বিজিবি ট্রাক দুর্ঘটনা রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে এক হৃদয়বিদারক ঘটনার জন্ম দিয়েছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) একটি ট্রাকের ধাক্কায় অন্তঃসত্ত্বা স্কুলশিক্ষিকা সুমন্তি চাকমার মৃত্যু হয়। একই দুর্ঘটনায় তাঁর গর্ভের সন্তানও প্রাণ হারায়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
দুর্ঘটনার দুই দিন পর সোমবার মারিশ্যা জোন কার্যালয়ে বিজিবি, স্থানীয় প্রশাসন এবং নিহত শিক্ষিকার পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে নিহতের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা, শিশুকন্যার শিক্ষার দায়িত্ব এবং পরিবারের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পরিবারের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণের দাবি জানানো হলে বিজিবি প্রথম ধাপে এক লাখ টাকা প্রদান করে। পাশাপাশি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার জন্য আরও চার লাখ টাকা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। নিহত শিক্ষিকার আট বছর বয়সী মেয়ের লেখাপড়ার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়ার পাশাপাশি তাঁর ভাই এইচএসসি পাস করার পর শারীরিকভাবে উপযুক্ত হলে বিজিবিতে চাকরির সুযোগ দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে সাজেক সড়কের ছয়টি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে গতিরোধক নির্মাণের কাজ শুরু করেছে বিজিবি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও সড়ক নিরাপত্তা আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
গত শনিবার সকালে সন্তান প্রসবের জন্য সুমন্তি চাকমাকে সাজেক থেকে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল। পথে চাম্পাতলী এলাকায় বিজিবির একটি ট্রাক অটোরিকশাকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই তিনি ও তাঁর গর্ভের সন্তানের মৃত্যু হয়। তিনি ডাব আদাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষক ছিলেন এবং স্থানীয়ভাবে অত্যন্ত পরিচিত ও সম্মানিত ছিলেন।
বিজিবি জানিয়েছে, নিহত শিক্ষিকার পরিবারের পাশে তারা ভবিষ্যতেও থাকবে এবং শিশুকন্যার শিক্ষা ও কল্যাণে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। অন্যদিকে উপজেলা প্রশাসনও পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। এই মর্মান্তিক বিজিবি ট্রাক দুর্ঘটনা আবারও পার্বত্য এলাকার সড়ক নিরাপত্তা ও দায়িত্বশীল যান চলাচলের বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে।




























