ঢাকা ১০:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo লামিন ইয়ামালের বিলাসবহুল ঘড়ি সংগ্রহে নজর কাড়ছে যে টাইমপিসগুলো Logo সালমান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে কেন শুরু হলো নতুন আলোচনা? Logo আইফোন ১৮ প্রো লঞ্চের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ, সেপ্টেম্বরেই আসছে নতুন আইফোন? Logo ২০৩০ ফুটবল বিশ্বকাপ: আয়োজক দেশ, সূচি ও নতুন ফরম্যাটে যা জানা গেছে Logo কম আলোতে গাছ: কম যত্নেই সতেজ থাকবে ৯টি ইনডোর প্ল্যান্ট Logo প্রবাসী আয় উৎস: সৌদি আরব ও যুক্তরাজ্যের অবস্থান Logo বিকাশে লেনদেন: স্মার্ট ডিজিটাল অর্থনীতির নতুন অধ্যায় Logo অনন্যা পান্ডের হোয়াইট ক্যামেলিয়া ব্রাইডাল লুক: ১০০ ক্যারেট হীরায় নজরকাড়া রাজকীয় সাজ Logo রাঙ্গামাটিতে বন্যায় কৃষি-মৎস্যে ৬০ কোটি টাকার ক্ষতি Logo ৬৪ দলের বিশ্বকাপ, কতটা সম্ভব ফিফার নতুন পরিকল্পনা

ছবি তুলতে মসজিদে যাওয়া প্রসঙ্গে ইসলাম কী বলে

মসজিদে ছবি তুললেও ইবাদতের পরিবেশ ও মসজিদের মর্যাদা রক্ষা করা জরুরি।ছবি: সংগৃহীত

ইসলামে মসজিদের মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর ইবাদত, জামাতে সালাত আদায়, কোরআন শিক্ষা, দ্বীনি জ্ঞান অর্জন এবং মুসলিম সমাজের ঐক্য সুদৃঢ় করা। তাই মসজিদে প্রবেশের সময় একজন মুসলমানের নিয়ত হওয়া উচিত ইবাদত ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন; শুধুমাত্র বিনোদন বা প্রদর্শনের জন্য নয়।

বর্তমান সময়ে অনেকেই ঐতিহাসিক বা দৃষ্টিনন্দন মসজিদে গিয়ে ছবি তোলেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। ইসলামি শরিয়তে শুধুমাত্র স্মৃতিচারণ বা বৈধ উদ্দেশ্যে ছবি তোলাকে সব আলেম একইভাবে নিষিদ্ধ বলেন না। তবে এ বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে।

প্রথমত, ছবি তোলার কারণে যেন নামাজরত মুসল্লিদের কোনো ধরনের অসুবিধা বা মনোযোগে ব্যাঘাত না ঘটে। দ্বিতীয়ত, মসজিদের পবিত্রতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। তৃতীয়ত, এমন ভঙ্গিতে ছবি তোলা যাবে না, যা অহংকার, আত্মপ্রচার বা লোক দেখানোর (রিয়া) কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

অনেক ইসলামি স্কলার বলেন, যদি কেউ আল্লাহর ঘরের সৌন্দর্য তুলে ধরা, ইসলামি স্থাপত্য পরিচিত করা বা শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে ছবি তোলেন এবং তাতে শরিয়তবিরোধী কোনো বিষয় না থাকে, তাহলে তা গ্রহণযোগ্য হতে পারে। তবে উদ্দেশ্য যদি কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জন বা প্রশংসা পাওয়া হয়, তাহলে একজন মুসলিমের উচিত নিজের নিয়ত পর্যালোচনা করা।

বিশেষ করে সালাত চলাকালে, খুতবার সময় বা কোরআন তিলাওয়াতের মুহূর্তে ছবি বা ভিডিও ধারণ থেকে বিরত থাকা উচিত। কারণ এতে অন্য মুসল্লিদের ইবাদতে বিঘ্ন ঘটতে পারে, যা ইসলামে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

এ ছাড়া অনেক মসজিদ কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বা ধর্মীয় পরিবেশ রক্ষার জন্য ছবি তোলা বা ভিডিও ধারণে বিধিনিষেধ আরোপ করে। সে ক্ষেত্রে মুসল্লিদের জন্য ওই নিয়ম মেনে চলা শরিয়তের দৃষ্টিতেও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ইসলাম বৈধ কর্তৃপক্ষের যৌক্তিক নির্দেশনা মেনে চলতে উৎসাহিত করে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) মসজিদের আদব রক্ষা করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি মসজিদকে কোলাহল, বেচাকেনা, উচ্চস্বরে কথা বলা এবং ইবাদতের পরিবেশ নষ্ট হয়—এমন সব কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তাই ছবি তুলতে গিয়ে যেন মসজিদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন না হয়, সেদিকে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

সর্বোপরি, মসজিদে যাওয়ার প্রধান উদ্দেশ্য হওয়া উচিত ইবাদত, আত্মশুদ্ধি এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভ। ছবি তোলা যদি কখনো প্রয়োজন হয়, তবে তা যেন সীমিত, শালীন, বিনয়পূর্ণ এবং অন্যের ইবাদতে বিঘ্ন সৃষ্টি না করে। একজন মুমিনের জন্য মসজিদের পবিত্রতা, নিজের নিয়তের বিশুদ্ধতা এবং ইসলামের আদব-আখলাক রক্ষা করাই সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ।

জনপ্রিয় সংবাদ

লামিন ইয়ামালের বিলাসবহুল ঘড়ি সংগ্রহে নজর কাড়ছে যে টাইমপিসগুলো

ছবি তুলতে মসজিদে যাওয়া প্রসঙ্গে ইসলাম কী বলে

Update Time : ১০:০৭:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

ইসলামে মসজিদের মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর ইবাদত, জামাতে সালাত আদায়, কোরআন শিক্ষা, দ্বীনি জ্ঞান অর্জন এবং মুসলিম সমাজের ঐক্য সুদৃঢ় করা। তাই মসজিদে প্রবেশের সময় একজন মুসলমানের নিয়ত হওয়া উচিত ইবাদত ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন; শুধুমাত্র বিনোদন বা প্রদর্শনের জন্য নয়।

বর্তমান সময়ে অনেকেই ঐতিহাসিক বা দৃষ্টিনন্দন মসজিদে গিয়ে ছবি তোলেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। ইসলামি শরিয়তে শুধুমাত্র স্মৃতিচারণ বা বৈধ উদ্দেশ্যে ছবি তোলাকে সব আলেম একইভাবে নিষিদ্ধ বলেন না। তবে এ বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে।

প্রথমত, ছবি তোলার কারণে যেন নামাজরত মুসল্লিদের কোনো ধরনের অসুবিধা বা মনোযোগে ব্যাঘাত না ঘটে। দ্বিতীয়ত, মসজিদের পবিত্রতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। তৃতীয়ত, এমন ভঙ্গিতে ছবি তোলা যাবে না, যা অহংকার, আত্মপ্রচার বা লোক দেখানোর (রিয়া) কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

আরও পড়ুন  কুরআন ও হাদিসের আলোকে কুরবানী: নিয়ম, সময়, পশু ও শর্তের পূর্ণ গাইড

অনেক ইসলামি স্কলার বলেন, যদি কেউ আল্লাহর ঘরের সৌন্দর্য তুলে ধরা, ইসলামি স্থাপত্য পরিচিত করা বা শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে ছবি তোলেন এবং তাতে শরিয়তবিরোধী কোনো বিষয় না থাকে, তাহলে তা গ্রহণযোগ্য হতে পারে। তবে উদ্দেশ্য যদি কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জন বা প্রশংসা পাওয়া হয়, তাহলে একজন মুসলিমের উচিত নিজের নিয়ত পর্যালোচনা করা।

আরও পড়ুন  ইসলামে মুমিনদের পারস্পরিক সম্পর্ক

বিশেষ করে সালাত চলাকালে, খুতবার সময় বা কোরআন তিলাওয়াতের মুহূর্তে ছবি বা ভিডিও ধারণ থেকে বিরত থাকা উচিত। কারণ এতে অন্য মুসল্লিদের ইবাদতে বিঘ্ন ঘটতে পারে, যা ইসলামে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

এ ছাড়া অনেক মসজিদ কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বা ধর্মীয় পরিবেশ রক্ষার জন্য ছবি তোলা বা ভিডিও ধারণে বিধিনিষেধ আরোপ করে। সে ক্ষেত্রে মুসল্লিদের জন্য ওই নিয়ম মেনে চলা শরিয়তের দৃষ্টিতেও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ইসলাম বৈধ কর্তৃপক্ষের যৌক্তিক নির্দেশনা মেনে চলতে উৎসাহিত করে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) মসজিদের আদব রক্ষা করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি মসজিদকে কোলাহল, বেচাকেনা, উচ্চস্বরে কথা বলা এবং ইবাদতের পরিবেশ নষ্ট হয়—এমন সব কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তাই ছবি তুলতে গিয়ে যেন মসজিদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন না হয়, সেদিকে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন  কোরবানির পশু বিক্রি করা যাবে কি? শরীয়ত অনুযায়ী করণীয়

সর্বোপরি, মসজিদে যাওয়ার প্রধান উদ্দেশ্য হওয়া উচিত ইবাদত, আত্মশুদ্ধি এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভ। ছবি তোলা যদি কখনো প্রয়োজন হয়, তবে তা যেন সীমিত, শালীন, বিনয়পূর্ণ এবং অন্যের ইবাদতে বিঘ্ন সৃষ্টি না করে। একজন মুমিনের জন্য মসজিদের পবিত্রতা, নিজের নিয়তের বিশুদ্ধতা এবং ইসলামের আদব-আখলাক রক্ষা করাই সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ।