মশা কেন বেশি কামড়ায়, এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা এমন কিছু তথ্য পেয়েছেন, যা অনেকের জন্যই বিস্ময়কর। প্রায়ই দেখা যায়, একসঙ্গে কয়েকজন বসে থাকলেও মশা নির্দিষ্ট একজনকে বেশি কামড়ায়। দীর্ঘদিন ধরে এটি মানুষের কৌতূহলের বিষয় হলেও গবেষকরা বলছেন, এর পেছনে রয়েছে বৈজ্ঞানিক কারণ।
ফ্রান্সের গবেষক ফ্রেডেরিক সিমার্ডের মতে, মশা কিছু মানুষের প্রতি সত্যিই বেশি আকৃষ্ট হয়। তবে অনেকের ধারণার মতো রক্তের গ্রুপ, চোখের রং কিংবা চুলের রঙের সঙ্গে এর সরাসরি কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। বরং মানুষের শরীর থেকে নির্গত গন্ধই এখানে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে।
মানুষের ত্বকে থাকা অণুজীব বা মাইক্রোবায়োটার কারণে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক যৌগ তৈরি হয়। এই যৌগগুলোর মিশ্রণ একেক মানুষের শরীরে একেক রকম হয়। ফলে কিছু মানুষের শরীরের গন্ধ মশার কাছে বেশি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মশা শিকার বেছে নিতে এই গন্ধকে গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে ব্যবহার করে।
এ ছাড়া মানুষের নিঃশ্বাসের সঙ্গে বের হওয়া কার্বন ডাই-অক্সাইডও মশাকে আকৃষ্ট করে। প্রায় ১০ মিটার দূর থেকেই মশা এই সংকেত শনাক্ত করতে পারে। পরে শরীরের তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার ভিত্তিতে তারা আরও নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্বাচন করে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, শুধুমাত্র স্ত্রী মশাই মানুষের রক্ত পান করে।
সাম্প্রতিক এক গবেষণায় ৪২ জন নারীর ওপর পরীক্ষা চালিয়ে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, যাদের শরীরে ‘১-অকটেন-৩-অল’ নামের একটি বিশেষ যৌগ বেশি ছিল, তাদের প্রতি মশার আকর্ষণও বেশি ছিল। মাশরুম অ্যালকোহল নামে পরিচিত এই যৌগ ত্বকের প্রাকৃতিক তেল বা সিবাম ভেঙে তৈরি হয়।
গবেষকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে মশার বিস্তার বাড়ছে। ফলে মশা কেন বেশি কামড়ায়, সে বিষয়ে আরও গভীরভাবে জানা জরুরি হয়ে উঠেছে। কারণ ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে এই তথ্য ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।



























