ঢাকা ০৭:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo পুশ ইনে ব্যর্থ হয়ে সীমান্তে বিএসএফের ককটেল বিস্ফোরণ Logo সিলেটে এ পর্যন্ত হাম ও নিউমোনিয়ায় ৬৯ শিশুর মৃত্যু Logo এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বাধা হিসেবে বিবেচিত হবে ইসরায়েল: বিশ্লেষক Logo ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারফেস প্রযুক্তি বদলে দিচ্ছে ভবিষ্যতের বিশ্ব Logo ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ বাতিলের সিদ্ধান্তকে এবিবি স্বাগত জানাল Logo লামিন ইয়ামাল ফিট, বিশ্বকাপে স্পেনের বড় ভরসা Logo রাজনৈতিক ব্যঙ্গে আলোচনায় ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’ সিনেমা Logo ডিএসই লেনদেন: ৬০ মিনিটে ৪৭৪ কোটি টাকা Logo ইসরায়েল শান্তিচুক্তি নিয়ে বেন-গভিরের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান Logo আবাসনখাতে নতুন আরোপিত কর প্রত্যাহরের দাবি রিহ্যাবের

এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বাধা হিসেবে বিবেচিত হবে ইসরায়েল: বিশ্লেষক

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নিয়ে নতুন আলোচনা। ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েল সংকট বর্তমানে আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয়। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা, ইরানকে ঘিরে কূটনৈতিক টানাপোড়েন এবং যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে। এই প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলি সাংবাদিক ও বিশ্লেষক গিডিওন লেভির সাম্প্রতিক মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তার মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাবলির ফলে কৌশলগতভাবে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে ইসরায়েল, যা ভবিষ্যতে দেশটির জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গিডিওন লেভি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে চলমান উত্তেজনা থেকে প্রত্যাশিত সুবিধা অর্জনের বদলে ইসরায়েলই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে। তার মতে, সামরিক ও কূটনৈতিক হিসাব-নিকাশে দেশটি কাঙ্ক্ষিত অবস্থান ধরে রাখতে পারেনি। বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন প্রশ্ন এবং উদ্বেগের মুখোমুখি হয়েছে।

লেভির বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে ইসরায়েলকে ঘিরে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটনের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত হলেও এখন দেশটির প্রতি আগের মতো নিঃশর্ত সমর্থনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে না। বিশেষ করে মার্কিন প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে এমন অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি রয়েছেন, যারা ইসরায়েলের নীতিগত অবস্থান নিয়ে আগের তুলনায় বেশি সমালোচনামূলক মনোভাব পোষণ করছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, রিপাবলিকান পার্টির ভেতরেও ইসরায়েল নিয়ে নানা ধরনের মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি হোয়াইট হাউস ও মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেক ব্যক্তিও মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে নতুন করে মূল্যায়ন করছেন। এসব পরিবর্তন ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরেও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন গিডিওন লেভি। তার মতে, ট্রাম্পের আশপাশে এমন অনেক ব্যক্তি রয়েছেন যারা ইসরায়েলের প্রতি আগের মতো অন্ধ সমর্থন দিতে আগ্রহী নন। তারা অঞ্চলভিত্তিক কৌশলগত স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিনির্ধারণী মহলে ইসরায়েলকে ঘিরে আরও বাস্তববাদী অবস্থান গ্রহণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

লেভি সতর্ক করে বলেন, যদি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের সম্পর্কের অবনতি ঘটে, তাহলে তা দেশটির জন্য বড় ধরনের সংকট ডেকে আনতে পারে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ও রাজনৈতিক অংশীদার। এই সম্পর্ক দুর্বল হলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইসরায়েলের অবস্থানও প্রভাবিত হতে পারে।

তার মতে, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে ইসরায়েলকে একাধিক কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। শুধু নিরাপত্তা ইস্যু নয়, বরং অর্থনৈতিক, সামরিক ও আন্তর্জাতিক সমর্থনের ক্ষেত্রেও চাপ তৈরি হতে পারে। ফলে ভবিষ্যতে দেশটির জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

গিডিওন লেভি আরও দাবি করেন, ওয়াশিংটনের নীতিতে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসছে। একসময় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইসরায়েল ছিল মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য অংশীদার। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কিছু নীতিনির্ধারক ইসরায়েলকে কৌশলগত সুবিধার পাশাপাশি একটি সম্ভাব্য সমস্যার উৎস হিসেবেও বিবেচনা করতে শুরু করেছেন। এই পরিবর্তন ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্কের গতিপথে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। ইরান, ইসরায়েল এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে চলমান উত্তেজনা যদি আরও বৃদ্ধি পায়, তাহলে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। সেই কারণে ওয়াশিংটন এখন আগের তুলনায় আরও সতর্ক কূটনৈতিক অবস্থান গ্রহণের চেষ্টা করছে।

বর্তমান বাস্তবতায় ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সম্পর্ক শুধু আঞ্চলিক রাজনীতির বিষয় নয়, বরং বৈশ্বিক কৌশলগত সমীকরণেরও অংশ হয়ে উঠেছে। মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনো বড় ধরনের পরিবর্তন বিশ্ব অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে এই অঞ্চলের প্রতিটি ঘটনা বিশ্বজুড়ে গভীর আগ্রহের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে গিডিওন লেভির মন্তব্য নতুন করে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে—যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইসরায়েলের অবস্থান কি আগের মতোই শক্তিশালী রয়েছে, নাকি আন্তর্জাতিক বাস্তবতার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে? এই প্রশ্নের উত্তর হয়তো আগামী দিনগুলোর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ঘটনাপ্রবাহেই স্পষ্ট হয়ে উঠবে। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত, বর্তমান ইসরায়েল সংকট শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নয়, বরং বৈশ্বিক রাজনীতির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পুশ ইনে ব্যর্থ হয়ে সীমান্তে বিএসএফের ককটেল বিস্ফোরণ

এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বাধা হিসেবে বিবেচিত হবে ইসরায়েল: বিশ্লেষক

Update Time : ০৫:২৮:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

ইসরায়েল সংকট বর্তমানে আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয়। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা, ইরানকে ঘিরে কূটনৈতিক টানাপোড়েন এবং যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে। এই প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলি সাংবাদিক ও বিশ্লেষক গিডিওন লেভির সাম্প্রতিক মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তার মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাবলির ফলে কৌশলগতভাবে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে ইসরায়েল, যা ভবিষ্যতে দেশটির জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গিডিওন লেভি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে চলমান উত্তেজনা থেকে প্রত্যাশিত সুবিধা অর্জনের বদলে ইসরায়েলই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে। তার মতে, সামরিক ও কূটনৈতিক হিসাব-নিকাশে দেশটি কাঙ্ক্ষিত অবস্থান ধরে রাখতে পারেনি। বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন প্রশ্ন এবং উদ্বেগের মুখোমুখি হয়েছে।

লেভির বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে ইসরায়েলকে ঘিরে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটনের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত হলেও এখন দেশটির প্রতি আগের মতো নিঃশর্ত সমর্থনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে না। বিশেষ করে মার্কিন প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে এমন অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি রয়েছেন, যারা ইসরায়েলের নীতিগত অবস্থান নিয়ে আগের তুলনায় বেশি সমালোচনামূলক মনোভাব পোষণ করছেন।

আরও পড়ুন  শেহরীন আমিন ভূঁইয়া মোনামির পদত্যাগ, ঢাবিতে শুরু নতুন আলোচনা

তিনি উল্লেখ করেন, রিপাবলিকান পার্টির ভেতরেও ইসরায়েল নিয়ে নানা ধরনের মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি হোয়াইট হাউস ও মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেক ব্যক্তিও মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে নতুন করে মূল্যায়ন করছেন। এসব পরিবর্তন ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরেও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন গিডিওন লেভি। তার মতে, ট্রাম্পের আশপাশে এমন অনেক ব্যক্তি রয়েছেন যারা ইসরায়েলের প্রতি আগের মতো অন্ধ সমর্থন দিতে আগ্রহী নন। তারা অঞ্চলভিত্তিক কৌশলগত স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিনির্ধারণী মহলে ইসরায়েলকে ঘিরে আরও বাস্তববাদী অবস্থান গ্রহণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

লেভি সতর্ক করে বলেন, যদি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের সম্পর্কের অবনতি ঘটে, তাহলে তা দেশটির জন্য বড় ধরনের সংকট ডেকে আনতে পারে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ও রাজনৈতিক অংশীদার। এই সম্পর্ক দুর্বল হলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইসরায়েলের অবস্থানও প্রভাবিত হতে পারে।

আরও পড়ুন  বিদ্যুতের দর আগের দামেই ফিরল নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের জন্য, বিল বাড়ছে না

তার মতে, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে ইসরায়েলকে একাধিক কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। শুধু নিরাপত্তা ইস্যু নয়, বরং অর্থনৈতিক, সামরিক ও আন্তর্জাতিক সমর্থনের ক্ষেত্রেও চাপ তৈরি হতে পারে। ফলে ভবিষ্যতে দেশটির জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

গিডিওন লেভি আরও দাবি করেন, ওয়াশিংটনের নীতিতে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসছে। একসময় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইসরায়েল ছিল মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য অংশীদার। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কিছু নীতিনির্ধারক ইসরায়েলকে কৌশলগত সুবিধার পাশাপাশি একটি সম্ভাব্য সমস্যার উৎস হিসেবেও বিবেচনা করতে শুরু করেছেন। এই পরিবর্তন ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্কের গতিপথে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। ইরান, ইসরায়েল এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে চলমান উত্তেজনা যদি আরও বৃদ্ধি পায়, তাহলে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। সেই কারণে ওয়াশিংটন এখন আগের তুলনায় আরও সতর্ক কূটনৈতিক অবস্থান গ্রহণের চেষ্টা করছে।

আরও পড়ুন  তথ্য পাচারের অভিযোগে ইরানে ৫০ জন আটক

বর্তমান বাস্তবতায় ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সম্পর্ক শুধু আঞ্চলিক রাজনীতির বিষয় নয়, বরং বৈশ্বিক কৌশলগত সমীকরণেরও অংশ হয়ে উঠেছে। মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনো বড় ধরনের পরিবর্তন বিশ্ব অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে এই অঞ্চলের প্রতিটি ঘটনা বিশ্বজুড়ে গভীর আগ্রহের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে গিডিওন লেভির মন্তব্য নতুন করে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে—যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইসরায়েলের অবস্থান কি আগের মতোই শক্তিশালী রয়েছে, নাকি আন্তর্জাতিক বাস্তবতার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে? এই প্রশ্নের উত্তর হয়তো আগামী দিনগুলোর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ঘটনাপ্রবাহেই স্পষ্ট হয়ে উঠবে। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত, বর্তমান ইসরায়েল সংকট শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নয়, বরং বৈশ্বিক রাজনীতির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।