বিদ্যুতের দর আগের দামেই ফিরল নিম্ন আয়ের আবাসিক গ্রাহকদের জন্য। দাম বৃদ্ধির ঘোষণার মাত্র এক দিনের মাথায় সিদ্ধান্ত সংশোধন করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) জানিয়েছে, লাইফলাইন ও প্রথম ধাপের গ্রাহকদের জন্য আগের বিদ্যুৎ মূল্যই বহাল থাকবে। ফলে নিম্ন আয়ের মানুষদের অতিরিক্ত বিল পরিশোধ করতে হবে না।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিইআরসি জানায়, আবাসিক খাতের ০-৫০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী লাইফলাইন গ্রাহক এবং ০-৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের জন্য পূর্বের বিদ্যুৎ মূল্য পুনর্বহালের আবেদন করে বিতরণ সংস্থাগুলো। আবেদনটি বিবেচনা করে কমিশন নতুন মূল্য কার্যকর না করে আগের মূল্য বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।
এর আগে বুধবার বিইআরসির এক আদেশে লাইফলাইন গ্রাহকদের জন্য প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৪ টাকা ৬৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৫ টাকা ৩২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল। অর্থাৎ প্রতি ইউনিটে ৬৯ পয়সা বৃদ্ধি করা হয়। এতে মাসিক বিদ্যুৎ বিল প্রায় ৩৪ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত বাড়ার আশঙ্কা ছিল।
একইভাবে ০-৭৫ ইউনিট ব্যবহারকারী আবাসিক গ্রাহকদের জন্য প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য ৫ টাকা ২৬ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৬ টাকা ১৮ পয়সা করা হয়েছিল। এতে প্রতি ইউনিটে ৯২ পয়সা বৃদ্ধি পেত এবং মাসিক বিল প্রায় ৬৯ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারত।

তবে নতুন সিদ্ধান্তে এই দুই শ্রেণির গ্রাহকদের জন্য পূর্বের হারই বহাল থাকছে। বিইআরসি জানিয়েছে, এ কারণে বিদ্যুতের গড় বিক্রয়মূল্য ১০ টাকা ৬৩ পয়সা থেকে কমে ১০ টাকা ৪০ পয়সায় নেমে এসেছে। এর ফলে বিতরণ সংস্থাগুলোর সম্ভাব্য ঘাটতি পূরণে সরকারকে ভর্তুকি দিতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মূল্যবৃদ্ধি থেকে নিম্ন আয়ের মানুষদের সুরক্ষা দিতে এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে বিদ্যুতের অতিরিক্ত ব্যয় সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারত। সরকারের এই পদক্ষেপে স্বস্তি ফিরেছে লাখো আবাসিক গ্রাহকের মধ্যে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ভবিষ্যতেও জনস্বার্থ বিবেচনায় বিদ্যুৎ খাতে মূল্য নির্ধারণে এমন ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে।
























