কে-পপের জনপ্রিয়তা এখন আর শুধু দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ভাষা না বুঝেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তরুণরা কোরিয়ান পপ মিউজিকের গান, নাচ ও মিউজিক ভিডিওতে আকৃষ্ট হচ্ছেন। BTS থেকে শুরু করে BLACKPINK কিংবা PSY-এর ‘Gangnam Style’—বিভিন্ন শিল্পীর মাধ্যমে কে-পপ আন্তর্জাতিক শ্রোতার কাছে পৌঁছেছে। TIME-এর বিশ্লেষণেও উঠে এসেছে, এই সাফল্যের পেছনে শুধু গান নয়, বরং পরিকল্পিত আন্তর্জাতিক বাজার কৌশলও গুরুত্বপূর্ণ।
কে-পপের কে-পপের জনপ্রিয়তা তৈরির ক্ষেত্রে শুরু থেকেই বিদেশি শ্রোতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার বিনোদন প্রতিষ্ঠানগুলো শিল্পীদের দীর্ঘ প্রশিক্ষণের পাশাপাশি গান, নাচ, পোশাক ও মিউজিক ভিডিও তৈরিতে আন্তর্জাতিক মানের পেশাজীবীদের যুক্ত করেছে। বিদেশি গীতিকার ও প্রযোজকদের সঙ্গেও কাজ করা হয়েছে। TIME-এর ২০১২ সালের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক শ্রোতার কথা মাথায় রেখে ইংরেজিভাষী শিল্পী এবং ইউরোপ ও আমেরিকার গীতিকারদেরও কে-পপের কাজে যুক্ত করা হয়েছিল।
এর সঙ্গে বড় ভূমিকা রেখেছে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে কোরিয়ান গান এমন দর্শকের কাছেও পৌঁছে যায়, যাদের কাছে টেলিভিশন বা রেডিওর মাধ্যমে পৌঁছানো কঠিন ছিল। গান দেখার পাশাপাশি ভক্তরা নিজেদের তৈরি ভিডিও, নাচের কভার ও নানা ধরনের ফ্যান কনটেন্টও অনলাইনে ছড়িয়ে দেন। ফলে একটি গান প্রকাশের পর তার প্রচার শুধু শিল্পী বা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, ভক্তরাও হয়ে উঠেছেন প্রচারের অংশ।
অন্যদিকে সি-পপ বা চীনা পপের ক্ষেত্রে বড় অভ্যন্তরীণ বাজার একটি ভিন্ন বাস্তবতা তৈরি করেছে। চীনের বিশাল দেশীয় দর্শক ও বাজারেই একজন শিল্পী বড় বাণিজ্যিক সাফল্য পেতে পারেন। ফলে আন্তর্জাতিক শ্রোতার জন্য আলাদা করে বাজার তৈরি করা বা বিদেশি দর্শকের রুচি অনুযায়ী কনটেন্ট তৈরির প্রয়োজন তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে চীনা পপের কোনো আন্তর্জাতিক শ্রোতা নেই; বরং কে-পপের মতো বিশ্বব্যাপী বিস্তারের ধরন ও পরিসরে পার্থক্য রয়েছে।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যবধানও গুরুত্বপূর্ণ। চীনে ইউটিউব, ইনস্টাগ্রামসহ কিছু আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার সীমিত হওয়ায় চীনা শিল্পীদের কনটেন্ট আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে পৌঁছানোর পথ অনেক সময় আলাদা হয়ে যায়। বিপরীতে দক্ষিণ কোরিয়ার শিল্পীরা আন্তর্জাতিকভাবে ব্যবহৃত প্ল্যাটফর্মগুলোকে দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের কনটেন্ট ছড়ানোর কাজে ব্যবহার করেছেন। TIME-এর বিশ্লেষণে দক্ষিণ কোরিয়ার উচ্চ ইন্টারনেট ব্যবহারের সঙ্গে কে-পপের ডিজিটাল বিস্তারের সম্পর্কও তুলে ধরা হয়েছিল।
আরও একটি বিষয় হলো বিনোদনশিল্পের কাঠামো ও নিয়ন্ত্রণ। চীনের বিনোদন জগতে সরকারি নীতি ও অনলাইন কার্যক্রমের ওপর বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণের প্রভাব রয়েছে বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়। অন্যদিকে কে-পপ শিল্প দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক বাজারকে লক্ষ্য করে শিল্পী তৈরি, প্রশিক্ষণ, কনটেন্ট নির্মাণ এবং অনলাইন প্রচারণাকে একটি সমন্বিত ব্যবসায়িক কাঠামোর মধ্যে এনেছে। ফলে কে-পপের জনপ্রিয়তা শুধু একটি মিউজিক ট্রেন্ড নয়, বরং সংগীত, ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও ফ্যান সংস্কৃতির সমন্বিত বিস্তারের ফল হিসেবেও দেখা যায়।




























