আরও সহজে উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবে। একই সঙ্গে আধুনিক নার্সিং শিক্ষা সম্প্রসারণ, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং চিকিৎসা খাতের অবকাঠামো উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব জেলায় এখনো সরকারি মেডিকেল কলেজ নেই, সেসব এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে এই উদ্যোগের মাধ্যমে।
বর্তমানে বাংলাদেশে ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজ রয়েছে, যা ৩৪টি জেলায় বিস্তৃত। এর মধ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও রংপুরসহ বিভিন্ন জেলায় সরকারি মেডিকেল কলেজ কার্যক্রম চালু রয়েছে। তবে এখনও দেশের ৩০টি জেলায় সরকারি মেডিকেল কলেজ নেই। নারায়ণগঞ্জ, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর, ফেনী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ঝিনাইদহ, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, পঞ্চগড়সহ অনেক জেলা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত। ফলে এসব অঞ্চলের রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য দূরের জেলা শহরে যেতে হয়, যা সময় ও অর্থ দুই দিক থেকেই কষ্টকর। নতুন মেডিকেল কলেজ স্থাপনের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে চিকিৎসাসেবা আরও বিকেন্দ্রীকরণ হবে এবং জনগণের দোরগোড়ায় উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ স্বাস্থ্য খাতে বৈষম্য কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সংসদে আরেক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। এই লক্ষ্য অর্জনে নতুন হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ স্থাপনের পাশাপাশি বিদ্যমান হাসপাতালগুলোর মানোন্নয়নের দিকেও জোর দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, শুধু শয্যা সংখ্যা বাড়ালেই হবে না; চিকিৎসার মান উন্নত করতে আধুনিক যন্ত্রপাতি, পর্যাপ্ত ডাক্তার, নার্স এবং দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী নিশ্চিত করতে হবে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জনসংখ্যার ঘনত্ব, হাসপাতালের বেড দখলের হার এবং সম্পদের সুষম বণ্টনের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে। এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও আধুনিক করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সরকারের এই দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যখাত উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
স্বাস্থ্যখাতে সরকারের এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের জন্য আশার বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে জেলা পর্যায়ে নতুন মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হলে স্থানীয় শিক্ষার্থীরা নিজ এলাকায় চিকিৎসা শিক্ষার সুযোগ পাবে এবং ভবিষ্যতে সেখানেই দক্ষ চিকিৎসক হিসেবে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে একদিকে যেমন চিকিৎসক সংকট কমবে, অন্যদিকে স্থানীয় পর্যায়ে উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত হবে। স্বাস্থ্যখাতে এই অবকাঠামোগত উন্নয়ন দেশের সার্বিক উন্নয়নের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কারণ উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হলে মানুষের জীবনমান উন্নত হয় এবং জাতীয় উৎপাদনশীলতাও বাড়ে। তাই ৭ জেলায় নতুন মেডিকেল কলেজ স্থাপনের এই পরিকল্পনাকে দেশের স্বাস্থ্যখাতের জন্য একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দ্রুত বাস্তবায়ন হলে এটি স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে এবং দেশের জনগণ সরাসরি এর সুফল ভোগ করবে।

























