গর্ভাবস্থায় মুখ বেঁকে যাওয়া অনেক অন্তঃসত্ত্বা নারীর জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। হঠাৎ করে মুখের একপাশ বেঁকে যাওয়া বা অবশ হয়ে পড়লে অনেকেই এটিকে স্ট্রোকের লক্ষণ মনে করেন। তবে চিকিৎসকদের মতে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি বেলস পালসি নামক একটি সাময়িক স্নায়বিক সমস্যা।
গবেষণায় দেখা গেছে, সাধারণ মানুষের তুলনায় গর্ভবতী নারীদের মধ্যে বেলস পালসিতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি প্রায় তিন গুণ বেশি। বিশেষ করে গর্ভাবস্থার শেষ তিন মাস বা সন্তান জন্মদানের পরপরই এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গর্ভাবস্থায় শরীরে হরমোনের পরিবর্তন, অতিরিক্ত পানি জমে যাওয়া এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতার পরিবর্তনের কারণে মুখের স্নায়ু চাপে পড়ে। এর ফলে মুখের এক পাশের পেশিগুলো স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারে না এবং মুখ বেঁকে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়।
গর্ভাবস্থায় মুখ বেঁকে যাওয়া সমস্যার প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে মুখের একপাশ ঝুলে পড়া, হাসতে বা কথা বলতে গেলে মুখ একদিকে সরে যাওয়া, আক্রান্ত পাশের চোখ পুরোপুরি বন্ধ করতে না পারা এবং কপাল কুঁচকাতে অসুবিধা হওয়া। এছাড়া অনেকের ক্ষেত্রে স্বাদ অনুভূতি কমে যাওয়া, কান দিয়ে অস্বাভাবিক জোরে শব্দ শোনা এবং মুখ থেকে লালা ঝরার মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, এমন লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিউরোলজি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা গেলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। আক্রান্ত চোখ সুরক্ষার জন্য দিনের বেলায় আই ড্রপ এবং রাতে আইপ্যাচ ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
এ ছাড়া ফিজিওথেরাপি এবং মুখের বিশেষ ব্যায়াম স্নায়ুর কার্যকারিতা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিয়মিত চিকিৎসা ও পরিচর্যার মাধ্যমে অধিকাংশ রোগী কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাসের মধ্যেই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেলস পালসি সাধারণত স্থায়ী কোনো রোগ নয় এবং এর কারণে গর্ভের শিশুর ক্ষতির আশঙ্কাও থাকে না। তাই গর্ভাবস্থায় মুখ বেঁকে যাওয়া সমস্যা দেখা দিলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।



























