ঢাকা ০৪:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

সকালের নাস্তায় ৭ ভুল! বাড়তে পারে কোলেস্টেরলের ঝুঁকি

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৪:১৫:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
  • ৫০১

সকালের নাস্তা দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার হিসেবে বিবেচিত হলেও, এই খাবার ঘিরে কিছু ভুল অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে কোলেস্টেরল বাড়িয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। পুষ্টিবিদরা বলছেন, শুধু নাস্তা খাওয়াই যথেষ্ট নয়, বরং কী খাচ্ছেন এবং কীভাবে খাচ্ছেন সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক খাদ্যাভ্যাস দিনের শুরুতে শরীরকে শক্তি জোগানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকতে সাহায্য করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালের নাস্তায় সবচেয়ে বড় ভুলগুলোর একটি হলো পর্যাপ্ত ফাইবার না খাওয়া। অনেকেই ওটস, ফল বা হোল গ্রেইনের পরিবর্তে কম পুষ্টিগুণসম্পন্ন খাবার বেছে নেন। ফলে শরীর পর্যাপ্ত দ্রবণীয় ফাইবার থেকে বঞ্চিত হয়, যা রক্তে প্রবেশের আগেই কোলেস্টেরল অপসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গবেষণায়ও দেখা গেছে, নিয়মিত ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার খেলে স্বাস্থ্যকর কোলেস্টেরলের মাত্রা বজায় রাখতে সুবিধা হয়।

পরিশোধিত শর্করা দিয়ে তৈরি খাবারও সকালের নাস্তার আরেকটি বড় সমস্যা। সাদা পাউরুটি, পেস্ট্রি, ডোনাট, চিনিযুক্ত সিরিয়াল কিংবা বিভিন্ন বেকারি খাবার দ্রুত রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এসব খাবারে ফাইবার কম থাকায় দ্রুত ক্ষুধা ফিরে আসে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। দীর্ঘদিন এই অভ্যাস বজায় থাকলে ওজন বৃদ্ধি, টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের ঝুঁকিও বেড়ে যেতে পারে।

অনেকেই সকালের নাস্তায় সসেজ, বেকন বা অন্যান্য প্রক্রিয়াজাত মাংস খেতে পছন্দ করেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব খাবারে স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও সোডিয়ামের পরিমাণ বেশি থাকে। অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাট এলডিএল বা ক্ষতিকর কোলেস্টেরল বাড়ায়, আর অতিরিক্ত সোডিয়াম উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি তৈরি করে। ফলে নিয়মিত এসব খাবার খাওয়া হৃদযন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

টোস্ট বা অন্যান্য নাস্তায় অতিরিক্ত মাখন কিংবা ঘি ব্যবহারও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে। যদিও পরিমিত পরিমাণে এগুলো খাওয়া যায়, তবে প্রতিদিন বেশি পরিমাণে গ্রহণ করলে শরীরে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের মাত্রা বেড়ে যায়। গবেষকদের মতে, অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাট ধীরে ধীরে রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে পারে।

পুষ্টিকর খাবার হলেও অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া আরেকটি সাধারণ ভুল। অতিরিক্ত ক্যালোরি শরীরে জমে ওজন বাড়ায়, যা উচ্চ কোলেস্টেরল ও হৃদরোগের অন্যতম কারণ। তাই খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা, ধীরে ধীরে খাওয়া এবং পেট ভরে গেলে খাওয়া বন্ধ করা স্বাস্থ্যকর অভ্যাস হিসেবে বিবেচিত হয়। এতে শরীর পর্যাপ্ত শক্তি পায়, আবার অতিরিক্ত ক্যালোরিও গ্রহণ করতে হয় না।

সকালের নাস্তায় অনেকেই পর্যাপ্ত প্রোটিন রাখেন না। শুধুমাত্র টোস্ট, ফল বা সিরিয়াল খেলে শরীর দীর্ঘ সময় তৃপ্ত থাকে না। ফলে কিছুক্ষণের মধ্যেই ক্ষুধা ফিরে আসে এবং অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, সকালের নাস্তায় ডিম, দই, দুধ বা অন্যান্য প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখলে পেশির স্বাস্থ্য ভালো থাকে, শক্তির মাত্রা স্থিতিশীল থাকে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি বজায় থাকে।

সকালের নাস্তার সঙ্গে কী পান করছেন, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। চিনিযুক্ত কফি, প্যাকেটজাত ফলের রস, ফ্লেভারযুক্ত মিল্কশেক বা অন্যান্য মিষ্টি পানীয় শরীরে অতিরিক্ত চিনি ও ক্যালোরি যোগ করে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, এসব পানীয়ের পরিবর্তে পানি, চিনি ছাড়া লেবুর শরবত, দুধ বা সম্পূর্ণ ফল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুললে হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সকালের নাস্তায় ৭ ভুল! বাড়তে পারে কোলেস্টেরলের ঝুঁকি

সকালের নাস্তায় ৭ ভুল! বাড়তে পারে কোলেস্টেরলের ঝুঁকি

Update Time : ০৪:১৫:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

সকালের নাস্তা দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার হিসেবে বিবেচিত হলেও, এই খাবার ঘিরে কিছু ভুল অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে কোলেস্টেরল বাড়িয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। পুষ্টিবিদরা বলছেন, শুধু নাস্তা খাওয়াই যথেষ্ট নয়, বরং কী খাচ্ছেন এবং কীভাবে খাচ্ছেন সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক খাদ্যাভ্যাস দিনের শুরুতে শরীরকে শক্তি জোগানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকতে সাহায্য করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালের নাস্তায় সবচেয়ে বড় ভুলগুলোর একটি হলো পর্যাপ্ত ফাইবার না খাওয়া। অনেকেই ওটস, ফল বা হোল গ্রেইনের পরিবর্তে কম পুষ্টিগুণসম্পন্ন খাবার বেছে নেন। ফলে শরীর পর্যাপ্ত দ্রবণীয় ফাইবার থেকে বঞ্চিত হয়, যা রক্তে প্রবেশের আগেই কোলেস্টেরল অপসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গবেষণায়ও দেখা গেছে, নিয়মিত ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার খেলে স্বাস্থ্যকর কোলেস্টেরলের মাত্রা বজায় রাখতে সুবিধা হয়।

পরিশোধিত শর্করা দিয়ে তৈরি খাবারও সকালের নাস্তার আরেকটি বড় সমস্যা। সাদা পাউরুটি, পেস্ট্রি, ডোনাট, চিনিযুক্ত সিরিয়াল কিংবা বিভিন্ন বেকারি খাবার দ্রুত রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এসব খাবারে ফাইবার কম থাকায় দ্রুত ক্ষুধা ফিরে আসে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। দীর্ঘদিন এই অভ্যাস বজায় থাকলে ওজন বৃদ্ধি, টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের ঝুঁকিও বেড়ে যেতে পারে।

অনেকেই সকালের নাস্তায় সসেজ, বেকন বা অন্যান্য প্রক্রিয়াজাত মাংস খেতে পছন্দ করেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব খাবারে স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও সোডিয়ামের পরিমাণ বেশি থাকে। অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাট এলডিএল বা ক্ষতিকর কোলেস্টেরল বাড়ায়, আর অতিরিক্ত সোডিয়াম উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি তৈরি করে। ফলে নিয়মিত এসব খাবার খাওয়া হৃদযন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

টোস্ট বা অন্যান্য নাস্তায় অতিরিক্ত মাখন কিংবা ঘি ব্যবহারও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে। যদিও পরিমিত পরিমাণে এগুলো খাওয়া যায়, তবে প্রতিদিন বেশি পরিমাণে গ্রহণ করলে শরীরে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের মাত্রা বেড়ে যায়। গবেষকদের মতে, অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাট ধীরে ধীরে রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে পারে।

পুষ্টিকর খাবার হলেও অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া আরেকটি সাধারণ ভুল। অতিরিক্ত ক্যালোরি শরীরে জমে ওজন বাড়ায়, যা উচ্চ কোলেস্টেরল ও হৃদরোগের অন্যতম কারণ। তাই খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা, ধীরে ধীরে খাওয়া এবং পেট ভরে গেলে খাওয়া বন্ধ করা স্বাস্থ্যকর অভ্যাস হিসেবে বিবেচিত হয়। এতে শরীর পর্যাপ্ত শক্তি পায়, আবার অতিরিক্ত ক্যালোরিও গ্রহণ করতে হয় না।

সকালের নাস্তায় অনেকেই পর্যাপ্ত প্রোটিন রাখেন না। শুধুমাত্র টোস্ট, ফল বা সিরিয়াল খেলে শরীর দীর্ঘ সময় তৃপ্ত থাকে না। ফলে কিছুক্ষণের মধ্যেই ক্ষুধা ফিরে আসে এবং অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, সকালের নাস্তায় ডিম, দই, দুধ বা অন্যান্য প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখলে পেশির স্বাস্থ্য ভালো থাকে, শক্তির মাত্রা স্থিতিশীল থাকে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি বজায় থাকে।

সকালের নাস্তার সঙ্গে কী পান করছেন, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। চিনিযুক্ত কফি, প্যাকেটজাত ফলের রস, ফ্লেভারযুক্ত মিল্কশেক বা অন্যান্য মিষ্টি পানীয় শরীরে অতিরিক্ত চিনি ও ক্যালোরি যোগ করে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, এসব পানীয়ের পরিবর্তে পানি, চিনি ছাড়া লেবুর শরবত, দুধ বা সম্পূর্ণ ফল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুললে হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।