ঢাকা ০৫:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

জুম্মা মোবারক বলা কি জায়েজ? জানুন ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৩:৩৭:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
  • ৫০৩

জুমার দিনের ইবাদত ও দোয়ার প্রতীকী চিত্র।

জুম্মা মোবারক বলা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই আলোচনা দেখা যায়। শুক্রবার এলেই ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন মাধ্যমে একে অপরকে ‘জুম্মা মোবারক’ শুভেচ্ছা জানান অনেকে। কেউ এটিকে ভালোবাসা ও দোয়ার প্রকাশ হিসেবে দেখেন, আবার কেউ মনে করেন শুক্রবারের জন্য এ ধরনের নির্দিষ্ট শুভেচ্ছা ইসলামের প্রাথমিক যুগে প্রচলিত ছিল না। ফলে বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। বিশেষ করে ‘জুম্মা মোবারক’ বলা আদৌ জায়েজ কি না, এটি সুন্নাহ কি না এবং না বললে কোনো সমস্যা হবে কি না, তা জানতে চান অনেকে। বিষয়টি বুঝতে হলে শুক্রবারের মর্যাদা এবং শুভেচ্ছা জানানোর শরয়ি ভিত্তি আলাদাভাবে দেখা প্রয়োজন।

ইসলামে শুক্রবারের বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। হাদিসে জুমার দিনকে মুসলমানদের জন্য ঈদের দিন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইবনে মাজাহর একটি হাদিসে জুমার আগে গোসল করা, সুগন্ধি ব্যবহার এবং মিসওয়াক করার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ শুক্রবার শুধু আরেকটি সাধারণ দিন নয়; বরং ইবাদত, নামাজ ও আল্লাহর স্মরণের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। জুমার নামাজ আদায়, খুতবা শোনা এবং দিনের বিশেষ আমলগুলো পালনের মাধ্যমে মুসলমানরা এই দিনের মর্যাদা রক্ষা করেন।

তবে জুমার দিনের জন্য নির্দিষ্টভাবে ‘জুম্মা মোবারক’ বলে একে অপরকে শুভেচ্ছা জানানোর বিষয়ে কোরআন বা সহিহ হাদিসে সরাসরি কোনো নির্দেশ পাওয়া যায় না। কিছু আলেমের মতে, রাসুলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবায়ে কেরাম শুক্রবারের বিশেষ মর্যাদা জানতেন এবং পালনও করতেন, কিন্তু তাঁরা এটিকে নিয়মিত শুভেচ্ছার রীতি হিসেবে ব্যবহার করেছেন এমন নির্ভরযোগ্য বর্ণনা নেই। এ কারণে ওই মতের আলেমরা শুক্রবারকে কেন্দ্র করে নিয়মিত ‘জুম্মা মোবারক’ শুভেচ্ছা বিনিময়কে সুন্নাহসম্মত আমল মনে করতে নিষেধ করেছেন।

অন্যদিকে, কিছু হানাফি আলেম বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখেছেন। তাঁদের মতে, ‘জুম্মা মোবারক’ অর্থ হলো বরকতময় জুমার দিনের জন্য দোয়া করা। তাই কেউ যদি সাধারণ দোয়া বা শুভকামনা হিসেবে এই কথা বলেন এবং এটিকে ফরজ, ওয়াজিব বা নির্দিষ্ট সুন্নাহ মনে না করেন, তাহলে তা বলা যেতে পারে। তবে এটিকে প্রতি শুক্রবার অবশ্যই পালন করতে হবে, এমন ধারণা তৈরি করা ঠিক নয়। অর্থাৎ একই বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে এবং একজন মুসলমানের উচিত বিষয়টি নিয়ে অযথা বিতর্কে না জড়িয়ে নির্ভরযোগ্য আলেমের ব্যাখ্যা অনুসরণ করা।

এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ‘জুম্মা মোবারক’ বলাকে ইসলামের আবশ্যিক বিধান হিসেবে প্রচার না করা। কেউ বললে তাকে সরাসরি গুনাহগার বা বিদআতকারী বলা যেমন সতর্কতার দাবি রাখে, তেমনি এটিকে নিশ্চিত সুন্নাহ হিসেবেও প্রচার করা উচিত নয়। কারণ ধর্মীয় আমলের ক্ষেত্রে কোনো বিষয়কে সুন্নাহ বা আবশ্যক বলে দাবি করার আগে তার নির্ভরযোগ্য দলিল থাকা প্রয়োজন। ইসলামী অভিবাদনের ক্ষেত্রে ‘আসসালামু আলাইকুম’ একটি সুপ্রতিষ্ঠিত ও সর্বজনীন অভিবাদন। তাই শুক্রবারসহ যেকোনো দিনে সালামের মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানানো মুসলিমদের জন্য উত্তম ও প্রচলিত ইসলামী রীতি।

সব মিলিয়ে, জুম্মা মোবারক বলা নিয়ে একক কোনো ব্যাখ্যা দিয়ে বিষয়টি শেষ করার সুযোগ নেই। একদল আলেম এটিকে শুক্রবারের নির্দিষ্ট শুভেচ্ছা হিসেবে না করার পরামর্শ দিয়েছেন, আবার কিছু হানাফি আলেম এটিকে সাধারণ দোয়া হিসেবে জায়েজ বলেছেন, শর্ত হলো এটিকে সুন্নাহ বা বাধ্যতামূলক রীতি মনে করা যাবে না। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুভেচ্ছা জানানোর আগে বিষয়টি নিয়ে সঠিক জ্ঞান থাকা জরুরি। শুক্রবারের মূল গুরুত্ব হওয়া উচিত জুমার নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, দোয়া, দরুদ ও অন্যান্য নেক আমলের প্রতি মনোযোগ দেওয়া।

জনপ্রিয় সংবাদ

জুম্মা মোবারক বলা কি জায়েজ? জানুন ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা

জুম্মা মোবারক বলা কি জায়েজ? জানুন ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা

Update Time : ০৩:৩৭:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

জুম্মা মোবারক বলা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই আলোচনা দেখা যায়। শুক্রবার এলেই ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন মাধ্যমে একে অপরকে ‘জুম্মা মোবারক’ শুভেচ্ছা জানান অনেকে। কেউ এটিকে ভালোবাসা ও দোয়ার প্রকাশ হিসেবে দেখেন, আবার কেউ মনে করেন শুক্রবারের জন্য এ ধরনের নির্দিষ্ট শুভেচ্ছা ইসলামের প্রাথমিক যুগে প্রচলিত ছিল না। ফলে বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। বিশেষ করে ‘জুম্মা মোবারক’ বলা আদৌ জায়েজ কি না, এটি সুন্নাহ কি না এবং না বললে কোনো সমস্যা হবে কি না, তা জানতে চান অনেকে। বিষয়টি বুঝতে হলে শুক্রবারের মর্যাদা এবং শুভেচ্ছা জানানোর শরয়ি ভিত্তি আলাদাভাবে দেখা প্রয়োজন।

ইসলামে শুক্রবারের বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। হাদিসে জুমার দিনকে মুসলমানদের জন্য ঈদের দিন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইবনে মাজাহর একটি হাদিসে জুমার আগে গোসল করা, সুগন্ধি ব্যবহার এবং মিসওয়াক করার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ শুক্রবার শুধু আরেকটি সাধারণ দিন নয়; বরং ইবাদত, নামাজ ও আল্লাহর স্মরণের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। জুমার নামাজ আদায়, খুতবা শোনা এবং দিনের বিশেষ আমলগুলো পালনের মাধ্যমে মুসলমানরা এই দিনের মর্যাদা রক্ষা করেন।

আরও পড়ুন  নখ কাটার সুন্নত পদ্ধতি: কখন ও কীভাবে নখ কাটবেন?

তবে জুমার দিনের জন্য নির্দিষ্টভাবে ‘জুম্মা মোবারক’ বলে একে অপরকে শুভেচ্ছা জানানোর বিষয়ে কোরআন বা সহিহ হাদিসে সরাসরি কোনো নির্দেশ পাওয়া যায় না। কিছু আলেমের মতে, রাসুলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবায়ে কেরাম শুক্রবারের বিশেষ মর্যাদা জানতেন এবং পালনও করতেন, কিন্তু তাঁরা এটিকে নিয়মিত শুভেচ্ছার রীতি হিসেবে ব্যবহার করেছেন এমন নির্ভরযোগ্য বর্ণনা নেই। এ কারণে ওই মতের আলেমরা শুক্রবারকে কেন্দ্র করে নিয়মিত ‘জুম্মা মোবারক’ শুভেচ্ছা বিনিময়কে সুন্নাহসম্মত আমল মনে করতে নিষেধ করেছেন।

অন্যদিকে, কিছু হানাফি আলেম বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখেছেন। তাঁদের মতে, ‘জুম্মা মোবারক’ অর্থ হলো বরকতময় জুমার দিনের জন্য দোয়া করা। তাই কেউ যদি সাধারণ দোয়া বা শুভকামনা হিসেবে এই কথা বলেন এবং এটিকে ফরজ, ওয়াজিব বা নির্দিষ্ট সুন্নাহ মনে না করেন, তাহলে তা বলা যেতে পারে। তবে এটিকে প্রতি শুক্রবার অবশ্যই পালন করতে হবে, এমন ধারণা তৈরি করা ঠিক নয়। অর্থাৎ একই বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে এবং একজন মুসলমানের উচিত বিষয়টি নিয়ে অযথা বিতর্কে না জড়িয়ে নির্ভরযোগ্য আলেমের ব্যাখ্যা অনুসরণ করা।

আরও পড়ুন  কোরবানির পশু বিক্রি করা যাবে কি? শরীয়ত অনুযায়ী করণীয়

এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ‘জুম্মা মোবারক’ বলাকে ইসলামের আবশ্যিক বিধান হিসেবে প্রচার না করা। কেউ বললে তাকে সরাসরি গুনাহগার বা বিদআতকারী বলা যেমন সতর্কতার দাবি রাখে, তেমনি এটিকে নিশ্চিত সুন্নাহ হিসেবেও প্রচার করা উচিত নয়। কারণ ধর্মীয় আমলের ক্ষেত্রে কোনো বিষয়কে সুন্নাহ বা আবশ্যক বলে দাবি করার আগে তার নির্ভরযোগ্য দলিল থাকা প্রয়োজন। ইসলামী অভিবাদনের ক্ষেত্রে ‘আসসালামু আলাইকুম’ একটি সুপ্রতিষ্ঠিত ও সর্বজনীন অভিবাদন। তাই শুক্রবারসহ যেকোনো দিনে সালামের মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানানো মুসলিমদের জন্য উত্তম ও প্রচলিত ইসলামী রীতি।

আরও পড়ুন  ধর্মকে ব্যবহার করে ভোটের রাজনীতি থেকে সরে আসতে হবে : আইনমন্ত্রী

সব মিলিয়ে, জুম্মা মোবারক বলা নিয়ে একক কোনো ব্যাখ্যা দিয়ে বিষয়টি শেষ করার সুযোগ নেই। একদল আলেম এটিকে শুক্রবারের নির্দিষ্ট শুভেচ্ছা হিসেবে না করার পরামর্শ দিয়েছেন, আবার কিছু হানাফি আলেম এটিকে সাধারণ দোয়া হিসেবে জায়েজ বলেছেন, শর্ত হলো এটিকে সুন্নাহ বা বাধ্যতামূলক রীতি মনে করা যাবে না। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুভেচ্ছা জানানোর আগে বিষয়টি নিয়ে সঠিক জ্ঞান থাকা জরুরি। শুক্রবারের মূল গুরুত্ব হওয়া উচিত জুমার নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, দোয়া, দরুদ ও অন্যান্য নেক আমলের প্রতি মনোযোগ দেওয়া।