অপ্রাহ উইনফ্রে স্কুল বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় টক শো উপস্থাপক ও সমাজসেবী অপ্রাহ উইনফ্রে। দক্ষিণ আফ্রিকায় তার প্রতিষ্ঠিত Oprah Winfrey Leadership Academy for Girls (OWLAG) ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম বন্ধ করবে। তবে এর মাধ্যমে তার শিক্ষা উদ্যোগের সমাপ্তি হচ্ছে না; বরং নতুনভাবে বৃত্তি কর্মসূচির মাধ্যমে আরও বেশি মেধাবী শিক্ষার্থীকে সহায়তা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
অপ্রাহ উইনফ্রের ফাউন্ডেশনের প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ২০২৭ সালের একাডেমিক বছর শেষ হলে স্কুলটির ক্যাম্পাস পূর্বের চুক্তি অনুযায়ী দক্ষিণ আফ্রিকার স্থানীয় শিক্ষা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে। যেসব শিক্ষার্থী তখনও পড়াশোনা শেষ করতে পারবে না, তাদের দেশের অন্যান্য শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পূর্ণ বৃত্তির ব্যবস্থা করা হবে।
২০০২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বর্ণবাদবিরোধী নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার সঙ্গে সাক্ষাতের পর সুবিধাবঞ্চিত মেয়েদের জন্য একটি মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ার সিদ্ধান্ত নেন অপ্রাহ উইনফ্রে। সেই স্বপ্ন থেকেই ২০০৭ সালে প্রায় ৪০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে জোহানেসবার্গের কাছে প্রতিষ্ঠিত হয় এই আবাসিক স্কুল।
গত প্রায় দুই দশকে এক হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী এই প্রতিষ্ঠান থেকে স্নাতক হয়েছে। তাদের অনেকেই বর্তমানে চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, উদ্যোক্তা, শিল্পী এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে উচ্চপদে কর্মরত রয়েছেন।
স্কুল বন্ধের ঘোষণা ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের জল্পনা ছড়িয়ে পড়লেও অপ্রাহ উইনফ্রে লিডারশিপ একাডেমি ফাউন্ডেশন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, অপ্রাহ উইনফ্রে স্কুল বন্ধ হওয়ার পেছনে কোনো ধরনের আর্থিক অনিয়ম বা ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা নেই।
অপ্রাহ উইনফ্রে এক বিবৃতিতে বলেন, “আমার স্বপ্ন শুধু একটি স্কুল নির্মাণ করা ছিল না। আমি চেয়েছিলাম তরুণীদের অসীম সম্ভাবনায় বিনিয়োগ করতে। সেই লক্ষ্য একটি ক্যাম্পাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষা যাদের জীবন বদলে দিতে পারে, তাদের পাশে থাকার অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।”
তিনি আরও জানান, নতুন বৃত্তি কর্মসূচির মাধ্যমে দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলের মেধাবী ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীরা দেশের সেরা স্কুলগুলোতে পড়ার সুযোগ পাবে। এতে আগের তুলনায় আরও বেশি শিক্ষার্থী উপকৃত হবে বলে আশা করছেন তিনি।
স্কুলটি বন্ধ হওয়ার পর ক্যাম্পাসটি কীভাবে ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে গাউতেং প্রদেশের শিক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, তারা এই প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য ও উদ্দেশ্য অক্ষুণ্ন রেখে ভবিষ্যতে জনস্বার্থে ক্যাম্পাসটি ব্যবহার করবে।
প্রতিষ্ঠার পর থেকেই স্কুলটি আলোচনায় ছিল। আধুনিক অবকাঠামো, থিয়েটার, যোগব্যায়াম স্টুডিও ও বিউটি সেলুনের মতো সুবিধা নিয়ে একসময় সমালোচনাও হয়েছিল। এছাড়া উদ্বোধনের কয়েক মাস পর এক সাবেক কর্মীর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। যদিও পরে আদালতে তিনি সব অভিযোগ থেকে মুক্তি পান।
বর্তমানে এই একাডেমিতে ২৮১ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। স্কুল বন্ধ হলেও তাদের শিক্ষাজীবন যাতে ব্যাহত না হয়, সেজন্য বিকল্প প্রতিষ্ঠানে পূর্ণ বৃত্তির ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
অপ্রাহ উইনফ্রে স্কুল বন্ধ হলেও নারী শিক্ষার উন্নয়নে তার দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ থেমে যাচ্ছে না। বরং নতুন বৃত্তি কর্মসূচির মাধ্যমে আরও বিস্তৃত পরিসরে দক্ষিণ আফ্রিকার মেধাবী তরুণীদের শিক্ষা অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন শিক্ষা বিশ্লেষকরা।




























